চোকার অপবাদ স্বীকার
করলেন কারস্টেন!
প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৩, ২১:৩৮
চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির এবারের আসরটা দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য অন্যরকম বলেই মনে হচ্ছিল। বহুদিনের বৈরিতা ঘুচিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তাদের পক্ষে কাজ করেছিল ‘বৃষ্টি ভাগ্য’ও। অনেকেই হয়তো ভেবেছিলেন ‘চোকার’ অপবাদ ঘুচিয়ে এবার নতুন এক দক্ষিণ আফ্রিকাকেই দেখা যাবে। তবে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে গত বুধবারের সেমিফাইনালে চাপের মুখে আবারো ভেঙ্গে পড়লো তারা। আর দলের বিদায়ী কোচ গ্যারি কারস্টেন দলের এমন পারফরম্যান্সকে হতাশাজনক উল্লেখ করে স্বীকারই করে নিলেন সেই অপবাদ।
প্রোটিয়াদের সঙ্গে ‘চোকার’ শব্দটি সেটে যায় ’৯৯ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে। হ্যান্সি ক্রনিয়ের নেতৃত্বাধীন দুর্দান্ত ফর্মে থাকা দলটি অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সহজ লক্ষ্যের পিছু ধাওয়া করে ভেঙ্গে পড়ে চাপের মুখে। টাই ম্যাচে নেট রান রেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় তাদের। গত বুধবার ওভালেও প্রায় একই ঘটনা ঘটলো। সেবারের মতোই সেমিতেই শেষ হলো তাদের যাত্রা। শুধু ভঙ্গিটাই ছিল আলাদা।
বড় ম্যাচের বড় চাপ সহ্য করতে না পেরে একপর্যায়ে আশি রান তুলতেই তারা হারিয়ে ফেললো আট উইকেট। ডেভিড মিলার আর ররি ক্লেইনভেল্টের লড়াকু নবম উইকেট জুটিতে শেষ পর্যন্ত তারা সংগ্রহ করে ১৭৫ রান। কিন্তু জোনাথন ট্রট আর জে রুটের ব্যাটে চড়ে সাত উইকেট হাতে রেখেই সেটা টপকে যায় স্বাগতিকরা।
অথচ টুর্নামেন্টটা অন্যরকমও হতে পারতো এবি ডি ভিলিয়ার্সের দলের জন্য। বরাবরের মতোই এবারো ফেভারিট হিসাবে খেলতে আসা দলটি তাদের বহুদিনের ‘নিয়মের’ ব্যতিক্রম ঘটিয়ে সাহায্য পেয়েছিল ভাগ্যেরও। শ্রেয়তর নেট রানরেট নিয়ে গ্রুপ পর্বে তারা টপকায় ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। তবে শেষ পর্যন্ত চাপের সেই পুরনো শিকলেই শৃঙ্খলিত হতে হলো। এই টুর্নামেন্ট শেষেই বিদায় নেবেন জানিয়ে দিয়েছিলেন আগেই। তবে বিদায়ের মুহূর্তে হতাশা লুকাতে পারলেন না কারস্টেনও, ‘আমার মনে হয় এই ম্যাচে আমরা অবশ্যই চোক করেছি। শব্দটা বেশ অস্বস্তিকর তবে এটার সাথে মানিয়ে নেয়াটাই বোধহয় ভালো। শব্দটা আসলেই হতাশাজনক। আমরাও সেটা জানি। তবে এটা লুকানোর কোন মানে নেই।’
দলের উইকেট পতনে ইংলিশ বোলারদের চেয়ে প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতাই বেশি চোখে লাগছে তার। বিশ্বকাপ জয়ী এই কোচ বলেছেন সেটাও, ‘আমরা নিজেরাই নিজেদের পতন ডেকে এনেছি। আপনাকে এটা স্বীকার করতেই হবে। তারা (ইংল্যান্ড) ভালো বল করেছে তবে তার মানে এই নয় যে ৮০ রান তুলতেই আমাদের আট উইকেট হারাতে হবে।’
তবে দলের প্রস্তুতি কিংবা তার পক্ষ থেকে কোন ঘাটতি ছিল না বলেই দাবি করলেন তিনি। নক-আউট টুর্নামেন্টগুলোতে দলের এমন পারফরম্যান্সকে তাই মেনে নিলেন অনেকটা নিয়তি হিসাবে। দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানটি বলেন, ‘যদি এটা পাল্টে দেয়ার কোন গোপন পদ্ধতি থাকতো তাহলে আমরা সেটাই চেষ্টা করে দেখতাম। প্রস্তুতিতে নিজেদের সেরাটাই আমরা দিয়েছি। আমরা বিভিন্ন বিষয় চেষ্টা করে দেখেছি। আমাকে বলতেই হচ্ছে অদৃষ্ট একটা কুয়াশা নক আউট টুর্নামেন্টগুলোতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘিরে রাখে।’