রিফুয়েলিং স্টেশনের জন্য চালু হচ্ছে না সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট
হুমায়ূন রশিদ চৌধুরী, সিলেট অফিস
প্রকাশ : ১৯ জুন ২০১৩, ২২:৪২
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর হয়ে ওঠেনি। ২০১১ সালে রিফুয়েলিং স্টেশন নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ভূমি সংক্রান্ত জটিলতায় কাজ শেষ হয়নি। আগামী বছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। তবে নির্মাণ কর্তৃপক্ষ বলছে, দ্রুত কাজ চলছে, আগামী অক্টোবরে রিফুয়েলিং স্টেশনটি উদ্বোধন করা হতে পারে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রিফুয়েলিং স্টেশন নির্মাণের ওপর নির্ভর করছে লন্ডন-সিলেট সরাসরি ফ্লাইট চালু করা।
এদিকে সিলেট-লন্ডন সরাসরি ফ্লাইট চালু, বিমানবন্দরে যাত্রী হয়রানি বন্ধ ও সিলেট থেকে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চালুর দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রেখেছে সিলেট কল্যাণ সংস্থা। দাবি আদায়ে গতকাল বুধবার সংগঠনটি কোর্ট পয়েন্টে রোদের মধ্যে সড়কে ১০ মিনিট শুয়ে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করে। সংগঠনটির সভাপতি মো. এহসানুল হক তাহের বলেন, দাবি আদায় না হলে আগামী পহেলা জুলাই তারা সিলেট বিমানবন্দর ঘেরাও কর্মসূচি পালন করবে।
জানা গেছে, ২০০৬ সালের ১২ মার্চ দুবাই থেকে আসা একটি এয়ারবাস অবতরণের মাধ্যমে ওসমানী বিমানবন্দরে প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হয়। ২০০৭ সালের ৯ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ইফতেখার আহমদ চৌধুরীর প্রচেষ্টায় লন্ডন থেকে দুবাই হয়ে ওসমানীতে অবতরণ করে বাংলাদেশ বিমানের একটি সুপরিসর এয়ারবাস (ডিসি-১০)। কিন্তু ২০১১ সালের ডিসেম্বর থেকে সেই ফ্লাইটটি বন্ধ হয়ে যায়। প্রথমে শোনা যাচ্ছিল ঘন কুয়াশার কারণে সিলেটে ফ্লাইট নামতে পারবে না তাই কিছুদিন সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ থাকবে। পরে জানা যায় রিফুয়েলিং জনিত সমস্যার কারণে সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ। পরবর্তীতে সিলেটের প্রবাসীদের চাপে প্রতি সপ্তাহে লন্ডন থেকে তিনটি ফ্লাইটের মধ্যে সরাসরি সিলেট আসে দুটি ফ্লাইট। অন্যদিকে সিলেট থেকে সপ্তাহে তিনটি ফ্লাইট হজরত শাহজালাল (র.) বিমানবন্দর হয়ে সরাসরি লন্ডন যায়।
সূত্র জানায়, কনস্ট্রাকশন এভিয়েশন রিফুয়েলিং ফ্যাসিলিটিজ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় প্রায় এক একর জমিতে রিফুয়েলিং স্টেশন নির্মিত হচ্ছে। ৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় বিমানের জন্য রিফুয়েলিং স্টেশনের কাজ চলছে দ্রুত। দক্ষিণ সুরমার বাবলা পয়েন্ট এলাকায় প্রকল্পের আওতায় ৫ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি স্টোরেজ ট্যাংক, তিন তলা অফিস ভবন, বিদ্যুত্ উপকেন্দ , রেস্ট হাউস, গ্যারেজ, অফিসার্স রুম ও স্টাফ রুম তৈরি হবে। ২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বিমানবন্দরে তিনটি স্টোরেজ ট্যাংক, পাইপলাইন, ডিসপেনসার, ফিল্টারিং স্থাপন করা হবে। এছাড়া দুটি ডিসপেনসার ও দুটি ট্যাংকলরি স্থাপন করা হবে। ২০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার জেট ফুয়েল পরিবহন করার জন্য অত্যাধুনিক ট্যাংক স্থাপন করা হবে। জানা যায়, প্রকল্পের অর্ধেক কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজগুলো দ্রুত শেষ করার প্রচেষ্টা চলছে।
বিমানবন্দরের কর্মকর্তারা জানান, রিফুয়েলিং স্টেশনটি স্থাপিত হলে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পরিণত হবে ওসমানী বিমানবন্দর। সিলেট চেম্বারের পরিচালক লায়েস উদ্দিন বলেন, রিফুয়েলিং সিস্টেম স্থাপিত হলে সিলেট থেকে নানা প্রকার পণ্য রফতানি সহজ হবে। সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে। যাত্রীদের বিড়ম্বনা কমবে। প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।