বিসিবির হুঁশিয়ারির পর পিছু
হটল খেলোয়াড়রা
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৩, ২১:৫১
খেলোয়াড়দের প্রিমিয়ার লিগ বর্জনের হুমকির উত্তরে প্রথম দিনেই শীর্ষ ক্লাবগুলো ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছিল। কাল বিসিবি সভাপতি একবার হুঁশিয়ার করে দিলেন খেলোয়াড়দের। এরপর কয়েকটি ক্লাবও জানালো, এই খেলোয়াড়রা তাদের অবস্থান থেকে না সরলে কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে তারা।
এসব কঠোর কথার কারণেই হোক আর আলোচনার ভেতর দিয়ে হোক; নিজেদের অবস্থান থেকে কাল বিকালেই সরে এলো ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (কোয়াব)। দুপুরে বিসিবি সভাপতির সংবাদ সম্মেলনের পর ক্রিকেট কমিটি ঢাকা মেট্রোপলিশ (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস ও বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান এনায়েত সিরাজের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিল কোয়াব। এই আলোচনার পর নরমভাবেই মোটামুটি নতুন সব নিয়ম মেনে নেয়ার কথাই বললেন ক্রিকেটাররা। ক্রিকেটারদের প্রতিনিধি হিসেবে সভায় থাকা তুষার ইমরান একটি সংবাদ সংস্থাকে বলেছেন, ‘আমরা সব ক্রিকেটারের সঙ্গে আলাপ করেছি। তারা এ বছরের জন্য গ্রেডিং মেনে নিয়েছেন। আর টাকা পয়সার ব্যাপারে সিরাজ ভাই ও জালাল ভাই দেখবেন বলেছেন।’
ক্রিকেটারদের এই একশ’ আশি ডিগ্রি ঘুরে যাওয়াটা অবশ্য সহজে হয়নি। এর আগে ক্লাবগুলো আবারও কড়া ভাষায় তাদের অবস্থানের সমালোচনা করেছে। মোহামেডান ক্লাবের ডাইরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভুঁইয়া বলছিলেন, ‘আগামীকালের (আজ) মধ্যে সিদ্ধান্তে না এলে আমরাই প্রিমিয়ার লিগ বর্জন করবো।’ এদিকে আবাহনী ক্লাবের ক্রিকেট কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হায়দার মল্লিক আরও কঠোর অবস্থান নেয়ার কথা বলেছিলেন, ‘তারা যদি খেলতে না চায় তবে আমরা প্রয়োজন হলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বিভাগ খেলোয়াড় দিয়ে লিগ শুরু করবো। যদি বোর্ড সভাপতি বলেন লিগ খেলতে, আমরা প্রয়োজন হলে তাই করবো।’
আর সবকিছুর আগে বোর্ড সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন তার সংবাদ সম্মেলনে কঠোর ভাষায় ক্রিকেটারদের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছিলেন।
কোয়াবের ব্যানারে খেলোয়াড়রা লিগ বয়কটের আন্দোলন করছিল। এরমধ্যে বিসিবির চুক্তিবদ্ধ ১১০ জন খেলোয়াড়ও রয়েছে। বিসিবির বিরুদ্ধে এসব খেলোয়াড়দের আন্দোলনে কোড অব কন্ডাক্টের বিরোধী হয় কি না, এমন প্রশ্নে বোর্ড সভাপতি বলেন, ‘চুক্তিবদ্ধ খেলোয়াড়রা খেলতে বাধ্য। বিসিবির যদি কোন টুর্নামেন্ট হয় অবশ্যই খেলতে বাধ্য তারা। খেলবো না মানে কি? আমার মনে হয় খেলোয়াড়রা এসব জিনিস বুঝে বলছে নাকি না বুঝে বলছে; এটা বের করা দরকার। আমাকে একটু সময় দেন, আমার দৃঢ় বিশ্বাস, যে সমস্যা রয়েছে এটা খুব শীঘ্রই সমাধান হয়ে যাবে।’
প্রিমিয়ার লিগ না খেললে খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিবে বোর্ড এটি বোর্ড সভাপতির কথাতেই পরিষ্কার। কিন্তু বোর্ড সভাপতি হিসেবে নাজমুল হাসান পাপন সবার অভিভাবকও। অভিভাবক হিসেবেও কি খেলোয়াড়দের এই দাবির ব্যাপারে কোন চিন্তা ভাবনা করবেন না? এবার বোর্ড সভাপতিকে বেশ হতাশই লাগল।
সভাপতি কোয়াবের এই টাকার দাবি তোলার সময়বোধ দেখেই বিস্মিত। ক্রিকেট যখন ফিক্সিংকাণ্ডে কাঁপছে সেই সময়ে কোয়াব এই দাবি কি করে তুললো, সেটা ভেবে অবাক তিনি, ‘আকসুর রিপোর্ট নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার দিন বিকালে আশরাফুল স্পট ফিক্সিংয়ের স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। ক্রিকেটে এরপরের খবরই হল টাকা। কোয়াব তাদের একটা সংগঠন; তাদের উল্টো খেলোয়াড়দের বোঝানো উচিত এরকম যেন না করে। আপনারাই বলেন, এমন একটি দিনে খেলোয়াড়রা এ ধরনের দাবি তোলা কি ঠিক হয়েছিল?’
তাহলে খেলোয়াড়রা তাদের পারিশ্রামিক নিয়ে যে দাবি তুলেছে সেটা কি শুরু থেকে ভিত্তিহীন? বোর্ড সভাপতি এবার যুক্তি খণ্ডালেন, ‘খেলোয়াড়রা কম টাকা পায় না। বলতে পারেন, তারা আশা করেছিল অনেক বেশি, সেটার চেয়ে এখনকার পারিশ্রমিক কম। খেলোয়াড়দের আয় কিন্তু গতবছরের তুলনায় দ্বি-গুণ। তারপরও যদি এরকম করতে থাকে তাহলে আমি আপনাদের মাধ্যমে তাদেরকে জানিয়ে দিতে চাই—শুধু টাকার জন্য যদি ক্রিকেটাররা খেলতে চায়, তাহলে আমাদের ক্রিকেটের কপালে দুঃখ আছে।’
এখন সব পক্ষের কাজ হল, সেই দুঃখটা যাতে না হয় সেই ব্যবস্থা করা!