বরিশালে অপসোনিনের ফ্যাক্টরিতে পুলিশ-শ্রমিক সংঘর্ষ

ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অপসোনিন ফার্মা লিমিটেডের ফ্যাক্টরীতে মঙ্গলবার শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় পাঁচ শ্রমিক গুলিবিদ্ধসহ অর্ধ শতাধিক আহত হয়েছে। নগরীর বগুড়া রোডস্থ ঐ ফ্যাক্টরীতে দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষের সময় পুলিশ ৭ শ্রমিককে গ্রেফতার করে। প্রায় ৪ ঘন্টা ফ্যাক্টরী অবরুদ্ধ করে শ্রমিকরা ব্যাপক হামলা-ভাংচুর চালায়। এসময় পুলিশ রাবার বুলেট ছুঁড়লে শ্রমিক জুয়েল, কামাল, রিয়াজ, কবির ও সাইফুল গুলিবিদ্ধ হয়। বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা জানায়, কথায় কথায় শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও বেতন - ভাতা বৃদ্ধির দাবিসহ ১১ দফা দাবিতে দীর্ঘদিন যাবত্ তারা আন্দোলন করে আসছিলো। শ্রমিকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত ৩ জুন ঢাকা থেকে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে ১১ জুন বেতন বৃদ্ধির আশ্বাস দেন। কিন্তু ১১ তারিখ থেকে শ্রমিকরা হেড অব প্রোডাক্টশন আঃ মান্নান, কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর মোঃ সেলিম ও সাইদের কাছে ধরনা দিলেও কোনো লাভ হয়নি। গতকাল দুপুরে শ্রমিক শাকিল ও শাওন কর্মকর্তা সালাউদ্দিনের কাছে বেতন বৃদ্ধির ব্যাপারে জানতে গেলে তাদের ঐ কর্মকর্তার কক্ষে আটকে রেখে বেদম মারধর করা হয়। এতে শ্রমিকদ্বয় গুরুতর আহত হলে তাদেরকে বের করে শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয়। এ খবর সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে কারখানার প্রায় ১৭শ’ শ্রমিক বিক্ষোভ শুরু করে। তারা ফ্যাক্টরীতে হামলা ও ভাংচুর চালায়। এসময় কোম্পানির কর্মকর্তারা ফ্যাক্টরী ত্যাগ করে নিরাপদ আশ্রয় গ্রহণ করেন। খবর পেয়ে কোতয়ালী থানা পুলিশ এসে শ্রমিকদের সাথে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের সময় দেড় শতাধিক রাউন্ড গুলিবর্ষণের কথা স্বীকার করেছে পুলিশ। শ্রমিক ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় পুলিশ আরো বেশি গুলিবর্ষণ করেছে। সংঘর্ষের সময় পুলিশ বৃষ্টির মতো গুলি বর্ষণ করে। শ্রমিকরা ইট-পাটকেল নিয়ে পুলিশ ও ফ্যাক্টরীর উপর চড়াও হয়। সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের হামলা ঠেকাতে শ্রমিকরা কারখানার বিভিন্ন রাসায়নিক দ্রব্য ছেড়ে দিলে এলাকায় পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দেয়। আশপাশের বাসিন্দারা তখন এলাকা ছাড়তে শুরু করেন। সংঘর্ষের এক পর্যায়ে বগুড়া রোড এলাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফ্যাক্টরীটি জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় সংঘর্ষের কারণে বিপুলসংখ্যক লোক ভোগান্তিতে পড়েন। বিকেল সাড়ে ৫টায় শ্রমিকরা ক্লান্ত হয়ে ফ্যাক্টরী এলাকা ছেড়ে গেলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তবে পুনরায় হামলার আশংকায় ফ্যাক্টরীতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।