দর্শক-ক্রেতা ছাড়াই চলছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বইমেলা

এ রকম হওয়ার কথা কেউই ভাবেনি। আয়োজনে তেমন কোনো ঘাটতি কারো চোখেও পড়েনি। প্রতিদিনই রয়েছে জিমনেশিয়াম চত্বরে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বইমেলার নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানমালা। কিন্তু ঢাকা ও চট্টগ্রামের বই বিক্রেতা এবং মেলায় অংশ নেয়া দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকাশনা সংস্থার প্রতিনিধিরা ইত্তেফাককে জানান, দশদিনব্যাপী জাতীয় মানের এই মেলার পাঁচদিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও এখানে বইয়ের কোনো বিক্রি নেই। নেই দর্শক-ক্রেতার কোনো সমাগম। বই বিক্রেতারা এই হতাশাজনক পরিস্থিতির জন্য অপর্যাপ্ত প্রচারণা, প্রতিকূল মৌসুমে মেলার আয়োজন ও মেলা আয়োজনের স্থান নির্বাচনকে দায়ী করেছেন। তারা বলেন, সার্কিট হাউজ সংলগ্ন এই স্টেডিয়ামপাড়ায় খেলোয়াড়দের আনাগোনা চোখে পড়ছে প্রতিদিন। কিন্তু বই-পাগল সংস্কৃতিমনা এবং নিয়মিত যারা বই কেনেন এমন মানুষদের আমরা মেলার আশেপাশেও পাচ্ছি না। আগামী ২৪ জুন শেষ হবে এই বইমেলা। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের উদ্যোগে এবং চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রাম স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়াম চত্বরে দশদিনব্যাপী এই বিভাগীয় বইমেলা গত ১৫ জুন উদ্বোধন হয়। বইমেলায় অংশ নিচ্ছে সর্বমোট ৮৫টি প্রতিষ্ঠান। ঢাকা থেকে এসেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় সৃজনশীল ৫২টি প্রকাশনা সংস্থা। প্রকাশনা সংস্থা মুক্তধারার নির্বাহী পরিচালক সজিব সাহা ইত্তেফাককে বলেন, ঢাকার অমর একুশে গ্রন্থমেলার আদলে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। অথচ গত ৪/৫ দিন দর্শক-ক্রেতাদের অনুপস্থিতি বিক্রেতাদের দারুণভাবে হতাশ করেছে। যারা প্রতিবছর চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় গিয়ে একুশের বইমেলায় বই কিনতে পারেন না, তাদের জন্য সরকারের উদ্যোগে এই বইমেলা একটি বড় সুযোগ। জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের সহকারী পরিচালক সুহিতা সুলতানা ইত্তেফাককে বলেন, এই মেলার জন্য প্রচার-প্রচারণা যথেষ্ট করা হয়েছে। দর্শক-ক্রেতারা কেন আসছেন না বোঝা যাচ্ছে না। প্রতিকূল মৌসুমে কেন এই এই আয়োজন করা হলো প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অর্থবছরের এখন শেষ পর্যায়। বর্ষা মৌসুম বিবেচনায় মেলার আয়োজন জিমনেশিয়ামের ভেতরে করা হয়েছে। তাছাড়া এই মুহূর্তে মেলাটি করা না হলে বরাদ্দকৃত টাকা সরকারের তহবিলে ফেরত যেতো। কাজেই বই ক্রেতা পাঠকদের স্বার্থে এই মেলার আয়োজন। জনগণের অংশগ্রহণে এই বই মেলা সার্থক হয়ে ওঠতে পারে। ঢাকার কালধারা প্রকাশনী, ঢাকার নবরাগ প্রকাশনী মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, ঢাকার প্রথমা প্রকাশনীর সনাতন বড়াল, চট্টগ্রামের বলাকা প্রকাশনীর পলাশ, ঢাকার ভাষাচিত্র প্রকাশনীর তানভির, সুচয়নী প্রকাশনীর মোহাম্মদ সাইদুল হক, ঢাকার জাতীয় সাহিত্য প্রকাশের আলিমুল রাজি এবং চট্টগ্রামের মিশমা বুক সাপ্লাইয়ের জমির আলীর এই বইমেলা নিয়ে প্রতিবেদককে বলেন, স্টলে অবস্থানকারী জন প্রতি বিক্রেতার মাথাপিছু দৈনিক খরচ ৩০০ টাকা। অথচ বই বিক্রি নেই বলে খরচের টাকাটাও উঠবে না বলে আমরা আশংকা করছি। বিক্রেতাদের কারো কারো মতে, মেলা আয়োজনের স্থানটি মোটেও সঠিক হয়নি। প্রচারণার অভাবে এই মেলার খবর অনেকে জানেন না। এক প্রকাশনী সংস্থার প্রতিনিধি জানালেন, তারা কক্সবাজার ও টাঙ্গাইলে বইমেলা করতে গিয়ে অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছিলেন। চট্টগ্রামের ক্রেতা-দর্শকবিহীন মেলা তাদের বিস্মিত করেছে।