সহিংসতায় ব্যাহত হতে পারে বাংলাদেশের নির্বাচন

বাংলাদেশে সহিংসতা ও বিক্ষোভের কারণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে প্রভাবশালী ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান। তবে নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে বলে পত্রিকাটিকে নিশ্চিত করেছেন সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা। প্রতিবেদনটি গতকাল মঙ্গলবার গার্ডিয়ানের অনলাইন সংস্করণে প্রকাশ করা হয়েছে। ‘ভায়োলেন্স এন্ড প্রটেস্টস কুড ডিরেইল বাংলাদেশ ইলেকশনস্’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনৈতিক সহিংসতা ও বিক্ষোভের কারণে বাংলাদেশের আগামী সাধারণ নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। এ কারণে দেশটিতে বছরের শেষ দিকে হতে যাওয়া নির্বাচন ব্যাহত হতে পারে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিরোধী দল এরই মধ্যে বিভিন্ন বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়েছে। তাই আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের পরিস্থিতি আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে শাহবাগ আন্দোলনের সংগঠক ইমরান এইচ সরকার বর্তমানে পলাতক আছেন বলে দাবি করা হয়। তিনি শিগগিরই আন্দোলনে নামবেন জানানো হয়েছে। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ছয় বছর আগে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল হয়ে যায়। তখন জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধাপরাধের বিচারের রায় ঘোষণা হওয়ার পর দেশজুড়ে বিক্ষোভে ৭০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। বাংলাদেশে ইসলামি দলগুলোর ভূমিকা, চলমান যুদ্ধাপরাধের বিচার এবং তরুণ ভোটারদের দলীয় রাজনীতির প্রতি উদাসীনতা এই তিনটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে একসূত্রে গাঁথা বলে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ঢাকা থেকে প্রতিবেদনটি লিখেছেন গার্ডিয়ান ও অবজারভারের এশিয়া প্রতিনিধি জ্যাসন বুর্কে। বিশ্বের অষ্টম জনবহুল দেশ বাংলাদেশে আগামী নির্বাচন নিয়ে সহিংসতা হতে পারে বলে অনেকেই উদ্বিগ্ন বলে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভী পত্রিকাটিকে বলেন, নির্বাচনের ব্যাপারে সরকার অঙ্গীকারাবদ্ধ। কিছু বাধা-বিপত্তি থাকলেও সময় এবং সংবিধান অনুযায়ীই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। অন্যদিকে বিএনপির এক নেতা পত্রিকাটির কাছে দাবি করেন, নেতা-কর্মীরা মনে করছেন বিএনপিকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে বাধ্য করে একদলীয় নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতা গ্রহণের উদ্দেশ্য রয়েছে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় হবে জেনেই তারা ক্ষমতায় থাকার জন্য যেকোনো কিছু করতে প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিবেদক জ্যাসন বুর্কে হেফাজতে ইসলামের ৫ মে’র তাণ্ডবের প্রসঙ্গও এনেছেন। তিনি বলছেন, গত মাসে রাজধানী ঢাকায় একটি বড় ধরনের বিক্ষোভ করে হেফাজতে ইসলাম নামের একটি ইসলামী সংগঠন, যার সমাপ্তি ঘটে পুলিশি হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে। দাবি আদায়ে হেফাজত আবারো রাজপথে নামার চিন্তা করছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। গার্ডিয়ানের প্রতিবেদককে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুর রাজ্জাক বলেন, প্রত্যেকেরই রাজপথে আন্দোলন ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার রয়েছে। গত এপ্রিলে একটি পোশাক কারখানা ধসের ফলে প্রায় ১১৩০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এই কারখানা পশ্চিমাদের জন্য পোশাক প্রস্তুত করত। বাংলাদেশে যে বিকাশমান পোশাক বাণিজ্য আছে তা রাজনৈতিক সঙ্কটে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এই পোশাক শিল্প থেকেই রপ্তানির শতকরা ৮০ ভাগ অর্জিত হয়। এ খাতে কাজ করেন ৩৫ লাখের মতো শ্রমিক। আর তাই পরিস্থিতি খারাপ হলে শ্রমিকদের অবস্থার উন্নয়ন করা জটিল হবে।