এয়ারক্রাফট মেইনটেনেন্স লাইন্সে পেতে
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৩, ১৯:৪৮
বিশ্বায়নের এই যুগে পরিবর্তনের একটি অপরিহার্য মাধ্যম হলো উড়োজাহাজ। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্ব এখন এই লাভজনক পরিবহন ব্যাবসায় অধিক বিনিয়োগ করছে। ফলে আমাদের দেশে এই সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আগামী ২০২০ সাল নাগাদ এই সংখ্যা বর্তমানের চাইতে দ্বিগুণ হয়ে যাবে বলে ধারণা করছে এই খাতসংশ্লিষ্টরা। ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে উড়োজাহাজ প্রকৌশলীর চাহিদাও বাড়ছে। আর এই প্রকৌশলী তৈরি করতেই কাজ করে যাচ্ছে কলেজ অব এভিয়েশন টেকনোলজি (ক্যাটেক)। আমরা বিশ্বাস করি, সঠিক শিক্ষাদান পদ্ধতি একজন শিক্ষার্থীর আত্মগঠনে সহায়তা করে ও দক্ষতা বৃদ্ধি করে এবং ভাবষ্যতে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলে। তাই গতানুগতিক ব্যয়বহুল শিক্ষাব্যবস্থা থেকে তরুণদের ঝরে পড়া রোধ করে তাদের আত্মনির্ভরশীল হতে সহায়তা করতে পারে এভিয়েশন খাতের পড়ালেখা। এয়ারক্র্যাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ারিং (এএমই) তেমনই একটি পেশা। এই ডিগ্রি অর্জনকারী এমন একজন লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি যে উড়োজাহাজের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করে। কোনো উড়োজাহাজ ফ্লাই করার পূর্বে সেই উড়োজাহাজ সঠিকভাবে ওড়ার উপযোগী রয়েছে কি না, সেই সার্টিফিকেট প্রদান করতে পারেন একজন এয়ারক্র্যাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার।
কেমন হবেন এএমই :উড়োজাহাজে অবস্থিত সকল যাত্রী এবং পাইলটদের নিরাপত্তা নির্ভর করে একজন এএমই’র উপর। এএমই যদি ভুল করে, উড়োজাহাজ কখনও তার গন্তব্যে নিরাপদে পৌঁছাতে পারবে না। তাই একজন এএমইকে হতে হবে দক্ষ এবং বিচক্ষণ। এই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার মানসিকতা থাকতে হবে।
এএমই (অ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং)-এর কাজ :এক কথায় এয়ারক্র্যাফট মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার এমন একজন ব্যক্তি, যার কাজ উড়োজাহাজের ডিজাইন উন্নয়ন করা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা যাতে উড়োজাহাজ, হেলিকাপ্টার, মিসাইলস, স্যাটেলাইট বা অন্যান্য স্পেস ক্র্যাফট নিরাপদে আকাশে উড়তে পারে। আরও রয়েছে এয়ারফ্রেম তৈরি/এয়ারফ্রেম ইঞ্জিন তৈরি, এয়ারক্র্যাফট ও এর আনুষাঙ্গিক যন্ত্রপাতির সংযোগ স্থাপন, উন্নয়ন ও মেরামত করা। ফ্লাইট টেস্ট প্রোগ্রামে টেক অব ডিস্টেন্স, রেট অব ক্লাইম্ব, সিল স্পিড, ম্যানুইভারিলিটি অ্যান্ড ল্যান্ডিং ক্যাপাসিটি ঠিক আছে কিনা তা দেখাও একজন এএমই’র কাজ। জ্বালানী দূষণ কমানো ও সেফটি সিস্টেম নিয়ে কাজ করা, এয়ারক্র্যাফট দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করার কাজও করতে হয় এএমইকে।
এএমই (এভিয়নিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং)-এর কাজ :উড়োজাহাজের ফ্লাইট ডাইমানিক্স, কোয়ালিটি, স্ট্যাবিলিটি পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ সিস্টেম নিয়ে এভিয়নিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং। উড়োজাহাজের ইলেকট্রনিক্স সিস্টেম নিয়ে কাজ করা হয় এভিয়নিক্সে। এভিয়নিক্সের মধ্যে রয়েছে এক্সিলারোমিটার, গাইরোস্কোপ, ফাইট ইন্সট্রুমেন্টস, সেন্সর একুরেটর, লিনিয়ার সার্কিট, কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন (ক্যাড), অ্যানালগ অ্যান্ড ডিজিটাল এভিয়নিক্স কম্পোনেন্ট প্রভৃতি।
এএমই লাইসেন্স পেতে :এএমই লাইসেন্স পেতে হলে ন্যাশনাল ডিপ্লোমা এবং হায়ার ন্যাশনাল ডিপ্লোমা-ইন-অ্যারোনটিকাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্স পরিচালনা করছে ক্যাটেক। কলেজটির প্রথম ও দ্বিতীয় ব্যাচের কয়েকশ শিক্ষার্থী যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি, আয়ারল্যান্ডসহ উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে চাকরি/ইন্টার্নি করছে। তৃতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থীরাও কয়েকমাস পরেই যোগ দেবে তাদের সাথে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে ফোন করুন ৮৯৯১৩৭১, ০১৯২৬৯৬৩৬৫৫ নম্বরে। এ ছাড়া কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়েও এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে পারবেন।
যোগ্যতা :এসএসসি/এইসএসসি, এ-লেভেল /ও-লেভেল শেষ করে এই কোর্স করা যাবে। বিটেক এডেক্সেলের আওতায় রয়েছে চার বছরের অনার্স ডিগ্রি অর্জনের সুযোগ। এ ক্ষেএে ১৮ মাস পর আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেট লেভেল থ্রিম বা এনাড পাওয়া যায়। এর পর ফাইনাল ইয়ার বা চতুর্থ বছরে পাওয়া যায় টপ আপ বিবিএ বা বিএসসি। এরপর বিশ্বজুড়ে এভিয়েশন খাতে খ্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পাওয়া যায়। এএমই ডিগ্রির সমতুল্য আর একটি র্কোস এভিয়েশন ম্যানেজমেন্ট। এই কোর্সের পাঠ্যসূচী এবং চাহিদাও একই রকম। এই কোর্স শেষ করেও কভেন্টি, কিংসস্টোন, স্যালফোর্ড, ক্রেইনফিল্ড প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১৭৩টি দেশে ক্রেডিট ট্রান্সফার করা যায়। ১৮ মাসের লেভেল-৩ বা এ-লেভেল করতে খরচ পড়বে ৩ লক্ষ টাকা। পরে ১৮ মাসের লেভেল-৫ করতে খরচ সাড়ে ৫ লক্ষ টাকা। টপ-আপ বিএসসি’র জন্য ১ বছরের টিউশন ফি প্রদান করতে হবে। যোগাযোগ :ক্যাটেক, বাড়ি-১৪, রোড-২, সেক্টর-১১, উওরা, ঢাকা।