খোন্দকার আশরাফ হোসেনের কাছে খোলাচিঠি

আশরাফ ভাই, কোথায় আছেন এখন? কোন অভিমানে আমাদের ছেড়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের মায়া কাটিয়ে, সরিষাবাড়ির মৃত্তিকাকে ভুলে গিয়ে আপনি চলে গেলেন অনন্তের পথে? কবিতা লেখার নতুন কোনো অমরাবতীর সন্ধান পেয়েছেন কি নতুন ভুবনে, কিংবা তিন রমণীর পর চতুর্থ কোনো রমনীকে? কী আছে ওই অজানা অমরাবতীতে যার টানে আপনি এভাবে চলে যেতে পারেন? কোন দিন কোন বছর কখন জানি হয়েছিল আপনার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয়। না, আজ আর তা স্মরণ করতে পারব না। তবে আপনার সঙ্গে আমার প্রথম প্রেম শুরু হয়েছিল মধ্য আশিতে কোনো এক সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের লাউঞ্জে—এ কথা এখনো মনে আছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যে বছর আমি যোগ দিই সে বছরই, সেই ১৯৮৪ সালে, বেরিয়েছে আপনার ‘তিন রমণীর ক্বাসিদা’। সে বই পাঠ করে মুগ্ধ হয়েছিলাম। আপনার সঙ্গে প্রথম পরিচয়ে ‘তিন রমনীর ক্বাসিদা’-র পাঠককে আপনি কাছে টেনে নিয়েছিলেন। নাম জিজ্ঞাসা করতেই যখন জানালাম বিশ্বজিত্, আপনি বিশ্বকে জয় করেছেন, আরবি ভাষায় তো আপনার নাম হবে আলমগীর। সেই থেকে আপনি আমাকে আলমগীর বলেই ডাকতেন—আমিও তাতে মজা পেতাম। সেই থেকে যখনই আপনার কোনো নতুন বই বেরিয়েছে আপনি আমাকে তা দিয়েছেন, দিয়েছি আমার সব বই আপনাকে। সেই দেওয়া-নেওয়ার মাঝেই আপনি তো আপনার এক অনুবাদগ্রন্থ আপনার ‘তিন বন্ধু’ তপোধীর ভট্টাচার্য, অঞ্জন সেন এবং বিশ্বজিত্ ঘোষ-কে উত্সর্গ করেছিলেন। মনে পড়ে আপনার সেই উত্সর্গপত্রের কথা—আপনি লিখেছিলেন চিত্তমনোহর এই শব্দগুচ্ছ :‘লিখে রেখো এক ফোঁটা ... ...।’ আপনি কি জানতেন আমাদের ছেড়ে আপনিই আগে যাবেন অমৃতলোকে, তা না হলে কেন লিখবেন ‘লিখে রেখো’-র কথা? আশরাফ ভাই, আমি ছিলাম আপনার কবিতার মুগ্ধ পাঠক। আপনার কবিতা ভালো লেগেছে—এ কথা বললেই আপনি আনন্দে আপ্লুত হতেন। নিজের কবিতার প্রশংসা শুনতে কিছুটা কি মুগ্ধতাও কাজ করত আপনার চিত্তলোকে? ‘পার্থ তোমার তীব্র তীর’ কাব্যের পাঠ-সমালোচনা লিখেছিলাম আমি। সে রচনা পাঠ করে আপনি প্রীত হয়েছিলেন। আপনার কবিতায় মিথ-পুরাণের ব্যবহারবৈচিত্র্য নিয়ে আমার বিশ্লেষণ আপনার ভালো লেগেছে জেনে আমিও খুশি হয়েছি। একে একে বেরিয়েছে আপনার ‘জীবনের সমান চুমুক’, ‘সুন্দরী ও ঘৃণার ঘুঙুর’, ‘নির্বাচিত কবিতা’, ‘যমুনাপর্ব’, ‘জন্মবাউল’—এসব