দিনাজপুরে চালের দাম কেজি প্রতি ৬ থেকে ৮ টাকা বৃদ্ধি
স্টাফ রিপোর্টার, দিনাজপুর
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৩, ২১:২৬
ধানের জেলা দিনাজপুরে বেড়েছে চালের দাম। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে কেজি প্রতি চালের দাম বেড়েছে ৬ থেকে ৮ টাকা। হঠাত্ এই চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ। মাত্র ১৫ দিন আগে দিনাজপুরে বি-আর ২৮ চাল বিক্রি হতো ২৫ থেকে ২৬ টাকা কেজি আর পারি বিক্রি হতো ২৭ টাকা কেজি, মিনিকেট ৩২ টাকা এবং অন্যান্য হাইব্রিড জাতের মোটা চাল ২৩ থেকে ২৪ টাকা দরে। কিন্তু পনেরো দিনের ব্যবধানে গতকাল বুধবার দিনাজপুর শহরের সবচে বড় চালের বাজার এনএ মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৩২ থেকে ৩৪ টাকা, পারি ৩৪ টাকা এবং অন্যান্য হাইব্রিড জাতের মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে।
এনএ মার্কেটে চাল কিনতে আসা রিকশা চালক কাশেম আলী ইত্তেফাককে জানান, আয় না বাড়লেও বেড়েছে চালের দাম। এতে তার পরিবারের আহার যোগাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
দিনাজপুরসহ এই অঞ্চলে অনেক কৃষক ধান কাটা-মাড়াই মৌসুমে ধান বিক্রি করে দেন। পরে তারা চাল কিনে খান। শহরের উপকণ্ঠের প্রান্তিক কৃষক আলাল হোসেন জানান, প্রতিবছর ধান কাটার পর তা বিক্রি করে দেন তিনি। পরে প্রতিমাসে চাল কিনে পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে থাকেন। তিনি জানান, প্রথম অবস্থায় কম দামে ধান বিক্রি করার পর এখন তাকে বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। এ জন্য মজুদদারদের দায়ী করেন তিনি।
তিনি অভিযোগ করেন, মজুদদাররা কম দামে ধান কিনে তা মজুদ করে রেখেছে। আর এ জন্যই ইচ্ছেমত চালের দাম বাড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। চালের দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা দায়ী করলেন মিল মালিকদের। শহরের এনএ মার্কেটের চাল ব্যবসায়ী সুমন জানান, মিল মালিকরা সরবরাহ কম দেখিয়ে চালের দাম ইচ্ছামত বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি জানান, বেশি দামে চাল কিনে বাধ্য হয়েই তাদের বেশি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে মিল মালিকরা জানান, বাজারে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় বেড়েছে চালের দাম। বাংলাদেশ চালকল মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক সহিদুর রহমান পাটোয়ারী জানান, ধানের দাম প্রথম অবস্থায় কম ছিলো। কিন্তু এখন দিনাজপুরের বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি বেড়েছে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। আর এ কারণেই চালের দাম বেড়েছে বলে জানান তিনি। ধান-চালের বাজার ওঠা-নামার ব্যাপারে সরকারের বাজার মনিটরিং জোরদার করার উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
এদিকে বোরো ধান কাটা শেষ হওয়ার পর দিনাজপুরে ধানের দাম বেড়েছে। ধান কাটা-মাড়াই শুরুর সময় দিনাজপুরে কৃষকরা বোরো ধান বিক্রি করে সাড়ে ৪’শ থেকে ৫’শ টাকা মণ দরে। কিন্তু এখন কৃষকদের ঘরে ধান শেষ হওয়ার পর সেই ধান বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৬’শ থেকে ৭’শ টাকা মণ দরে। এতে কৃষককে আর্থিকভাবে লোকসানের পাশাপাশি ভোক্তাদের বেশি দামে এখন চাল কিনতে হচ্ছে।