কুয়েট ছাত্রদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

খুবি ভিসির অপসারণ দাবি করেছেন শিক্ষকরা

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) ভাইস-চ্যান্সেলরের অপসারণের দাবি জানিয়েছে শিক্ষকরা। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অবিচার ও প্রতারণাসহ বিশ্ববিদ্যালয়কে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে ক্লাস ও পরীক্ষা গ্রহণের দাবিতে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ধর্মঘট শুরু করেছে। গতকাল স্থানীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সচেতন শিক্ষকদের পক্ষে খুবির অধ্যাপক ড. মো: রেজাউল করিম বলেন, ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) প্রফেসর ড. মো: ফায়েকউজ্জামান গত বছরের অক্টোবর মাসে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গা প্লট আকারে বিক্রির কারণে একাডেমিক ও প্রশাসনিক সৃষ্ট জটিলতার সমাধান তিনি আজও দিতে পারেনি। তার অনিয়ম, দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা ও প্রতারণামূলক কার্যক্রমের ফলে ক্যাম্পাসে অচলাবস্থা বিরাজ করছে। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সিন্ডিকেট সভায় ইংরেজি ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক এআরএম মোস্তাফিজার রহমানের আপগ্রেডেশন সংক্রান্ত বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য রাষ্ট্রপতি বা চ্যান্সেলরের কাছে পাঠানো হবে। কিন্তু তিনি সিন্ডিকেটের এ সভার সিদ্ধান্ত অমান্য করে নিজের ইচ্ছামত রেজুলেশন লিখে মোস্তাফিজারকে অপরাধী হিসাবে গণ্য করে চ্যান্সেলরের কাছে পত্র প্রেরণ করেন। বিষয়টি পরে ধরা পড়লে তিনি ক্ষমা চান। রাষ্ট্রপতির সাথে এই জালিয়াতি করার ধৃষ্টতা দেখিয়ে তিনি নৈতিক স্খলনের পরিচয় দিয়েছেন।সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা অনিয়মের তদন্ত দাবি করেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডীন এটিম জহির উদ্দিন, এআরএম মোস্তাফিজার রহমান, অধ্যাপক ড. মো: আশরাফুল আলম, অধ্যাপক ড. মো: শামীম মাহবুবুল হক, অধ্যাপক ড. মো: মোস্তফা ও অধ্যাপক মো: রফিকুল ইসলামসহ শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে কুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র আশিকুর রহমান জানান, শিক্ষকদের নানাবিধ আন্দোলন কর্মসূচির কারণে প্রায় দেড় মাস যাবত্ তাদের কোন ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। ফলে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। এ ব্যাপারে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ভিসি প্রফেসর ড. মুহাম্মদ আলমগীর জানান, ছাত্রদের অবস্থান কর্মসূচি শুরুর পর শিক্ষকরা এক সভার আয়োজন করে। ওই সভা থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে আগামী রবিবার থেকে শিক্ষকরা ক্লাস গ্রহণ করবেন।