ঝিনাইগাতীতে খাবার পানির তীব্র সংকট :অনেক নলকূপ অকেজো

শেরপুরের সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড় এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বিশুদ্ধ খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এসব এলাকার মানুষ খাল-বিল, নদী-নালা, ডোবা ও পুকুরের পানি পান করে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। প্রতিদিন এলাকাবাসীকে ৫-৬ কিলোমিটার দূর থেকে ভ্যান ও ঠেলাগাড়িতে করে খাবার পানি সংগ্রহ করে আনতে হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর প্রায় ১শ ফুট নিচে নেমে গিয়ে বিপুল সংখ্যক নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত সংলগ্ন অবহেলিত জনপদ ঝিনাইগাতী উপজেলা। এ উপজেলার শতাধিক গ্রামে গারো, হাজং, কোচ, বানাই, বর্মণ, হিন্দু, মুসলিমসহ বিভিন্ন জাতিগোত্র মিলে প্রায় দুই লাখ মানুষের বসবাস। উপজেলাবাসী দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করে। অর্থ সংকট ও মাটির নিচে প্রচুর পরিমাণে পাথর থাকার কারণে এরা নলকূপ স্থাপন করতে পারে না। সরকারিভাবে যে পরিমাণ নলকূপ বরাদ্দ আসে তা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারি নলকূপ বরাদ্দ চেয়ে আবেদন-নিবেদন করেও কোন কাজ হয় না। ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় সরকারি নলকূপ রয়েছে ২ হাজার ৫শ ৬৬টি। এরমধ্যে অকেজো নলকূপের সংখ্যা ১৪৯টি। তবে বেসরকারি হিসেবে অকেজো নলকূপের সংখ্যা অনেক বেশি। জানা গেছে, বর্তমান সরকারের সময়কালে এ উপজেলার জন্য নলকূপ বরাদ্দ পাওয়া গেছে ২৫০টি। যা প্রয়োজনের তুলনায় অতি সামান্য। পাহাড়ি জনপদের মানুষের জন্য নিরাপদ পানি নিশ্চিত করতে সরকারিভাবে ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় ব্যয়বহুল ১৭৫টি রিংওয়েল নলকূপ স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এবং ঠিকাদারের দায়সারা গোছের নির্মাণ কাজ করার কারণে বর্তমানে প্রায় সব নলকূপ অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। এ প্রসঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তা বলেন, সরকারি রিংওয়েল নলকূপসহ হস্তচালিত নলকূপ বিকল হলে এর মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহারকারীদেরই কিনে আনতে হয়। কিন্তু এলাকাবাসী তা করতে চায় না বলে ঐ এলাকার নলকূপগুলো দীর্ঘদিন অচল হয়ে পড়ে থাকে। সরেজমিনে ছোট গজনী, গজনী, বাকাকুড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে রিংওয়েল নলকূপগুলো অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে। ঝিনাইগাতী উপজেলা ট্রাইবাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান বাকাকুড়া গ্রামের বাসিন্দা নরেশ খকসি, ছোট গজনী গ্রামের ফিলিসন সাংমা, গজনী গ্রামের মনেন্দ কোচ বলেন, আমাদের আদিবাসী এলাকার লোকজন বিশুদ্ধ পানির অভাব পূরণ করতে ৫-৬ কিলোমিটার দূর থেকে সংগ্রহ করে আনতে হচ্ছে।