কাব্য। আশরাফ ভাই, আপনার কবিতা যেমন আমাকে টানে তেমনি টানে আপনার গদ্যরচনা, আপনার অসামান্য সব অনুবাদ। ‘বাংলাদেশের কবিতা :অন্তরঙ্গ অবলোকন’, ‘চিরায়ত পুরাণ’, ‘বিশ্বকবিতার সোনালি শস্য’— এসব গদ্যগ্রন্থ যে একজন কবির রচনা, তা তো অনায়াসেই বলা যায়। খোন্দকার আশরাফ হোসেনের অনুবাদেরও তো কোনো তুলনা হয় না। সফোক্লিসের ‘রাজা ইডিপাস’, ‘ইউরিপিডিসের মিডিয়া’, ‘পাউল সেলানের কবিতা’—এসব অনুবাদকর্ম আপনার সৃষ্টিশীল প্রতিভার অসামান্য দৃষ্টান্ত। টেরি ঈগলটনের সাহিত্যতত্ত্ব অনুবাদে আপনার নিষ্ঠার তুল্য দৃষ্টান্ত খুব কি পাওয়া যাবে? সাধারণ ধ্বনিতত্ত্ব আলোচনাতেও আপনি দেখিয়েছেন অতুল আগ্রহের পরিচয়। ‘একবিংশ’ পত্রিকার এখন কী হবে আশরাফ ভাই? অত্যাধুনিক এই কবিতাপত্রটি কি আপনি কারও হাতে বুঝিয়ে দিয়ে গেছেন। কী নিপুণ বিন্যাসে আপনি সাজিয়ে তুলতেন ‘একবিংশ’ পত্রিকার প্রতিটি সংখ্যা। ‘একবিংশ’ পত্রিকার জন্য আপনি লেখা চেয়েছেন, লেখা ছেপেছেন। হয়তো আরও চেয়েছেন, কিন্তু সব চাওয়া কি পূরণ হয়, আশরাফ ভাই? আশরাফ ভাই, মনে পড়ে পঞ্চাশ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে আমরা মিলিত হয়েছিলাম সেমিনারের নামে মহা-আড্ডায়। আপনার কবিতার ওপর, নাকি ‘যমুনাপর্ব’ কাজের ওপর লিখেছিলাম একটি অনুলেখা। জানি, লেখাটি আপনার পছন্দ হয়েছিল। কি জানি, সে লেখা আপনি সাথে করে নিয়ে গেছেন কি না। তাই এখানে গ্রথিত করে দিলাম সে লেখা। ২. বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের পরীক্ষাপ্রবণ মেধাদীপ্ত এবং পরিশ্রমী কবিদের অন্যতম কবি খোন্দকার আশরাফ হোসেন। মিথের নবভাষ্য নির্মাণে, সাহিত্যিক-ঐতিহ্যকে ভেঙে নতুন সাহিত্য বিনির্মাণে এবং শব্দের বহুমাত্রিক নিপুণ বিন্যাসে খোন্দকার আশরাফ হোসেনের কবিতা আমাদের সাহিত্যের ধারায়, আশির দশকে, নিয়ে এসেছিল নতুন আস্বাদ। মিথকে ভেঙে তিনি নির্মাণ করেন নতুন মিথ, পূর্বসূরি কোনো কবির একটি চরণ বা চরণাংশকে ব্যবহার করে সৃষ্টি করেন জীবনের নতুন শব্দভাষ্য। অসামান্য স্বাতন্ত্র্যে সংস্কৃত ও দেশি শব্দের সঙ্গে তিনি মিলিয়ে দেন আরবি-ফারসি কি ইংরেজি শব্দ—হঠাত্ করেই কবিতার শরীরে ও সত্তায় মিথ আর সমকাল হয়ে যায় একাকার। খোন্দকার আশরাফ হোসেনের কাব্যযাত্রা শুরু হয়েছিল, মধ্য আশিতে, তিন রমণীর নান্দীপাঠ দিয়ে। তারপর প্রায় দু-দশকে কবিতার বিচিত্র কক্ষপথ প্রদক্ষিণ করে খোন্দকার আশরাফ হোসেন অবশেষে এসে দাঁড়িয়েছেন