১৩৭ কেন্দ্রের ১৩০টিতে বুলবুল ৭টিতে লিটন জয়ী হন
আনিসুজ্জামান, রাজশাহী অফিস
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৩, ২১:২৬
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে ১৩৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে মাত্র ৭টিতে বিজয়ী হয়েছেন বিদায়ী মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এর মধ্যে ২২ নম্বর ওয়ার্ডের সবক’টিতে (৪টি) তিনি প্রথম হয়েছেন। বাকি ১৩০টি ভোট কেন্দ্রেই বিজয়ী মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হেরেছেন তিনি। অন্যদিকে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকাতেও বিএনপির মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল বিপুল ভোটের ব্যবধানে প্রথম হয়েছেন।
প্রতিটি ভোট কেন্দ্রের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ৩২ প্রি-ক্যাডেট কিন্ডার গার্ডেন, শেরশাহ রোড লক্ষ্মীপুর (৭৩৩); ১২ নম্বর ওয়ার্ডের ৫১ মুন্নুজান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুদকিপাড়া (১০৩৯) এবং সরকারি পিএন বালিকা বিদ্যালয় (৪৮০); ২২ নম্বর ওয়ার্ডের ১০০ রাজশাহী বি.বি হিন্দু একাডেমী (পুরাতন ভবন পুরুষ-৬১৮), ১০১ রাজশাহী বি.বি হিন্দু একাডেমী (নতুন ভবন মহিলা-৬২৪), ১০২ বরেন্দ্র কলেজ রাজশাহী ঘোরামারা (১১৪৩) ও ১০৩ রাজশাহী ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র, মডেল স্কুল রেশমপট্টি, ঘোরামারা (২৯৮) প্রথম হয়েছেন। এছাড়া খায়রুজ্জামান লিটন তার নিজের ভোট কেন্দ্র ৬৩ উপ-শহর স্যাটেলাইট টাউন হাইস্কুল কেন্দ্রে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের চেয়ে ১৬৮ ভোট কম পেয়েছেন। এই কেন্দ্রে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল পেয়েছেন ৫২৯ ভোট এবং খায়রুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৩৬১ ভোট। অবশ্য এটি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলেরও নিজের কেন্দ্র। বুলবুল ৪ নম্বর বুথে এবং লিটন ৫ নম্বর বুথে নিজেদের ভোট দিয়েছেন।
এদিকে লিটন নারীদের ভোটও তুলনামূলক কম পেয়েছেন। পক্ষান্তরে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ২২ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পৃথক নারী ভোট কেন্দ্র ছাড়া বাকি সবগুলো নারী ভোট কেন্দ্রে সর্বাধিক সংখ্যক ভোট পেয়েছেন।
কাউন্সিলরদের ১৮ জন নতুন মুখ
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে ফলাফল ঘোষিত ২৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে নির্বাচিত কাউন্সিলরদের ১৮ জনই নতুন মুখ। বাকি ১১ জন পুনঃনির্বাচিত হয়েছেন। এদের মধ্যে ২ জন টানা ৪ বার, ৬ জন ৩ বার এবং ৬ জন ২ বার নির্বাচিত হয়ে রেকর্ড গড়েছেন।
অন্যদিকে সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৮ জনই নতুন মুখ। এদের মধ্যে ২ জন ৩ বার এবং ৩ জন ২ বার নির্বাচিত হয়েছেন। জানা গেছে, রাসিকের ২০নং ওয়ার্ড থেকে মুস্তাক হোসেন রতন এবং ২২নং ওয়ার্ড থেকে আব্দুল হামিদ সরকার টেকন এ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৪টি নির্বাচনেই ধারাবাহিকভাবে জয়লাভ করেছেন। অন্যদিকে পরপর ৩ বার নির্বাচিত হয়েছেন ২১নং ওয়ার্ডের নিযাম উল আযীম, ১৩নং ওয়ার্ডের রবিউল আলম মিলু, ১নং ওয়ার্ডের মনসুর রহমান, ১৬নং ওয়ার্ডের বেলাল আহম্মেদ, ২৭নং ওয়ার্ডের আনোয়ারুল আমিন আযব এবং মাজে একবার বিরতি দিয়ে ২৫নং ওয়ার্ডের তরিকুল আলম পল্টু। ২ বার নির্বাচিতরা হলেন, ১৪নং ওয়ার্ডের মোঃ টুটুল, ১৫নং ওয়ার্ডের মোঃ আব্দুস সোবহান, ১৯নং ওয়ার্ডের নূরুজ্জামান টিটো, ২৬নং ওয়ার্ডের নূর মোহাম্মদ মোল্লা, ২৯নং ওয়ার্ডের শাহজাহান আলী এবং ৩০নং ওয়ার্ডের মোঃ আব্দুস সোবহান।
সংরক্ষিত জোনে ২ জন ৩ বার এবং অপর ৩ জন ২ বার করে নির্বাচিত হয়েছেন। ৩ বার নির্বাচিতরা হলেন, ৪নং জোনের বিলকিস বানু এবং ৯নং জোনের মোসা নূরুন্নাহার। ২ বার নির্বাচিতরা হলেন, ৩নং জোনের মুসলিমা বেগম বেলি, ৭নং জোনের নাজমা খাতুন এবং ৮নং জোনের শাহনাজ বেগম শিখা। এদিকে এবার ১০টি জোন থেকে নির্বাচিত সংরক্ষিত কাউন্সিলরদের ৩ জন আওয়ামী লীগ, ৩ জন বিএনপি, ২ জন জামায়াত এবং অপর ২ জন স্বতন্ত্র বলে জানা গেছে।