বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন

বিশ্ব উষ্ণতায় ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস বাড়বে বাংলাদেশে

বিশ্বে যে হারে কার্বন নির্গমন বাড়ছে, তাতে আগামী ২০৯০ সাল নাগাদ বিশ্বের গড় তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়ে যাবে। এর ফলে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী দশকে বিশ্ব উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যেও সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে বাংলাদেশ। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতাও বেড়ে যাবে, এর সাথে সাথে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের প্রবণতাও বাড়বে। ফসলহানি ও প্রাণি সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এর ফলশ্রুতিতে দারিদ্র্য বিমোচন প্রক্রিয়াও শ্লথ হয়ে পড়বে। বিশ্বের ৯০ জন বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে তৈরী বিশ্বব্যাংকের ওই প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড় সিডরে’র ফলে বাংলাদেশে সাড়ে ৩৪ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতি দশক পর পর এ অঞ্চলে বড় আকারের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটছে। এ রকম পরিস্থিতিতে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্ব উষ্ণায়ন বৃদ্ধির ফলে ৩ মিটার পর্যন্ত সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যেতে পারে। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশে প্রায় ৯৭ লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হবার আশংকা করা হচ্ছে। অন্যদিকে কার্বণ নিঃস্বরণ বৃদ্ধির ফলে আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দেশের বৃষ্টিপাতের আচরণেও পরিবর্তন আসবে। এর ফলে অনেক নিম্নাঞ্চল পানির নিচে তলিয়ে যাবে। বিশ্বের ৯০ জন বিজ্ঞানীর সমন্বয়ে তৈরী এ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বিশ্বব্যাপী কার্বন নিঃস্বরণ বেড়ে যাওয়ার ফলে নিম্ন ভূিমর অঞ্চলগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র আড়াই ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বাড়লে বাংলাদেশের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তের পরিমাণ বাড়বে প্রায় ২৯ শতাংশ। ২০৮০ সাল নাগাদ বাংলাদেশের সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়বে ৬৫ সেমি। এর ফলে দক্ষিণ অঞ্চলের ৪০ শতাংশ ফসলী জমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। বর্তমানে উপকূলে দুই কোটি জনগোষ্ঠী বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংকটে রয়েছে। সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে গেলে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় এ অঞ্চল আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।