শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত
প্রকাশ : ১৮ জুন ২০১৩, ২১:৩০
দেশের সার্বিক উন্নয়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে দেশকে অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতা এমন এক মোক্ষম হাতিয়ার যার মাধ্যমে দেশকে উন্নতির উচ্চ শিখরে পৌঁছানো সম্ভব, আবার এই ক্ষমতাই দেশের উন্নয়নের কাল হয়ে দাঁড়ায়। বার্ট্রান্ড রাসেল বলেছেন, ক্ষমতা মানুষকে নীতিগ্রস্ত করে কিন্তু চরম ক্ষমতা মানুষকে চরমভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত করে। আমরা অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে বলতে পারি যে, যে দলই ক্ষমতায় থাকুক না কেন মেয়াদ শেষে শান্তিপূর্ণ উপায়ে কেউ ক্ষমতা হস্তান্তর করতে চায় না, যা বিশ্বের অন্যান্য গণতান্ত্রিক দেশে বিরল। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তুমুল দ্বন্দ্বে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি হয় যেখান থেকে উন্নয়ন নামক শব্দটি হারিয়ে যায়। একটি গণতান্ত্রিক দেশে সকল ক্ষমতার উত্স জনগণ হলেও প্রত্যক্ষভাবে জনগণের প্রতিনিধি হিসাবে ক্ষমতাকে ব্যবহার করেন রাজনীতিবিদগণ, যারা একটি দেশের কর্ণধার হিসাবে বিবেচ্য। বহির্বিশ্বের দেশগুলোর সাথে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক উন্নয়ন, আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের উন্নয়ন, কূটনৈতিক সুসম্পর্ক বজায়, বৈদেশিক বিনিয়োগে উত্সাহ সৃষ্টি করে থাকেন রাজনৈতিক কর্ণধাররা যার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিকল্প নেই। আর এ স্থিতিশীলতা তখনই বিরাজমান থাকবে, যখন জনস্বার্থ ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে প্রাধান্য পাবে এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে জনপ্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর হবে।
মো. সাফায়েত হোসেন
এম বি এ
ট্যুরিজম এন্ড হসিপটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
---
অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে হলে প্রতিহিংসার রাজনীতি ত্যাগ করতে হবে
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক দেশ। স্বাধীনতা লাভ করা সত্ত্বেও বাংলাদেশের মানুষ অশান্তিতে ভুগছে। যা বাংলাদেশের মানুষের কাম্য ছিল না। এই অশান্তির মূলে রয়েছে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থাত্ প্রতিহিংসার রাজনীতি। প্রতিহিংসার রাজনীতি বলতে বোঝায় ক্ষমতা লাভের জন্য যখন কোন দল সংবিধান মানে না তখন সেটা হয় প্রতিহিংসার রাজনীতি। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলো সমাবেশ করে, অবরোধ করে, হরতাল ডাক দেয়, বিক্ষোভ করে। ফলে জনগণের স্বাভাবিক কাজকর্মে বিঘ্ন ঘটে। দেশের কোটি কোটি টাকার সম্পদ নষ্ট হয়, এমনকি জীবনও দিতে হয় মানুষকে। আর হরতালের কারণে কৃষি উত্পাদন ব্যাহত হয়, ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসায় সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করতে পারে না। ফলে বাংলাদেশের জাতীয় আয় কমে যায়। এবং জীবনযাত্রার মান নিচু হয়ে যায়। আর এ ক্ষতি থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দরকার সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পারস্পরিক সমঝোতা। এই পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে দেশে কোন হরতাল, বিক্ষোভ, সমাবেশ ডাকা হবে না। ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বাংলাদেশ যদি উন্নতি লাভ করতে পারে তাহলে বাঙালি জাতি বিশ্বের মাঝে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে। তাই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে প্রতিহিংসার রাজনীতিকে বাদ দিয়ে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করুন
