গ্যাস নেই :তবু দেড়শ’ কোটি টাকার পাইপ লাইন
প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৩, ২২:৫০
গ্যাস নেই তবু থেমে নেই পাইপ কেনা। শুধু পাইপ দেখে আশ্বস্ত হচ্ছে খুলনাবাসী। কবে কোথা থেকে গ্যাস সেখানে যাবে তার কোন ঠিক নেই। খুলনায় গ্যাস যাওয়া সম্পূর্ণ অনিশ্চিত। তবু গ্যাস পাইপ কেনা থেমে নেই। গ্যাস নেই তবু দেড়শ’ কোটি টাকার বিদেশি পাইপ কেনা হয়েছে।
গত কয়েক বছর পাইপ দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে খুলনার মানুষের। শুধু পাইপ কিনে আগে থেকেই মজুদ করা হয়েছে। এখনও কেনা হচ্ছে। একই কাজ করা হয়েছে রাজশাহীতে। সেখানে পাইপ লাইন স্থাপন করা হয়েছে। গ্যাসও দেয়া হয়েছে হাতেগোনা মাত্র কয়েকজনকে। বাকীরা আশা নিয়ে বসে আছে।
খুলনায় গ্যাস যাওয়ার জন্য ভেড়ামারা থেকে খুলনা পর্যন্ত সঞ্চালন লাইন শেষ হয়েছে। তবে ভেড়ামারা আর ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর নিচ দিয়ে যে পাইপ লাইন হবে তার কাজ এখনো শুরুই হয়নি। এমনকি কে এই কাজ করবে তা ঠিক করার কাজও এখনো শুরু হয়নি।
এখন নগরীর মধ্যে সরবরাহ লাইন স্থাপনের কাজ শুরু করা হচ্ছে। এজন্য ছয়শ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ চলছে। খুলনার সোনাডাঙ্গা এলাকায় জমি ভাড়া নিয়ে পাইপ কিনে মজুদ করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী এখন বিভিন্ন ব্যাসের ৮৪৫ কিলোমিটার সরবরাহ লাইন স্থাপন করা হবে।
পেট্রোবাংলার কোম্পানি সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (এসজিসিএল) খুলনায় গ্যাস বিতরণ করবে। নতুন গঠিত এই কোম্পানি খুলনা, বাগেরহাট, যশোর, ঝিনাইদহ ও কুষ্টিয়াতে গ্যাস সরবরাহ করবে। তবে এই জেলাগুলোর শুধু সদর এলাকাতেই পাইপ লাইন স্থাপন করা হবে।
পরিকল্পনা করা হয়েছে, এখানের কয়েকটি বিদ্যুত্ কেন্দ্র, শিল্প কারখানা, সিএনজি স্টেশন আর বাসাবাড়িতে গ্যাস দেয়ার। এরমধ্যে খুলনার ছয়টি কুষ্টিয়ার একটি, মংলায় একটি এবং ভেড়ামারায় একটি মোট নয়টি বিদ্যুত্ কেন্দ্র যার উত্পাদন ক্ষমতা মোট এক হাজার ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্।
সুন্দরবন গ্যাস কোম্পানির প্রকল্প পরিচালক রেজাউল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, খুলনাসহ পাঁচটি জেলায় গ্যাস সরবরাহের কাজ সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। জমি অধিগ্রহণ চলছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের খসড়া পরিকল্পনা সমপ্রতি সরকার অনুমোদন করেছে। আগামী অর্থ বছরে বরাদ্দ পেলে নির্দিষ্ট সময়ে শেষ হবে আশা করি। রেজাউল ইসলাম বলেন, কোথা থেকে গ্যাস আসবে তা সরকারের নীতি নির্ধারণী মহল ঠিক করবে। গ্যাস পেলে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী সরবরাহ করব। কাকে কিভাবে গ্যাস দেয়া হবে তা সরকারের সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে। সরকারের নীতি নির্ধারণী মহল যে পরিমাণ গ্যাস দেবে এবং যে গ্রাহকদের অগ্রাধিকার দেবে তাদেরকে সেই পরিমাণ গ্যাস দেয়া হবে। এবিষয়ে কোম্পানির কিছু করার নেই।
গ্যাস ঘাটতির কারণে গত প্রায় দুই বছর দেশে আবাসিক গ্রাহকদের নতুন সংযোগ দেয়া বন্ধ ছিল। কিছু শিল্প কারখানায় সংযোগ দেয়া হয়েছে। চাহিদার সাথে উত্পাদনের সমন্বয় করতে নতুন গ্রাহক বাড়ানো হয়নি। দেশে এখন পর্যন্ত যে গ্যাসের মজুদ তা থেকে উত্পাদন আরো বাড়ানো সম্ভব নয়। ঘাটতি এখন আছে। ভবিষ্যতে এ ঘাটতি আরো বাড়বে। বর্তমান উত্পাদন অব্যাহত থাকলে আর নতুন ক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে আগামী কয়েক বছরে গ্যাস শেষ হয়ে যাবে। বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৩০ কোটি ঘনফুট গ্যাস ঘাটতি হচ্ছে। উত্পাদন হচ্ছে ২২০ কোটি আর প্রয়োজন গড়ে ২৫০ কোটি।
এই পরিস্থিতিতে রাজশাহী ও খুলনাতে গ্যাস যাচ্ছে। গ্যাস আসছে, গ্যাস পাব এই আশায় কতদিন থাকতে হবে এলাকার মানুষের তার সঠিক উত্তর দিতে পারেননি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।