দ্বিতীয় এমডিজিতে প্রাধান্য পাবে সুশাসন জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু

জাতিসংঘ ঘোষিত দ্বিতীয় পর্যায়ের সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এমডিজি) সমসাময়িক বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যু প্রাধান্য পাওয়া আবশ্যক। সেই সঙ্গে দারিদ্র্য বিমোচন, মানসম্পন্ন শিক্ষা, বৈষম্য দূর করা অগ্রাধিকার পাওয়া দরকার। সার্বিকভাবে রাষ্ট্রগুলো সুশাসন প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমকে যাতে অধিক গুরুত্ব দেয় সেজন্য দ্বিতীয় এমডিজি দলিলে টার্গেট নির্ধারণ করা দরকার। গতকাল বুধবার রাজধানীতে এক প্যানেল আলোচনায় বিশেষজ্ঞরা উপরোক্ত অভিমত দেন। ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন এই আলোচনার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী নিল ওয়াকার, সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের চেয়ারম্যান প্রফেসর রেহমান সোবহান, ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব হোসেন, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. শামসুল আলম, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আইনুন নিশাত, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক রিয়াজ হামিদউল্লাহ, ব্রিটিশ দাতা সংস্থা ডিএফআইডির প্রতিনিধি সারাহ কুক, লরি থম্পসন প্রমুখ। জাতিসংঘ মহাসচিব দ্বিতীয় পর্যায়ের এমডিজি (২০১৫ থেকে ২০৩০) দলিল প্রণয়ন ও অগ্রাধিকারমূলক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের জন্য ২৭ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলকে দায়িত্ব দেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এবং লাইবেরিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট এই প্যানেলের কো-চেয়ারম্যান। এই প্যানেল প্রণীত দলিল ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ অনুমোদন করবে। প্যানেল পাঁচটি ইস্যুকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রতিবেদন দিয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- বিশ্বের কোন নাগরিককে অবহেলিত না রাখা, টেকসই উন্নয়নকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া, কর্মসংস্থান ও অংশগ্রহণমূলক প্রবৃদ্ধির জন্য অর্থনৈতিক রূপান্তর, শান্তি সবার জন্য প্রতিষ্ঠা, কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং নতুনভাবে বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব সৃষ্টি করা। জাতিসংঘ প্যানেলের লক্ষ্যমাত্রার সমালোচনা ও দুর্বলতা চিহ্নিত করে প্রফেসর রেহমান বলেন, এতে দক্ষিণ এশিয়ায় বড় সমস্যা ভূমি সমস্যা, দারিদ্র্য ইস্যু উপেক্ষিত হয়েছে। সাম্যভিত্তিক সমাজ ব্যবস্থা, সমতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা লক্ষ্যমাত্রায় থাকা দরকার। ড. আইনুন নিশাত জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতির বিষয়গুলো গুরুত্ব দেয়ার আহবান জানান। এই খাতে অর্থায়নও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ইস্যু প্রাধান্য না পেলে সবকিছু বিপদগ্রস্ত হবে। ব্রিটিশ হাইকমিশনার বলেন, এমডিজি লক্ষ্য নির্ধারণে যুক্তরাজ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে এমডিজিতে অনেক অগ্রগতি করেছে। নারীর ক্ষমতায়ন, প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি, মাতৃ ও শিশু মৃত্যু রোধ এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী বলেন, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য দেশ। সুশাসন, মানবাধিকার, নিরাপত্তা- এসব ইস্যু এখন সামনে চলে আসবে।