হেফাজতের সমাবেশে ব্যাপক প্রাণহানি হয়নি :প্রধানমন্ত্রী
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৩, ২২:৩৭
মতিঝিলের শাপলা-চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে ব্যাপক প্রাণহানির অভিযোগ আবারও নাকচ করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে এক অনির্ধারিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসলামের নামধারীরা অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, সেদিন নাকি মতিঝিলে ২/৩ হাজার মানুষ মারা গেছে। দেড় লাখ রাউন্ড গুলি ফুটানো হয়েছে। এতগুলি ফুটলে সেখানকার প্রতিটি ভবনের দেওয়ালে গুলির দাগ থাকতো। সে রকম কোনো দাগ তো নেই। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, সেখানে এত মানুষ মারা গিয়ে থাকলে তাদের লাশগুলো কি ভোজবাজির মতো উড়ে গেল ? এত মানুষ মারা গেলে তো অন্তত লাখখানেক লোক আহত হওয়ার কথা। কিন্তু সেটার তো কোনো প্রমাণ নেই। আহত কাউকে তো পাওয়া যায়নি ? তিনি বলেন, সেদিন মতিঝিলে অনেকেই গায়ে রং মাখিয়ে মাটিতে শুয়েছিল। এরপর পুলিশের তাড়া খেয়ে সেই লাশ দৌড় মেরেছে। পদ্মা সেতু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলতি জুন মাসের শেষ দিকে নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়নের জন্য এই সেতুর মূল দরপত্র আহ্বান করা হবে।
বিরোধী দলের অভিযোগের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, আমার ছেলের বউ নাকি ইহুদি। আমার ছেলের বউকে তারা ইহুদি বানিয়ে দিয়েছে। আসলে সে ইহুদি নয়, খ্রীষ্টান। আমাদের আহলে কিতাব। অবশ্য ড. কামাল হোসেনের মেয়ের জামাই ইহুদি। তারা সম্ভবত ওটা বলতে গিয়ে ভুলে আমার ছেলের বউয়ের কথা বলেছে। তারা মিথ্যা তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করতে চায়। আমি তাদের উদ্দেশ্যে বলি, মিথ্যা তথ্য না দিয়ে যুক্তিনির্ভর কথা বলুন।
স্পিকার ড. শিরীন শারমীন চৌধুরীর সভাপতিত্বে গতকাল সংসদের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে অনির্ধারিত আলোচনার এক পর্যায়ে বিকাল সাড়ে ৪টায় বক্তব্য দিতে দাঁড়ান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
প্রসঙ্গ পাল্টে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেদিনে আমি পার্লামেন্টে বলেছিলাম এবার যদি তত্ত্বাবধায়ক আসে তাহলে আর নির্বাচনই হবে না। এখন বলা হচ্ছে যে, আমি নাকি বলেছি যে, আর ইলেকশনই হবে না।
শেখ হাসিনা বলেন, আসলে সেদিন মতিঝিলে সে রকম কোনো গুলি হয়নি। কোনো মানুষ মারাও যায়নি। অলিগলিতে পালিয়ে থাকা মাদ্রাসার বাচ্চা বাচ্চা ছেলেদের নিয়ে বাসে তুলে দেওয়া হয়েছে। পরে মাদ্রাসাগুলোতে খোঁজ নিয়ে কোনো মিসিং লিস্ট পাওয়া যায়নি। রুয়ান্ডার গণহত্যার ছবি দেখিয়ে বলা হচ্ছে যে, লাশের স্তূপের ছবি।
পদ্মা সেতুর দরপত্র
প্রধানমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, দরপত্র আহ্বানের পরই ঠিকাদার নিয়োগের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের মেয়াদেই সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করা হবে। তাছাড়া সেতু প্রকল্পের নিরাপত্তা ও তদারকির জন্য সেনাবাহিনীর একটি কম্পোজিট ব্রিগেড গঠনের আদেশ দেয়া হয়েছে।
সন্ত্রাস দমনে সরকারের
দৃষ্টিভঙ্গি জিরো টলারেন্স
সামশুল হক চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, সন্ত্রাস নিরোধে বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি জিরো টলারেন্স। বাংলাদেশ এখন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক উভয় ক্ষেত্রেই সন্ত্রাস নিরোধে সম-অংশীদার হিসাবে জাতিসংঘ এবং অন্য সংস্থার সাথে একযোগে কাজ করে চলেছে।
সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধের
অভিপ্রায় সরকারের নেই
এএম মাহবুব উদ্দিন খোকনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোন দল বা সংগঠন শান্তিপূর্ণ সভা-সমাবেশ করার প্রতিশ্রুতি দিলে সরকারের দিক থেকে কোন বাধা দেয়া হবে না। তবে সংবিধানের রীতি ও আইনের আওতার মধ্যে সভা-সমাবেশ হতে হবে। কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের সভা বা সমাবেশ নিষিদ্ধ করার কোন অভিপ্রায় সরকারের নেই।
তিনি আরও বলেন, গত ৩ থেকে ৬ মে হেফাজতে ইসলাম নামের সংগঠনের সাথে জামায়াত, ছাত্রশিবির, ছাত্রদল ও বিএনপি এক হয়ে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সমাবেশ থেকে নির্দোষ ও পক্ষপাতহীন সাধারণ জনগণের দোকানপাট লুট ও অগ্নিসংযোগ করে। এতে যে ক্ষতিসাধন হয়েছে তার পরিমাণ নির্ধারণ করার জন্য এবং তা ভবিষ্যতে নিবারণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের তরফ থেকে মূল্যায়ন ও নিরূপণে পরবর্তীতে একমাস ঢাকা মহানগরীতে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছিল।
শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ
মোহাম্মদ ফজলুল আজিমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার ইতিমধ্যে বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। পেট্রোবাংলা সে আলোকে গ্যাস সংযোগ প্রদানের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। অপরদিকে শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ প্রদানের লক্ষ্যে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টাকে আহ্বায়ক করে ছয় সদস্যের কমিটি বর্তমানে কাজ করে যাচ্ছে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ইতিমধ্যে বেশকিছু শিল্প প্রতিষ্ঠানে গ্যাস সংযোগ প্রদান করা হয়েছে।
ইএনটি ইনস্টিটিউট উদ্বোধন
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক উদ্বোধনের পর বুধবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ইএনটি ইনস্টিটিউট জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত হাসপাতালটিতে একটি আন্তর্জাতিক মানের অডিও-ভেস্টিবুলার ল্যাব, স্পি ল্যাব ও ভয়েস স্টাডি ল্যাব থাকবে। এতে বধির ও অন্যান্য ইএনটি রোগের অত্যাধুনিক চিকিত্সা সরঞ্জাম থাকবে।