চ লে যা ও য়া
নাটকের প্রাণপুরুষের বিদায়
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৩, ১৮:১২
এই লেখা যখন তৈরি করছি—তখন সদ্য প্রয়াত নাট্য ব্যক্তিত্ব (১৭ জুন রাত্রি ১০টায় ইন্তেকাল করেন) আতিকুল হক চৌধুরীর মৃত্যু চব্বিশ ঘণ্টাও পুরো হয়নি। তিনি তখনও শমরিতা হাসপাতালের হিমঘরে চিরনিদ্রায় আচ্ছন্ন। না ফেরার দেশে চিরদিনের জন্য যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পেছনে তার পরিবার, শুভার্থী ও প্রিয়জনেরা শোকে মুহ্যমান। জীবিত অবস্থায় অত্যন্ত স্পর্শকাতর এই অনুভূতিপ্রবণ মানুষটি এখন অসাড়, অনুভূতিহীন এবং নির্জীব।
১৯৩১ সালের ১৫ ডিসেম্বর বরিশালের উলানিয়া জমিদার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন আতিকুল হক চৌধুরী। চল্লিশের দশকে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে অভিনয় ও আবৃত্তি করে প্রথম হয়ে পুরস্কার পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন কলেজজীবনে। ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র ছিলেন তিনি। সেসময় সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সতীর্থদের মধ্যে ছিলেন—বিচারপতি মোস্তফা কামাল, কবি শামসুর রাহমান, বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, সাবেক ভূমি সচিব এম মোকাম্মেল প্রমুখ। ১৯৬০-১৯৬৩ এই তিন বছর আতিকুল হক চৌধুরী রেডিও পাকিস্তানের অনুষ্ঠান প্রযোজক ছিলেন। ১৯৬৫ সালে আতিকুল হক চৌধুরী তত্কালীন পাকিস্তান টেলিভিশনে (পিটিভি) যোগদান করেন। রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী কলিম শরাফী এক্ষেত্রে তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন। ১৯৯০ সালে বিটিভির উপমহাপরিচালক (অনুষ্ঠান) হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন তিনি। বিটিভিতে প্রায় তিন দশক ধরে নাটক প্রযোজনা করেন আতিকুল হক চৌধুরী। বিটিভিতে তার স্বরচিত নাটক প্রায় ৫০টি। বিটিভিতে তাঁর প্রযোজিত নাটকসমূহকে তিনভাগে ভাগ করা যায়—কালজয়ী সাহিত্যাশ্রয়ী নাটক, বক্তব্যধর্মী ও সমাজের বিভিন্ন অনিয়ম অসঙ্গতি নিয়ে রচিত সামাজিক দায়বদ্ধতামূলক নাটক। প্রথম ধাপে লিওটলস্টয়, পার্লএসবারকসহ ইউরোপ ও আমেরিকার অনেক নাট্যকারের কাহিনী তিনি ঢাকার দর্শকদের উপহার দিয়েছেন। দ্বিতীয় ভাগে বক্তব্যধর্মী উপস্থাপনাতে তিনি অসাধারণ কুশলী ও পারঙ্গম ভূমিকা পালন করেন। এই পর্যায়ের উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ হচ্ছে—‘কোঁচ’, ‘সুখের উপমা’, ‘জুলেখার ঘর’, ‘গৃহবাসী’, ‘এখন জোয়ার’, ‘রসগোল্লা’ প্রভৃতি। তৃতীয় ধাপের নাটকসমূহের মধ্যে ‘বাবার কলম কোথায়’, ‘নীল নকশার সন্ধানে’, ‘সার্কাস দেখুন’, ‘সভাপতির ভাষণ’ সবিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সত্তর ও আশির দশকে এই কুশলী নির্মাতা প্রায় আড়াইশত নাটক প্রযোজনা করে সরকার নিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশ টেলিভিশনকে এক অনন্য সাধারণ কৌলিন্য প্রদান করেছিলেন। শরত্চন্দ্র ও রবীন্দ্রনাথের অনেক উপন্যাসও তারই হাত ধরে বিটিভিতে এসেছ—এই পর্যায়ে রবীন্দ্রনাথের ‘চোখের বালি’, ‘শেষের কবিতা’, ‘ঘরে বাইর’, ‘মালঞ্চ’, ‘দৃষ্টিদান’ কিংবা শরত্চন্দ্রের ‘গৃহদাহ’, ‘রাজলক্ষ্মী’, ‘বিলাসী’ উল্লেখযোগ্য। আতিকুল হক চৌধুরী রেডিও, টেলিভিশন মাধ্যমে প্রায় ছয় দশক নিরলসভাবে কাজ করেছেন। সবশেষে ২০০৫ সাল থেকে একুশে টেলিভিশনে অনুষ্ঠান অধ্যক্ষ ও পরবর্তীতে উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বিটিভি থেকে অবসর নিয়ে ১৯৯১ সালে তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগে এক দশক অধ্যাপনা করেন। এক্ষেত্রে নাট্যকার সেলিম আলদীনের ব্যক্তিগত আগ্রহ ও উত্সাহ সবিশেষ ভূমিকা রেখেছিল। বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রায় শতাধিক নতুন শিল্পীদের আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল তাঁরই হাতে। প্রথিতযশা নাট্যশিল্পী পরবর্তীতে যে দক্ষ সংস্কৃতিকর্মী হয় এই সত্যটি আতিকুল হক চৌধুরী যথার্থই অনুধাবন করতে পেরেছিলেন। এ বছর সদ্য প্রয়াত গণমাধ্যমে প্রায় ছয় দশক নিরলস কাজ করে যাওয়া নির্লোভ, দক্ষ ও আধুনিক রুচির মানুষটির জীবনের কিছু অতৃপ্ত ও অপ্রাপ্তির কথা পাঠকদের জানাতে চাই।
১৯৬৫ থেকে ১৯৯১ ছাব্বিশ বছর বাংলাদেশ টেলিভিশনে অক্লান্ত পরিশ্রম অভিনিবেশ একাগ্রতায় তিনি সরকার নিয়ন্ত্রিত মাধ্যমকে দিয়েছিলেন ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। সর্বোপরি অসাধারণ মানের কিছু সামাজিক বক্তব্য সম্বলিত নাটক প্রযোজনা করে বিটিভিকে তিনি ধ্রুপদী মর্যাদায় আসীনও করেছিলেন। বিনিময়ে তিনি কী পেয়েছিলেন? মান-সম্মান, অর্থ-বিত্ত, দেশ জোড়া খ্যাতি নামডাক—হ্যাঁ এগুলো তো ছিলই। তবে বুকের রক্ত ঝরানো কিছু অভিজ্ঞতা এই মানুষটির হয়েছিল তারই কিছুটা আজকে পাঠকদের জানাতে চাই।
সৃজনশীল কর্মে প্রশংসা, স্তুতি যেমন থাকে; তেমনি থাকে কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদেরও স্পর্শকাতরতা নীরব প্রতিযোগিতা সর্বোপরি অনতিক্রমনীয় ‘ঈর্ষা’—যা অনেক ক্ষেত্রেই অপরজনের ভালো কাজ ও সৃষ্টিকে একপেশে করে দেয়। আতিকুল হক চৌধুরীর ক্ষেত্রেও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। সত্তর ও আশির দশক ছিল বাংলাদেশ টেলিভিশনে আতিকুল হক চৌধুরীর কাজ ও সৃষ্টির স্বর্ণযুগ। ওই সময়ে বিটিভিতে তার সমসাময়িকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন—আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, মোস্তফা কামাল সৈয়দ, বরকতউল্লাহ, জিয়া আনসারী, মুস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ। এদের সাথে আতিক চৌধুরীর মেধা ও মনীষার খুব কাছাকাছি অবস্থানে ছিলেন আব্দুল্লাহ-আল-মামুন ও বরকতউল্লাহ। আব্দুল্লাহ-আল-মামুন টিভি প্রযোজক ছাড়াও ছিলেন—মঞ্চনাটকের রচয়িতা ও একজন কুশলীব মঞ্চ অভিনেতা ও নির্দেশক। ১৯৯১ সালের ডিসেম্বর মাসে চাকরি থেকে অবসর যাওয়ার সময়ে তত্কালীন এরশাদ সরকার আতিকুল হক চৌধুরীকে দুই বছরের চুক্তিভিত্তিক নবায়ন দিতে চেয়েছিলেন মহাপরিচালক (অনুষ্ঠান) পদে। ওই সময়ে আতিকুল হক চৌধুরী যাতে এই পদে যোগদান না করতে পারেন সেজন্য সুকৌশলে বিটিভির তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের মাধ্যমে আতিকুল হক চৌধুরীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলের দাবিতে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। শোনা যায় ওই সময়ে আতিকুল হক চৌধুরীর সহকর্মী প্রযোজকের ইন্ধনেই এমনটি হয়েছিল। তীব্র আন্দোলনের মুখে আতিকুল হক চৌধুরীর চুক্তিভিত্তিক মেয়াদ বাতিল করা হয়। পুরো ব্যাপারটি সেই সময়ে প্রায় তিন দশক বিটিভিতে চাকরির পরে আতিকুল