মো. হাবিবুর রহমান
দ্বাদশ শ্রেণি (ব্যবসায় শিক্ষা)
নগরকান্দা মহাবিদ্যালয় (স্নাতক সম্মান)
হিয়াবলদী, নগরকান্দা, ফরিদপুর-৭৮৪০
--
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাই অর্থনৈতিক উন্নয়ন
ঘটাতে পারে
কেউ স্বীকার করুন আর নাই করুন দেশ আজ সংকটে পতিত। যতই দিন যাচ্ছে সংকট আরো ঘনীভূত হচ্ছে। আজকে খোলা চোখে তাকালে চারদিকে শুধু হতাশার খবর। প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশ কি এরকম সংকটে পড়ার মতো দেশ? আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়া একটা জাতি। লাখ লাখ শহীদের রক্তের কালিতে লেখা এই সংবিধান, রচিত এই পতাকা। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে টিকে থাকার জন্য, অস্তিত্বের সংকটে পড়ার জন্য নয়। আজকে সবচেয়ে বড় সংকট আগামী নির্বাচন নিয়ে। নির্বাচন নিয়ে সংকট সৃষ্টির দরকার কী? ১৬ কোটি বাংলাদেশি যেভাবে নির্বাচন চায়, সেভাবেই নির্বাচন হওয়া উচিত। কথা হচ্ছে, আমরা কি ইউরোপ, আমেরিকার মতো গণতন্ত্র, সমাজ ব্যবস্থা, রাজনীতি বা সংসদ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি? আর পারিনি বলেই শুধু তাদের নির্বাচন ব্যবস্থা অনুকরণ করতে পারব না। বারাক ওবামা হোয়াইট হাউজে ঢোকার আগেই পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের সাথে সাক্ষাত্ করেন, সিনেটর ম্যাককেইন নির্বাচনে পরাজিত হয়ে মিডিয়ার সামনে পরাজয় স্বীকার করেন এবং ওবামাকে অভিনন্দন জানান। আর আমাদের দেশে পরাজিতরা পরাজয় স্বীকার করা তো দূরের কথা, উল্টো জালিয়াতির অভিযোগ আনেন, বিষোদগার করেন। জাতিগতভাবে আমরা একটা বিশেষ জাতি, মঙ্গোলীয়, ককেশীয় এবং নিগ্রোদের রক্ত রয়েছে আমাদের দেহে। তাই আমাদের নির্বাচন ব্যবস্থাও হবে বিশেষ ধরনের। যত যুক্তিই দেখান না কেন, ১৬ কোটি জনতার খোঁড়া যুক্তি নয়, বাস্তবতার নিরিখেই তত্ত্বাবধায়ক চায়। তাছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার পাকিস্তানেও সফলতম একটা নির্বাচন সম্পন্ন করেছে।
মো. আব্দুল মান্নান
শেষ বর্ষ, এমবিবিএস
স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ, মিটফোর্ড, ঢাকা
--
যে দেশে হরতালই মুখ্য ভূমিকা পালন করে সে দেশে কখনো কি অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্ভব
তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে হরতাল, মিছিল আর লংমার্চের নামে দেশ জুড়ে যে নাশকতা চালানো হচ্ছে তাতে কতটা নিরাপদ আমাদের মত সাধারণ জনগণ? তাদের জীবনের নিরাপত্তা কে দেবে? যে দেশে আজ আমাদের প্রশাসনেরই নিরাপত্তা নেই সেই দেশে আমাদের নিরাপত্তার দায়িত্ব কার হাতে? বাংলাদেশের প্রায় পনের শতাংশ লোক দিন আনে দিন খায়। হরতালে থমকে যায় তাদের জনজীবন। প্রতিদিন কাজ করে যে অর্থ উপার্জন করে তা দিয়েই আধপেটা খেয়ে বেঁচে থাকতে হয় তাদের। আর যদি এভাবে দু-তিন দিন কাজ করতে না পারে তাহলে কে দেবে তাদের চাউল কেনার জন্য ওই সামান্য অর্থ? আর বর্তমানে বাংলাদেশে গরীবদের কেউ ধার দিতে চায় না। সুতরাং না খেয়েই কোলের শিশুকে নিয়ে অতিবাহিত করতে হয় তাদের কষ্টমাখা দিন। সেদিন কে শোনে তার বাচ্চার বুকফাটা আর্তনাদ? কিসের জন্য এত হরতাল? বর্তমান সরকার তো রাজশাহী, খুলনা, সিলেট আর বরিশালের সিটি নির্বাচনের মাধ্যমেই প্রমাণ করে দিয়েছেন যে তার আমলেই শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্ভব। যেখানে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বলেছিলেন, ভোটে কারচুপি করা হবে। সুতরাং এসব কথা বলা বন্ধ করে হরতাল-সমাবেশ বাদ দিয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে অগ্রসর হোন।
প্রণয় কুমার রায়
বাণিজ্য বিভাগ
কালুখালী ডিগ্রী কলেজ
কালুখালী, রাজবাড়ি