যমুনাতীরের কদম্বতলায়। ওই যমুনাতীরে ওই কদম্বতলায় সেদিন ছিল রাধা আর এদিনে আছে নূরজাহান আর বাসন্তীরা। তাহলে কি এই কথা দাঁড়ায়—রাধা নূরজাহান আর বাসন্তীর অন্তরালে হাজার বছরের বাঙালি নারী এক অভিন্ন সত্তায় গ্রথিত হয় প্রবহমান যমুনাজলে। যমুনার স্রোতোধারাই কি লক্ষ নারীর অনন্ত আবেগ আর অতল যন্ত্রণার কথকতা শোনায় অবিরল? ‘যমুনাপর্ব’ কাব্যগ্রন্থে নারীর ছবি এসেছে নানা রূপে বিচিত্র বর্ণে। বোঝা যায়, খোন্দকার আশরাফ হোসেন নারীর আশ্রয়েই পৌঁছাতে চান তাঁর অন্বিষ্টলোকে। নারী তাঁর কাছে সুস্থিরতা, প্রত্যয় আর প্রমূল্যের প্রতীক। খোন্দকার আশরাফ হোসেনের নারীরা প্রবহমান মানবস্রোতের মধ্যে পরস্পর সম্পর্ক নির্মাণ করেছে, সম্পর্ক নির্মাণ করেছে মিথ-ঐতিহ্যের সঙ্গে সংরক্ত সমকালের, প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের। এ সূত্রেই Simon de Beauvoir—কথিত মহামাতার (Great Mother) এক অস্পষ্ট আভাস ফুটে ওঠে খোন্দকার আশরাফ হোসেনের নারীপ্রতিমায়। আশরাফ হোসেনের জননীরা সমস্ত ধস আর নাস্তির মধ্যেও আমাদের শোনায় মৃত্যুঞ্জয়ী গান, জননীর স্পর্শে কবি নিজেও খুঁজে নিতে চান সান্ত্বনা আর শুশ্রূষার অতুল অতল আশ্রয়— বলুন আজ আর কী লাভ আকাশ অকশানে বিক্রি হয়ে গেছে ফ্লাটব্যবসায়ীদের হাতে সমুদ্র এখন বহুজাতিকদের যথেচ্ছ চিংড়ির ঘের প্রতিটি কবির পেছনে ছুটে বেড়াচ্ছে নেড়িকুত্তার দল এখন দুন্দুভি বাজাবো, সেই উন্মাতাল যুদ্ধক্ষেত্র কই? সুরবাহারের ক্রন্দন থেমে গেছে যাক্ চড়ুইপাখির করুণ মৃত্যুকে শিশির জড়ানো হাতে একবার, জননীর মতো, ছুঁয়ে যেতে চাই। (অনন্ত নাগের গল্প) খোন্দকার আশরাফ হোসেনের নারীভাবনার এক বিশাল প্রান্তরজুড়ে আছে পুরাণের নারী—কৃষ্ণ-প্রতারিত রাধা। রাধার পৌরাণিক বেদনার সঙ্গে তিনি সমার্থকতার রেখা টেনেছেন এ কালের নারীর মর্মযন্ত্রণার। সমকালে নারীর নানামাত্রিক লাঞ্ছনার কথা বলতে গিয়ে তাই খোন্দকার আশরাফ হোসেনের কবিতায় প্রায়ই ফুটে ওঠে রাধা-চিত্র : ক. চারদিকে রোদের মাতম ওঠে হায়রে শ্রাবণ এখন মেঘের ধুলো স্বাগতম শাড়ির আঁচল শ্রীমতিবিহীন শূন্য ক্যাম্পাস-মথুরা। কবে আসবেন তিনি, কৃষ্ণ মেঘনাদ? (স্টিল লাইফ : ক্যাম্পাসে শ্রাবণ) খ. বর্ষাও সেবার ঘনঘোর এসেছিল কৃষ্ণের চোখের পল্লব ঘনসুর্মার স্বরে ডেকেছিল রাধিকাকে ‘আও’— আহা সেই বরিষণ, নৌকার ছৈয়ের মধ্যে ঠান্ডা হিম ইস্পাতের দ্রাক্ষা বুকে নিয়ে, উন্মথিত যমুনার কূলে কূলে সানন্দবাড়ি