তত্ত্বাবধায়ক আসলে থাকতে চাইবে কেয়ামত পর্যন্ত

বিরোধী দলের নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবি আবারও নাকচ করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘এবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার আসলে তারা আর নির্বাচন দেবে না। গতবার যা পারেনি, এবার তাই করবে। কেয়ামত পর্যন্ত তারা ক্ষমতায় থাকতে চাইবে। আর কিছু আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্যক্তি ফতোয়া দিয়ে বলবে, তত্ত্বাবধায়ক সরকার রোজ কিয়ামত পর্যন্ত থাকতে পারবে।’ তিনি বলেন, ‘আমি জানি না, বিএনপি কোন আশায় তত্ত্বাবধায়ক চায়। এবার তত্ত্বাবধায়ক এসে আর না গেলে তখন তারা (বিএনপি) কী করবে? তখন তো কপাল চাপড়াইয়া কাঁদবে। ’ গতকাল বৃহস্পতিবার গণভবনে পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবির পক্ষে আন্দোলনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, তখন আমরা কেয়ারটেকার চেয়েছিলাম-কারণ তখন বিএনপি কারচুপি, সন্ত্রাস, ভোট ডাকাতি আর ভোট চুরির নির্বাচন করেছিল। তারা যদি ভোট কারচুপি না করত, মাগুরা মার্কা ইলেকশন না করত, ১৫ ফেব্রুয়ারির মতো ইলেকশন না করত তাহলে তো আর তত্ত্বাবধায়কের দাবি করা প্রয়োজন ছিল না। সদ্যসমাপ্ত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলেই অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়। জনগণের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়। জনগণ যাকে ভোট দেয় তারাই ক্ষমতায় আসে। চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার মাধ্যমে তা আবারো প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমান সরকারের সময় নিরপেক্ষ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রতিটি নির্বাচন প্রমাণ করে জাতীয় নির্বাচনে তত্ত্বাবধায়কের যৌক্তিকতা নেই। ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিএনপি-জামায়াতের অপপ্রচারের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইদানিং আমাদের আস্তিক-নাস্তিকের কথা শুনতে হয়। আমরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়ি, ফজরের নামাজ পড়ি, কোরআন তেলাওয়াত করে দিনের কাজ শুরু করি অথচ আমরা হয়ে যাই নাস্তিক। আর উনারা নানা অপকর্ম করেও আস্তিক! এটাই দুর্ভাগ্য। ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাদের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এসব উপদেষ্টারা এখন তত্ত্ব কথা শোনান। তারা তো ইলেকশন করতে পারেননি। নির্বাচন দিতে ব্যর্থ হয়ে দুই সেট পদত্যাগ করলেন। পরে আসলো আর্মি ব্যাকড। তারা আবার আর্মি হেডেড হবার চেষ্টা করলো। আর ইলেকশন দেয় না।’ গণফোরাম সভাপতি কামাল হোসেনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তারা (তত্ত্বাবধায়ক) যে ইলেকশন না দিয়েও থাকতে পারে সে বক্তব্য দিল আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন একজন আইনজীবী; যিনি এক সময় আমাদের সাথে ছিলেন। ঘর ভেঙে চলে গেছেন।’ তিনি আবার এলান করলেন, ‘রোজ কেয়ামত পর্যন্ত এই সরকার থাকতে পারবে।’ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পক্ষে সরকারের দৃঢ় অবস্থান তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, যুদ্ধাপরাধীর বিচার বন্ধে কোন ষড়যন্ত্রই সফল হবে না। আপনাদের অন্তর্জ্বালা আমি জানি। তত্ত্বাবধায়ক মূল বিষয় নয়, মূল বিষয় হচ্ছে যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করা। কিন্তু যতই ষড়যন্ত্র করুন, যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষা করতে পারবেন না। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন করে বাংলার মাটিকে কলুষমুক্ত করা হবে। প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বিএনপি যদি আবার ক্ষমতায় আসে তাহলে চালের কেজি হবে ১০০ টাকা। দেশ আবার সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের অভয়ারণ্যে পরিণত হবে। তিনি বলেন, দেশের সার্বিক উন্নয়নই আওয়ামী লীগের মূল লক্ষ্য। নির্বাচনে জনগণ চাইলে আমরা আছি, আর না চাইলে নেই। জনগণ যাদের ভোট দেবে তারাই দেশ পরিচালনা করবে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের সময় পাঁচ কোটি মানুষ নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্তে উন্নীত হয়েছে। মানুষের আয় বেড়েছে। এখন আর বুয়া খুঁজেই পাওয়া যায় না। প্রত্যন্ত অঞ্চলে গেলে মানুষ আগে ভাত চাইতো, এখন বিদ্যুত্, রাস্তা চায়। প্রধানমন্ত্রী এই উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে আগামী নির্বাচনেও আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। মতবিনিময় সভার পর প্রধানমন্ত্রী দলের জেলা নেতৃবৃন্দের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করেন। এতে দলের সাংগঠনিক রিপোর্ট তুলে ধরেন পিরোজপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএমএ আউয়াল এমপি। বৈঠকে জেলার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আকরাম হোসেন অ্যাডভোকেট, স্বরূপকাটি উপজেলা সভাপতি আবদুল হামিদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এ সময় কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে সতিশ চন্দ্র রায়, আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ, ড. আলাউদ্দিন, মাহবুব-উল-আলম হানিফ, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, অ্যাডভোটেক আব্দুল মান্নান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন ।