লিগ নিয়ে শঙ্কায় স্বয়ং সভাপতিও!
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৩, ২১:৫২
ঢাকা মহানগরী প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে একটার পর একটা জটিলতা বাড়ছেই। সর্বশেষ খেলোয়াড়রা আগের পদ্ধতিতে দল বদল না হলে প্রিমিয়ার বর্জন করার ঘোষণা দিয়েছেন। সে সংকটের সমাধান হতে না হতে কাল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড সভাপতি ইঙ্গিত দিলেন ফিক্সিং কাণ্ড, আবহাওয়া ও ভেন্যু জটিলতা মিলিয়ে খোদ প্রিমিয়ার লিগই আছে অনিশ্চয়তার মধ্যে। এটুকু অন্তত পরিষ্কার বলে দিলেন যে, আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিট (আকসু) থেকে বিপিএল সংক্রান্ত রিপোর্ট পাওয়ার আগ পর্যন্ত দল বদল বা লিগ শুরুর ইচ্ছা তাদের নেই।
গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে কথা বলতে গিয়ে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন বলেই ফেললেন, ২৩ জুন লিগের দল বদল ও ৩ জুলাই থেকে লিগ শুরু করা নিয়ে সংশয় রয়েছে। অর্থাত্ এই মৌসুমের প্রিমিয়ার লিগ বোর্ডের দেয়া নির্দিষ্ট সময়ে মাঠে না গড়ানোর সম্ভাবনাই বেশি।
স্পট ফিক্সিংয়ে মোহাম্মদ আশরাফুলের স্বীকারোক্তি এবং আকসুর কয়েকদফা জিজ্ঞাসাবাদের পর বোর্ড সভাপতি এখন দুশ্চিন্তায় রয়েছেন, কেচো খুঁড়তে না হয় সাপ বেরিয়ে আসে। বোর্ড সভাপতি তার শংকার কথা লুকাননি, ‘আকসুর রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত আমরা দলবদল করবো, এটা বলা খুব কঠিন। যদি আকসুর রিপোর্টে আরো কারোর নাম থাকে, তখন আমি কি অবস্থায় পড়বো? আল্লাহর কাছে দোয়া করি, যেন নতুন কারো নাম না আসে। যদি আসে তখন কি হবে? তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে যদি উল্টা-পাল্টা কিছু একটা হয়ে যায়, তখন কি হবে? আমি এ ঝামেলার মধ্যে পড়তে যাব কেন?’
আইসিসির বার্ষিক সাধারণ সভা ইংল্যান্ডে শুরু হবে ২৫ জুন থেকে। ধারণা করা যাচ্ছে পাঁচ দিনের এই সভা শেষে বিসিবি সভাপতির কাছে আকসু তাদের রিপোর্ট জমা দেবে। বোর্ড সভাপতিও তাই মনে করেন।
আকসুর রিপোর্টের পাশাপাশি বিসিবিকে ভাবতে হচ্ছে প্রিমিয়ার লিগ শুরুর মাঠ নিয়ে। এ মুহূর্তে বোর্ডের কাছে পর্যাপ্ত মাঠও নেই বলে জানালেন পাপন, ‘এ মুহূর্তে প্রিমিয়ার লিগ আয়োজন করার অবস্থা তো আসলে নেই। ভেবেছিলাম সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে করবো। টানা খেলা হবে, বৃষ্টির মৌসুম; এসব সমস্যা তো আছেই। সবচে বড় কথা একটা মাঠও নেই। একটা মাত্র মাঠ আছে—মিরপুর স্টেডিয়াম। সেটাও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ছেড়ে দিতে হবে। এ রকম একটা পরিস্থিতিতে প্রিমিয়ার লিগ খেলানোর মানেটা কি? সময়মত লিগ হল, এটাই কি প্রমাণ করার বিষয়? আমি লোক দেখানোর জিনিস কিছু করতে চাই না।’
ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (কোয়াব) ব্যানারে খেলোয়াড়রা গত সোমবার বোর্ডের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে। অতীতের নিয়মে প্রিমিয়ার লিগ না হলে তারা লিগ বর্জন করার সিদ্ধান্ত নেয়। বোর্ড সভাপতি অবশ্য বিষয়টিকে আমলে না নিয়ে উল্টো বললেন, ‘শুধুমাত্র খেলোয়াড়দের দাবিতে, ওদের স্বার্থে প্রিমিয়ার লিগ কিভাবে চালানো যায় সেটা চিন্তা করেছি। এখানে ক্লাবগুলো কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারে না, খেলোয়াড়রাও কোন সিদ্ধান্ত দিতে পারে না। তারা পরামর্শ দিতে পারে। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে বোর্ড।’