থেকে রৌহার চর, চন্দন-বাইশা থেকে মূলবাড়ি ফেরা। (মগ্নতার তিন কি. মি. আগে) গ. নর্দমায় মিছিল নেমেছে, চাই মুক্তি চাই হেঁকে যাচ্ছে মাছ, আষাঢ়ের প্রথম বর্ষণের যৌবনজলতরঙ্গের কই; কদম্ব বনের মধ্যে পলিথিন মাথায় ঘোরে রাধা। (চাদরের স্বৈরাচার) —উপর্যুক্ত প্রতিটি উদ্ধৃতিতেই সমকালীন বিশেষ কোনো অনুষঙ্গ প্রকাশের শিল্প-উত্স হিসেবে খোন্দকার আশরাফ হোসেন স্মরণ করেছেন পুরাণের নারী কমলিনী রাধিকাকে। কেবল রাধাই নয়, পুরাণের আরেক জীবনবিলাসী নারী বেহুলাও জাগ্রত করে কবি আশরাফ হোসেনের সংগোপন কবি-চৈতন্যকে। বেহুলা-মিথের আড়ালে তিনি নির্মাণ কনে জয়শ্রী জীবনের নতুন ব্যঞ্জনা, বেঁচে থাকার আকুল বাসনা। এইভাবে, আশরাফ হোসেনের সামূহিক নির্জ্ঞানে সঞ্চরণশীল বেহুলা বিনির্মাণের (deconstruction) নতুন অর্থ নিয়ে অভিব্যঞ্জিত হয়। অবরুদ্ধ বর্তমান থেকে উত্তরণের আকাঙ্ক্ষায় মিথের জগতে আশরাফ হোসেনের এই প্রত্যাবর্তন তাঁর সৃষ্টিক্ষমপ্রজ্ঞারই জাদুস্পর্শ, সন্দেহ নেই। এইভাবে পরিচিতকে তিনি অপরিচয়ের ব্যঞ্জনা দিয়ে উপস্থিত করেছেন পাঠকের সামনে, যেমন দেখি বেহুলাকে ‘টপ্পা ঠুংরি’ কবিতায়— ফুলে ফুলে ঢোল হলো সোয়ামির লাশ বসে আছি আজতক শুদ্ধ দশ মাস গাঙুড়ের জল থেকে গঙ্গার মোহনা তারপর নিরবধি ঠেলেছি উজান এখানে কলার পাতে রেখেছি যৌবন কেটে আহারে যৌবন সোনার শরীর যায় কলার মান্দাসে ভাসে কামিনী কাঞ্চন (যমুনাপর্ব :টপ্পা ঠুংরি) খোন্দকার আশরাফ হোসেনের কবিতায় পুরাণের বহু-শ্রুত নারীর পাশাপাশি চিত্রিত হয়েছে প্রান্তবাসী নিম্নবর্গের নারীরা—নাম যাদের নূরজাহান, বাসন্তী বা এমনি-ধরনের অন্য কেউ। মৌলবাদী বিমানবিকতার পাথুরে আঘাতে নূরজাহান আমাদের দেয় ফেলে আসা প্রস্তরযুগের লজ্জা, বাসন্তীর জাল আমাদের মানুষী অহংকারকে করে পরিহাস। নূরজাহান, সিলেটের কৃষককন্যা নূরজাহান, বেহুলারই উত্তর-প্রতিনিধি, বিশ শতকের নতুন মিথ। তাই তার মাঝে কিংবা বলি তার অস্তিত্বজিজ্ঞাসায় হঠাত্ করেই হেসে ওঠে আবাবিল পাখির ডানা-ঝাপটানো— পুবের বাতাস এসে তার কানে দিয়ে যায় কুমন্ত্রণা নুড়ি পাথর দিয়ে সে লিখে যাবে এক অনন্ত কবিতা, আপোলিনিয়রের মুুদ্রিত পৃষ্ঠা, যেখান থেকে অনন্ত বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ছে তিন হাজার সুগোল, কালো এবং নিষ্ঠাবান নুড়ি আর বেদনার সিমেন্টে গাঁথা হয়ে যায় নূরজাহান কালের হস্তাবলেপমাত্র সে পাথর হয়েছে একখণ্ড শোক। উড়ে যাওয়া একটি শাদা পাখি। ঐ মেয়ে একদিন আবাবিল হবে\ (নূরজাহান) চুয়াত্তরের বাসন্তী-উপাখ্যানকেও কবি নারীর লাঞ্ছনার অনন্তসূত্রে নতুন তাত্পর্যে অভিষিক্ত করেছেন। বাসন্তীর কথা বলতে গিয়ে তিনি হেঁটেছেন বৃন্দাবনের প্রান্তে, কখনো অনুসূয়া-প্রিয়ংবদাদের নন্দনকাননে; কিন্তু শেষ পর্যন্ত আবার ফিরে আসেন যমুনাতীরে, যেখানে—‘যমুনার তীর ধরে বাসন্তীর শেষ যাত্রা যায়। পরনে তাহার শতচ্ছিন্ন দেশ।’ পুরুষের পীড়নে ক্লান্ত নিম্নবর্গের অন্ত্যজ নারীরা আশরাফ হোসেনের সমকালভাবনার অন্যতম উদ্দীপক-উত্স। নারীর শরীর বিক্রির যন্ত্রণা, তার তালাকপ্রাপ্তির ভীতি তাকে নিয়ত করে রাখে অন্তোবাসী। ‘ননদ’ বা ‘আগন্তুক’ কবিতায় নিম্নবর্গের নারীর এই শরীরীলাঞ্ছনার কথা চিত্রিত হয়েছে, আর ‘মগ্নতার তিন কি.মি. আগে’ কবিতায় আছে তালাক-সংস্কৃতির ভয়বহতা— ক. যদি আর্জি করি মেঝেতে বিছানো আছে গোলাপী জাজিম সেখানেও হতে পারে, কেননা মৃত্যু আর ধর্ষণ ঠেকাতে না পারা গেলে উদ্যাপনই ভালো। (আগন্তুক) খ. বস্তুত ননদ আসে পিতৃহীন বাপের ভিটায় তার চোখে এখনও ঘর্ঘর শব্দ রেলের চাকার জাহাজের ভেঁপু আর পুরুষের কামমোহিতম্ লালচক্ষু গড়ে তোলে আলোর বর্তনী তারমধ্যে হতাশায় ঘুর্ণ্যমান ব্লাকহোল নাচে ঘটনার সাজিমাটি খোঁজে রুক্ষ মেয়েটির চুল। (ননদ) গ. নায়রী কোথায় যাবে গো? কুনঠে যাবেন বাহে তুমরা? সীকথা বইলে কী হবেক গ’, পোড়া কপাল হামার উথাল ভেঙেছে পাড়, যমুনার কূলে থাকি গরীব কিষাণ।... কালো নৌকা উজান চলে। কালো তার বুক মাছের আঙিনা দিয়া বধূ যায় পিতার সদনে— মাথার উপরে তার তিন অক্ষরের শব্দ তালাক তালাক। (মগ্নতার তিন কি.মি. আগে) খোন্দকার আশরাফ হোসেনের কবিতায় নারীরা শরীরসর্বস্ব নয়, বরং তারা মানবতা-অভিসারী; রিরংসার সাথী নয়, বিপন্নতায় বেঁচে থাকার অভয়-উত্স, যুদ্ধযাত্রার সারথি। পুরাণ আর সমকালের নারীরা আশরাফ হোসেনের কবিতায় ধ্রুপদি ব্যঞ্জনা নিয়ে নতুনভাবে নির্মিত। তাঁর নারীদের অবয়বে ভেসে ওঠে বিপন্ন বাংলাদেশের ছবি—তাঁর নারীরাই হয়ে ওঠে শকুনে খাবলে ধরা আমাদের স্বদেশের ঠিকানা। আবার একই সঙ্গে আশরাফ হোসেনের নারীরা আমাদের দীক্ষিত করে জীবনমন্ত্রে, হয়ে উঠতে বলে বেহুলার মতো জীবনবিলাসী, কিংবা নূরজাহানের মতো দৃঢ়প্রত্যয়ী সত্যসন্ধ। ৩. আশরাফ ভাই, ভালো থাকবেন। আমরা আছি আপনাকে নিয়ে, আপনার কবিতা নিয়ে, আপনার ‘একবিংশ’ নিয়ে। দেখা হবে আপনার সাথে কোনো একদিন—এই কথা জানিয়ে শেষ করছি। ভালো থাকুন আশরাফ ভাই, খুব ভালো।