বিয়ে করলেই আমেরিকা!

‘পাত্রী যে বয়সেরই হোক, বিয়ে করলেই অনায়াসে স্বপ্নের দেশ আমেরিকার নাগরিক। আর এ জন্য প্রয়োজন এক থেকে পাঁচ লাখ টাকা।’ আমেরিকা! অনেকের কাছেই স্বপ্নের দেশ। আর এ কাঙ্ক্ষিত দেশে যেতে কত না গলদঘর্ম হয় মানুষ। তারপরও অধিকাংশের পক্ষে এ স্বপ্নের দেশে যাওয়ার ইচ্ছা স্বপ্নই থেকে যায়। কিন্তু শুধু বিয়ে করেই যদি স্বপ্নের দেশে পা রাখা যায়, সেটা বলতে হবে, শুধু উত্তম না, অতিউত্তম। আর মানুষের এই দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে একটি চক্র দিনের পর দিন মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছে। এ প্রতারণা করছে ম্যারেজ মিডিয়ার নামে। এমনই একটি সংঘবদ্ধ চক্রকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। র্যাব-১ এর একটি টিম গতকাল বুধবার রাজধানীর উত্তরা থেকে মহিলাসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা প্রতারণার বিস্তারিত বর্ণনা করেছে। র্যাব কর্মকর্তাদের কথায়, এদেরকে প্রতারক বললে, ভুল বলা হবে। বলতে হবে মহাপ্রতারক। গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে খুলনা জেলার সদর থানার বুড়িয়ার ডাঙ্গা গ্রামের হাফিজুর রহমান, ঝালকাঠি জেলার খোকনদিয়া গ্রামের মহিউদ্দিন খান মাসুদ, নরসিংদী জেলার রায়পুর থানার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মানিক মিয়া, নওগাঁ পত্নীতলার কিবরিয়া, মাদারীপুর জেলার নতুন বাজার এলাকার মোহাম্মদ রুমীর স্ত্রী পারুল আক্তার, নরসিংদী জেলার রায়পুরা এলাকার মানিক মিয়ার স্ত্রী শামসুন্নাহার, কিবরিয়ার স্ত্রী নাজমা বেগম ও পটুয়াখালী জেলার কাঠপট্টি এলাকার খোকন মিয়ার স্ত্রী হেনা আক্তার। অভিযান পরিচালনাকারী র্যাব কর্মকর্তা সিনিয়র এএসপি ডাক্তার মঞ্জুর মোর্শেদ জানান, গ্রেফতারকৃতরা উত্তরার ৫ নম্বর সেক্টর, রোড-৫/এ বাসা নম্বর ৯-এ ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে প্রতারণা করে আসছিল। তারা প্রথমে বিভিন্ন পত্রিকায় পাত্র-পাত্রী চেয়ে চটকদার বিজ্ঞাপন দিত। আর ঐ বিজ্ঞাপন দেখে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত লোকজন তাদের কাছে হুমড়ি খেয়ে পড়তো। পাত্রীর ব্যাপারে তাদের আলাদা আলাদা পদ্ধতি ব্যবহার করতো। দাঁড়িওয়ালা পাত্রের জন্য পর্দানশীল পাত্রী, আধুনিক ছেলের জন্য আধুনিক পাত্রী আর বিপত্নীক পাত্রের জন্য বিধবা পাত্রী। আর এর বিনিময়ে তারা ধাপে ধাপে কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিত। তিনি বলেন, এদের কথাবার্তার মধ্যে কোনভাবেই সন্দেহ করার সুযোগ নেই। প্রতারিতদের মধ্যে দেখা গেছে ৬০ বছরের বৃদ্ধ বিয়ের জন্য তাদের দারস্থ হয়েছে। পাত্রী দেখানোর মধ্যে রয়েছে নানা ছলচাতুরি। পাত্রী দেখানোর পরই কাঙ্ক্ষিত ব্যক্তির কাছ থেকে পাসপোর্ট নিয়ে নিত। এএসপি মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, চক্রের অপর সহযোগীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। গ্রেফতারকৃতরা জানায়, সাধারণত তারা বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ‘প্রবাসী পাত্রীর জন্য পাত্র চাই’ এমন চটকদার বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে দেশের বেকার ও বিদেশে গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরে পাত্র তাদের অফিসে এলে কথিত পাত্রীসহ তারা যে কোন হোটেলে বসে কথাবার্তা চূড়ান্ত করে চুক্তিতে উপনীত হয় এবং পাত্রের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয়া শুরু করে।