জুলাইতেও হচ্ছে না প্রিমিয়ার লিগ!

সিসিডিএমের প্লানিংয়েই তো সমস্যা। কি দরকার ছিল আকসুর বিষয় এর মধ্যে আনার। যাদের নাম সন্দেহে এসেছে, তাদের নিলামের বাইরে রাখলেই হত। আর এখন বর্ষা হবে, এটা এরা জানত না? তাহলে এ পর্যন্ত লিগ এনে, খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিতণ্ডা করে লাভ কী হল? এখন লিগ না হলে সব পণ্ডশ্রম করা হল কেন? খেলোয়াড় হিসাবে, সংগঠক হিসাবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে অনেক উত্তাল সময় দেখেছেন দেশের অভিজ্ঞ ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব জালাল ইউনুস। কিন্তু ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিশের (সিসিডিএম) চেয়ারম্যান হিসাবে যে পরিস্থিতি এবার সামাল দিতে হচ্ছে, তাতে নিজেই মাঝে মাঝে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। কাল ফোনে কথা বলতে গিয়ে মেনে নিলেন, ‘সম্ভবত এটাই ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়। এখনও জানি না, লিগটা ঘোষিত সময়েই শুরু হবে কিনা!’ এটাই এখন আসল কথা। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ সবকিছুর পরও জুলাই মাসে শুরু হবে তো? আপাতত উত্তরটা ‘না’ বলেই মনে হচ্ছে। সর্বশেষ খবর হল, ক্লাবগুলো দলবদল আরও তিনদিন পেছানোর আবেদন করেছে। সে আবেদনে সিসিডিএম সাড়া দেবে বলেই মনে হচ্ছে। এরপর আগামীকাল ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিরা বিসিবি সভাপতির সঙ্গে বৈঠক করবেন; সেখানে খানিকটা বোঝা যাবে, লিগের ভাগ্য কী হবে! সেই মার্চ মাস থেকে শুরু হয়েছে প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে এই কাণ্ড—আজ না, কাল। পেছাতে পেছাতে একেবারে ঘোর বর্ষাকালে আগামী জুলাই মাসে এসে ঠেকেছিল ঢাকা মহানগরী প্রিমিয়ার লিগ। সে আয়োজনেও অনেক আপত্তি ছিল খেলোয়াড় ও ক্লাবগুলোর তরফ থেকে। সেসব সমস্যা আপাতত ধামাচাপা দেয়া গেলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কিছু সূত্র বলছে, জুলাই মাসে আদৌ লিগ শুরু করা সম্ভব হবে না। কেউ আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকসু) রিপোর্টের কথা বলছেন, কেউ ক্লাবগুলোর ‘প্রস্তুতির অভাব’-এর কথা বলছেন, কেউ বর্ষা মৌসুমের যুক্তি দিচ্ছেন; মোদ্দাকথা একটাই—এই সময়ে লিগ আয়োজন করা হবে না বলেই মনে হচ্ছে। সর্বশেষ শঙ্কাটা বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন নিজেই তৈরি করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিপিএল নিয়ে যে তদন্ত চলছে, তার রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তিনি দলবদল বা লিগ শুরুর পক্ষে না। কারণ, যেসব খেলোয়াড়ের দলবদল হবে, তাদের কারো নাম যদি রিপোর্টে থাকে? ঠিক এই যুক্তিতেই দলবদল তিন-চারদিন পেছানোর পক্ষে বিসিবি এডহক কমিটির পরিচালক ও আবাহনী লিমিটেডের ক্রিকেট কমিটির সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হায়দার মল্লিক, ‘এবার যে পদ্ধতিতে দলবদল হবে, তাতে একজন খেলোয়াড়কে নিয়ে ফেললে পরে সে কোনো কারণে এরকম অপরাধী হয়ে গেলে ক্লাবগুলো খুব সমস্যায় পড়ে যাবে। তার বদলি ওই মানের কাউকে তখন আর পাওয়া যাবে না।’ এই যুক্তিতে একমত মোহামেডানের ডিরেক্টর ইন-চার্জ লোকমান হোসেন ভুঁইয়া। তিনি অবশ্য দলবদল পেছানোর পেছনে আরও কিছু যুক্তিও দেখছেন, ‘আকসু রিপোর্ট তো বড় একটা ব্যাপার। আরেকটা ব্যাপার হল, এই যে নতুন বাইলজ, দলবদলের নিয়ম এগুলো তো আমরা অনেক দেরিতে হাতে পেয়েছি। ফলে আমাদের তো ন্যূনতম প্রস্তুতির একটা সময় পেতে হবে। সেজন্যই আমরা দলবদল কটা দিন পিছিয়ে দিতে অনুরোধ করেছি।’ এই ‘কটা দিন’ পেছানো মানে শুরু হয়ে যাওয়া বর্ষা মৌসুমের একেবারে চূড়ান্ত অবস্থায় গিয়ে যে পড়া, তা ক্লাব কর্মকর্তারা যে কারো চেয়ে ভালো বোঝেন। সেই বোঝা থেকে, এমন পেছাতে থাকলে এই সময়ে আদৌ লিগ শুরু হবে কিনা তা নিয়ে তারা নিজেরাও সন্দিহান হয়ে পড়ছেন। কেউ এ কথার উত্তর পরিষ্কার করে দিতে না চাইলেও লোকমান হোসেন ভুঁইয়া সমাধান একটা দিলেন, ‘সত্যি বলতে, এখন লিগ হওয়া আসলেই খুব কঠিন। যদি সেটা না হয়, সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে হবে। প্রয়োজনে ব্যাক টু ব্যাক দুটো লিগ হবে।’ তবে এসব আলোচনারই কোনো সুযোগ দেখছিলেন না আরেক বোর্ড পরিচালক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অন্য এক বোর্ড পরিচালক বললেন, ‘সিসিডিএমের প্লানিংয়েই তো সমস্যা। কি দরকার ছিল আকসুর বিষয় এর মধ্যে আনার। যাদের নাম সন্দেহে এসেছে, তাদের নিলামের বাইরে রাখলেই হত। আর এখন বর্ষা হবে, এটা এরা জানত না? তাহলে এ পর্যন্ত লিগ এনে, খেলোয়াড়দের সঙ্গে বিতণ্ডা করে লাভ কী হল? এখন লিগ না হলে সব পণ্ডশ্রম করা হল কেন?’ কে দেবে এসব কথার উত্তর?