সাফল্যের দৌড়ে এগিয়ে মিলি
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৩, ১৮:১৪
সুরেলা কণ্ঠ দিয়ে এই মেয়েটি খুব সহজেই পৌঁছে গেছেন হাজারো ভক্তদের হূদয়ের মাঝে। তবে এই সুরেলা কণ্ঠের পাশাপাশি তিনি অভিনয় দিয়েও নিজের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছেন। এ ছাড়া তার ব্যক্তিগত জীবনের নানা চমক বরাবরই তাকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখে বছর জুড়ে। তার কথা লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম
লাফটার ও কমেডি শোর জন্য ইতোমধ্যে বেশ খ্যাতি পেয়েছেন মার্কিন টিনএজ সেলিব্রেটি মিলি সাইরাস। সেরা আবেদনময়ী খেতাবও জুটেছে হলিউডের এই অভিনেত্রী ও মডেলের ভাগ্যে।
এ ছাড়াও ইয়াহু! ওয়েবসাইটের ২০১০ সালের সার্চে শীর্ষ দশ সেলিব্রেটিদের মধ্যে প্রথম স্থানে ছিলেন মিলি সাইরাস। এই শীর্ষ দশে স্থান পাওয়া অন্যান্য সেলিব্রেটিরা হলেন কিম কার্দাসিয়ান, লেডি গাগা, মেগান ফক্স, জাস্টিন বিবার ও ব্রিটনি স্পিয়ার্স। আলোচিত ম্যাক্সিম ম্যাগাজিন সম্প্রতি যে ১০০ সেরা আবেদনময়ীর তালিকা করেছেন তাতে সেলিনা গোমেজ ও রিহান্নাকে টক্কর দিয়ে প্রথম স্থানে এসেছেন তিনি। সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে, সাফল্যের স্বাদ কতটা উপভোগ করছেন তিনি!
শুরুটা যেভাবে
মিলি সাইরাসের জন্ম ১৯৯২ সালের ২৩ নভেম্বর। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের নাশভিলিতে জন্ম নেওয়া এই শিল্পী অল্প বয়সেই নিজের প্রতিভার বিশেষ স্বাক্ষর রেখেছেন। ‘হানা মন্টানা’ দিয়ে আলোর জগতে পা রাখেন তিনি। খুব ছোট বয়সেই ক্যারিয়ার শুরু করেন, তার উপর প্রথমেই পেয়ে যান সাফল্য। ‘হানা মন্টানা’র সাফল্যর পর অক্টোবর ২০০৬-এ তার গানের একটি সিডি প্রকাশিত হয়। এখানে তিনি আটটি গান গেয়েছিলেন। সংগীত জগতে পেশাদার গায়িকা হিসেবে তার প্রথম একক অ্যালবাম ‘মিট মাইলি সাইরাস’, যা প্রকাশ পায় ২৩ জুন ২০০৭ সালে। এই অ্যালবামে ‘সি ইউ অ্যাগেন’ গানটি সেসময়ের প্রথম দশটি সফল গানের তালিকায় ছিল। রেডিও ডিজনির মূলস্রোতের টপ ৪০-এ উঠে আসতে এবং বেতার জগতের সাফল্যকে ছুঁতে এই গান সাইরাসকে সাহায্য করেছিল। ২২ জুলাই ২০০৮ সালে তার দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘ব্রেকআউট’ মুক্তি পায়। ‘ব্রেকআউট’ সাইরাসের প্রথম অ্যালবাম, যা কোনোভাবে ‘হানা মন্টানা’র সঙ্গে যুক্ত নয়। ২০০৮ সালে তার ‘হানা মন্টানা’ এবং ‘মাইলি সাইরাস :বেস্ট অব বোথ ওয়ার্ল্ডস কনসার্ট’ নামক একটি ছবি মুক্তি পায়। এই অষ্টাদশী তরুণী গানও লেখেন। এ পর্যন্ত মিলি সাইরাসের তিনটি স্টুডিও অ্যালবাম বের হয়েছে। এই গানের অ্যালবামগুলো হচ্ছে ‘মিট মিলি সাইরাস’ (২০০৭), ‘ব্রেক আউট’ (২০০৮), ‘কান্ট বি টেমড’ (২০১০)।
এপ্রিলে শুরু হয়েছে মিলি সাইরাসের তৃতীয় ওয়ার্ল্ড ট্যুর। এই ট্যুরের শিরোনাম ‘জিপসি হার্ট ট্যুর’। এই ট্যুর চলবে আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত। এই ট্যুরে মিলি তার তৃতীয় অ্যালবাম ‘কান্ট বি টেমড’-এর গানগুলো পরিবেশন করছেন। গত বছর দক্ষিণ আমেরিকার ইকুয়েডরের কুইটো শহরে মিলি সাইরাসের ট্যুর শুরু হয়। এরপর দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশের নাম করা শহরগুলো যেমন লিমা, রিও ডি জেনিরো, সান্ডিয়াগো, বুয়েন্স আয়ার্স, সাও পাওলো ও বোগোটাতে ট্যুর করেন মিলি সাইরাস। এরপর এক সপ্তাহ উত্তর আমেরিকার সান জোস, পানামা সিটি ও মেক্সিকো সিটিতে ট্যুর করেন মিলি সাইরাস। এ ছাড়া এশিয়ার ফিলিপাইন সফরের মাধ্যমে শুরু হবে তার ‘জিপসি হার্ট ট্যুর’র দ্বিতীয় পর্ব।
গানের পাশাপাশি অভিনয়েও বিশেষ দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন তরুণ এই শিল্পী। ২০০৩ সালে ‘বিগ ফিশ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। এরপর ‘দ্য লাস্ট সং’, ‘হানা মন্টানা’সহ বেশকিছু ভালো ছবিতে সুন্দর অভিনয় করেছেন মিলি। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি আমেরিকার টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতেও অভিনয় আর গানের মাধ্যমে মিলির সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। সর্বোপরি বলতে হয় আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, পূর্ব এশিয়ার মতো এই উপমহাদেশে বিশেষ করে ভারতে মিলি সাইরাসের অনেক ভক্ত রয়েছে।