হক চৌধুরীর জন্য ছিল অপ্রত্যাশিত এবং অভাবিত এক মর্মন্তুদ অভিজ্ঞতা। আতিকুল হক চৌধুরী বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে তাকে দেওয়া বিদায় সম্বর্ধনাও ওই সময় গ্রহণ করেননি। বিষয়টি সে সময়ে পত্র-পত্রিকায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিল। অতঃপর এই লজ্জা থেকে অনেকটাই বেরিয়ে এসে আতিকুল হক চৌধুরী স্বাভাবিক হয়েছিলেন যখন ১৯৯১ সালের মার্চ মাস থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অতিথি অধ্যাপক হয়ে কাজ শুরু করেন। প্রায় দশ বছর তিনি এই পদে নিষ্ঠার সাথে কাজ করেছিলেন। ২০০১ সালের জুন মাসে আতিকুল হক চৌধুরীর জীবেন আরেকটি মর্মন্তুদ ঘটনা ঘটে। তার ছোট ছেলে ওই সময়ে হঠাত্ ইন্তেকাল করে মাত্র ত্রিশ বছর বয়সে। ভীষণ মুষড়ে পড়েছিলেন ওই সময়ে তিনি। ১৯৫৫ সালে জোহরা বেগমকে বিয়ে করেন আতিকুল হক চৌধুরী। এই দম্পত্তির দুই ছেলে ও এক মেয়ে। ২০০৪ সালে পবিত্র হজ্বব্রত পালন শেষে দেশে ফিরেই অসুস্থ হয়ে পড়েন আতিকুল হক চৌধুরী। প্রায় চার মাস হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার শরীরে ক্যান্সার শনাক্ত করা হয়। ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ঢাকায় এলিফ্যান্ট রোডে বাঙালি সমগ্র জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয়। তারও দুই বছর পূর্বে ২০০২ সাল থেকে এই জাদুঘরের প্রস্তুতিমূলক কাজকর্ম শুরু হয়। বাঙালি সমগ্র জাদুঘরের ধারণাটি প্রথমে বিস্তার লাভ করার পরই আমি আতিকুল হক চৌধুরীকে জানাই। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পারিবারিক পরিচিত সজ্জন ও শুভাকাঙ্ক্ষী। বাঙালি সমগ্র জাদুঘরের ধারণটি শুনেই ভীষণ উত্সাহী হয়েছিলেন তিনি। ক’দিন পরে এই ব্যাপারে অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের সাথে কথা বলার জন্য আমাকে পরামর্শ দিলেন আতিকুল হক চৌধুরী। তাই ২০০২ থেকে ২০০৪ বাঙালি সমগ্র জাদুঘরে প্রস্তুতি সময়ের পুরোটা থেকে এ সময় পর্যন্ত আতিকুল হক চৌধুরী ও অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের ঘনিষ্ঠ পরিচর্যায় বাঙালি সমগ্র জাদুঘর তার লক্ষ্যাভিমুখী যাত্রাপথ পূর্ণ করে। অতঃপর ২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর প্রায় এই বছরে প্রায় দশ বছর বিভিন্ন সময়ে আতিকুল হক চৌধুরী আগ্রহ, উপদেশ, উত্সাহ, অনুপ্রেরণা, সহযোগিতা আমাদের সব সময় এই অচেনাপথ পাড়ি দিতে যারপরনাই অনুপ্রাণিত করেছে। বাঙালির ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বর্তমান ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ ও স্থায়ী প্রদর্শনের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত বাঙালি সমগ্র জাদুঘর যেন সত্যিকারভাবেই বাঙালির আত্মপরিচয় আবিষ্কারের অনন্য এক সেতুবন্ধ হয়ে উঠুক এই ছিল তার ঐকান্তিক বাসনা।
২০১১ সালে একুশে পদক প্রদানের জন্য সরকার পত্র-পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দেয়। আশ্চর্যজনক সত্য হচ্ছে যে, টেলিভিশন বা অন্য গণমাধ্যমে তাঁর চেয়েও বয়োকনিষ্ঠ এবং কর্মের বিচারেও অনেক নবীনরাও একুশে পদক পেয়েছেন আতিকুল হক চৌধুরীর বহু আগেই। এই ব্যাপারে আতিকুল হক চৌধুরীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি স্মিতহাস্যে ব্যাপারটিকে এড়িয়ে যেতেন সবসময়। ২০১১ সালে জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী, আতিকুল হক চৌধুরীর একুশে পদক পাওয়ার ক্ষোভে জোরালো সুপারিশ করে একটি প্রতিবেদন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে জমা দেন অনেকটা নিজের উত্সাহেই। বিস্ময়কর সত্য হচ্ছে—বর্তমান গণতান্ত্রিক মহাজোট সরকার যারা দেশের ইতিহাস ঐতিহ্যকে সমুন্নত রাখার জন্য অনেক উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নিয়েছেন সেই আমলেও কবীর চৌধুরীর সুপারিশ অগ্রাহ্য করা হলো। ২০১১-তে একুশ পদক প্রাপ্তদের তালিকায় আতিকুল হক চৌধুরী নাম আমরা দেখতে পাইনি। সদ্য প্রয়াত এই অসাধারণ গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের মৃত্যুর পরে তাঁকে হয়তো কোনো সরকার কখনও একুশে পদক দিয়ে মরণোত্তর সম্মান জানাবেন যা তিনি জীবিত অবস্থায় পেলে কৃতজ্ঞ চিত্তে গ্রহণ করতেন। গুণী ও কীর্তিমানদের জীবিত অবস্থায় সম্মান জানানো তো একটি স্বাভাবিক সুশৃঙ্খল প্রক্রিয়া। আমাদের দেশে এই প্রক্রিয়াও রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রায়শই দুষ্ট ও একপেশে। আতিকুল হক চৌধুরী নেই। রয়েছে তাঁর রচিত প্রযোজিত অসংখ্য নাটক। রয়েছেন তাঁর হাত ধরে ‘টিভি পর্দায় আসা একঝাঁক নতুন মুখ। যারা পরবর্তীতে কেউ হুমায়ুন ফরীদি, মিতা চৌধুরী শম্পা রেজা, কেয়া চৌধুরী, শমী কায়সার, আবুল হায়াত্, নোবেল কিংবা নুসরাত ইয়াসমিন টিসা। ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ পত্রিকায় ২০১০ থেকে ২০১১ পর্যন্ত সম্পাদকীয় পাতায় প্রতি সোমবার কলাম লিখতেন আতিকুল হক চৌধুরী। অত্যন্ত সাবলীল ভাষায় সমাজ সংস্কার, তারুণ্য, জীবন ও ভবিষ্যতের জয়গানে মুখরিত ছিল তার রচিত চরণসমূহ। তরুণ, তারুণ্য ও ভবিষ্যত্ প্রজন্মকে নিয়ে দারুণ আশাবাদী ছিলেন আতিকুল হক চৌধুরী। প্রায়শই বলতেন, ‘ভবিষ্যতে যা কিছু কল্যাণ ও মঙ্গলকর-উজ্জ্বল এবং আলোকময় তার সবই করবে এই তারুণ্য।’
এখন ভেবে দেখার বিষয় হচ্ছে—এই তরুণ প্রজন্ম কেন এবং কীভাবে এই বরেণ্য নাট্য ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করবে এবং মনে রাখবে। প্রথমত, প্রায় দুই দশক আগেই বিটিভিতে প্রথম প্যাকেজ নাটক তরুণ-তরুণীর প্রেমনির্ভর ‘প্রাচীর পেরিয়ে’ এবং পরিচালক ছিলেন তিনি। আজকে প্যাকেজ নাটকের যে সুসংগঠিত ধারা ও শক্ত ভিতের উপর অবস্থান তার গোড়া পত্তন হয়—কুশীলব এই নির্মাতার হাতেই। দ্বিতীয়ত, তার নাটকে প্রায়শই তরুণদের বিভিন্ন সমস্যা, তাদের লক্ষ্য ও আদর্শ এবং তাদের এগিয়ে যাওয়ার কথা বেশ সযত্নেই পরস্ফুিটিত করেছিলেন এই নির্মাতা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় এক দশক অধ্যাপনাকালীন আতিকুল হক চৌধুরী তরুণ-তরুণীদের নাট্যকলা বিষয়ে অনুষ্ঠানিক পাঠ দেওয়া ছাড়া জীবন ও আদর্শের বিভিন্ন বিষয়ে উজ্জ্বীবিত করেছেন।
দীর্ঘ কর্মবহুল জীবনে সত্যকে যথার্থভাবেই অনুসন্ধান করেছেন এই গুণী নির্মাতা, শুধু তাই না, গণ্যমাধ্যমে দর্শক রুচি নির্মাণেও তিনি ছিলেন একজন অগ্রগণ্য স্থপতি। রুচি ও শিষ্টাচারের বহিঃপ্রকাশে অত্যন্ত অদ্বিতীয় ছিলেন আতিকুল হক চৌধুরী। তার সাথে বিভিন্ন সময়ে যাঁরা সংশ্লিষ্ট ছিলেন তাঁরা একবাক্যে এই কথাটি স্বীকার করেন। পরলোকের নিসীম নীরবতায় তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি পরম করুণাময়ের কাছে।
লেখক : নির্বাহী পরিচালক, বাঙালি সমগ্র জাদুঘর