গাজীপুর সিটি নির্বাচন

আজমত দোয়াত-কলম, মান্নান টেলিভিশন, জাহাঙ্গীর আনারস

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে গতকাল মঙ্গলবার ৬ মেয়র প্রার্থী, ৪৪৬ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ১২৬ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়েছে। নগরীর বঙ্গতাজ অডিটরিয়ামে স্থাপিত রিটার্নিং অফিসারের অস্থায়ী কার্যালয়ে রিটার্নিং অফিসার মতিয়ার রহমান প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করেন। এ সময় শত শত নেতা-কর্মী সমর্থকদের নিয়ে প্রার্থী/তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, মহাজোট সমর্থিত জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও টঙ্গী পৌরসভার সাবেক মেয়র এডভোকেট আজমত উল্লাহ খান পেয়েছেন দোয়াত-কলম, বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম. এ মান্নান পেয়েছেন টেলিভিশন, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলম লটারিতে পেয়েছেন আনারস, মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম দলের জেলা আহবায়ক মেজবাহ উদ্দিন সরকার রুবেল হাঁস, স্বতন্ত্র প্রার্থী আমান উল্লাহ তালা ও রিনা সুলতানা প্রজাপতি প্রতীক পেয়েছেন। এছাড়া ৪৪৬ জন সাধারণ কাউন্সিলর ও ১২৬ জন সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ করা হয়। যে সকল ওয়ার্ডের সাধারণ ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে একই প্রতীক একাধিক প্রার্থী চেয়েছিলেন তাদের মধ্যে লটারি হয়েছে, অন্যরা প্রার্থিত প্রতীক বরাদ্দ পেয়েছেন। পদত্যাগপত্র গ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী গাজীপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়ন বাতিল করার পর হাইকোর্টের নির্দেশে বৈধতা ফিরে পান তিনি। গতকাল প্রতীক বরাদ্দের সময় মহাজোট সমর্থক প্রার্থী এডভোকেট আজমত উল্লাহ খানকে লটারিতে হারিয়ে আনারস প্রতীক জিতে নেন মো. জাহাঙ্গীর আলম। এদিকে প্রতীক বরাদ্দের পর প্রতীক সম্বলিত পোস্টার-লিফলেট, ব্যাচ নিয়ে প্রার্থীদের পক্ষ্যে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। শহরে প্রার্থীদের পক্ষে মাইকিং শুরু হয়েছে। আলোচিত তিন মেয়র প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দের পর মহাজোট সমর্থিত এডভোকেট আজমত উল্লাহ খান (দোয়াত-কলম) গাজীপুর আইনজীবী সমিতি মিলনায়তনে আইনজীবীদের সাথে প্রথম নির্বাচনী মতবিনিময় সভা করেন। আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সভাপতি মো. আ. সাত্তারের সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন গাজীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদ আহসান রাসেল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আ. সোবহান, হারিছ উদ্দিন আহমেদ, আমজাদ হোসেন বাবুল, আ. মান্নান পাঠান, রফিক উদ্দিন আহমেদ, হুমায়ুন কবির প্রমুখ। বিএনপি সমর্থিত অধ্যাপক এম. এ মান্নান (টেলিভিশন) দুপুরের পর পৌর বিএনপি কার্যালয়, ভুরুলিয়া, চাকুলিয়া ও জোরপুকুর এলাকায় গণসংযোগ করেন। এসময় সদর উপজেলা বিএনপি সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সিদ্দিকুর রহমান, এডভোকেট সহিদুজ্জামান, রমজান আলী, খাইরুল ইসলাম, জয়নাল তালুকদার প্রমুখসহ দলীয় নেতা-কর্মীরা তার সাথে ছিলেন। মান্নানের নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়কারী সাবেক এমপি হাসান উদ্দিন সরকার টেলিভিশন প্রতীকের পক্ষে দলীয় নেতা-কর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান। সম্মিলিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম (আনারস) প্রতীকের পক্ষে তার কর্মী সমর্থকদের নিয়ে টঙ্গীসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন। হাইকোর্টের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন নাজিম উদ্দিন আহমেদ গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সচেতন নাগরিক পরিষদ মনোনীত প্রার্থী ডা. নাজিম উদ্দিন আহমেদ গতকাল মঙ্গলবার হাইকোর্টের আদেশে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। এ সংক্রান্ত কাগজপত্র সন্ধ্যায় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে এসে পৌঁছলে তাকে ঘোড়া প্রতীক বরাদ্দ করেন। ফলে আগামী ৬ জুলাই অনুষ্ঠেয় এই নির্বাচনে মেয়র পদে লড়াইয়ে টিকে রইলেন সচেতন নাগরিক পরিষদের এই প্রার্থী। মঙ্গলবার ৬ মেয়র প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দের পরই ডা. নাজিম উদ্দিনের পক্ষে হাইকোর্টের আদেশ আসে। এর ফলে গাজীপুর সিটিতে মেয়র পদে মোট প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৭ জনে। ডা. নাজিম উদ্দিন আহমেদ গত ৫ জুন মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য মনোনয়পত্র দাখিল করেন। যাচাই বাছাইয়ের পর ঋণ খেলাপির কারণে গত ৯ জুন গাজীপুর সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেন।