বঙ্গোপসাগরে ইলিশ শিকারের আয়োজন সম্পন্ন লোকালয় ছাড়ছে জেলেরা
প্রকাশ : ২০ জুন ২০১৩, ২২:৫৫
আগামীকাল শনিবার থেকে পিরোজপুরের পাড়েরহাট মত্স্যবন্দরকেন্দ্রিক জেলেরা বঙ্গোপসাগারে ইলিশ শিকারে যাত্রা শুরু করছে। সুন্দরবন উপকূলের দুবলারচরসহ বিভিন্ন বনভূমিকে ভিত্তি করে এসব জেলে বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগর থেকে ইলিশ আহরণ করবে। দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলের পাড়েরহাট, মঠবাড়িয়া, রায়েন্দা, পাথরঘাটা, বাগেরহাট, আমুয়া প্রভৃতি মত্স্যবন্দর থেকে ট্রলার ও নৌকায় করে শত শত জেলে সাগরে যাবে। ইতিমধ্যে জাল, দড়ি, ফ্লোট (ভাসনি), জ্বালানি, বরফ ইত্যাদি ট্রলার ও নৌকায় ভর্তি করে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলে পল্লীর সাগরগামীরা। পাড়েরহাট বন্দর থেকে ইলিশ শিকারের উপকরণ, জ্বালানি, রসদ ও মাছ সংরক্ষণের জন্য বরফ ইত্যাদি ট্রলার ও নৌকায় বোঝাই হয়েছে। কেউ বন্দর ছেড়েছে, কেউবা ছাড়ার অপেক্ষায়। এখন বন্দরে বিরাজ করছে সাজসাজ রব।
পিরোজপুরে জিয়ানগর উপজেলার ইন্দুরকানী, বালিপাড়া, কংসা, ঢেপসাবুনিয়া, সাউদখালী প্রভৃতি গ্রামের জেলেপাড়ায় বিদায়ের সুর। সুন্দরবন আর বঙ্গোপসাগর জেলেদের যেমন জীবিকার আধার, আবার এ উদ্দেশ্যে যাত্রাকারীদের পরিবার-পরিজনের জন্য উত্কণ্ঠা-উদ্বেগেরও ব্যাপার। ঝড়ঝঞ্ঝা-বিক্ষুব্ধ বঙ্গোপসাগর, বাঘ-কুমিরের উপদ্রব এবং জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য উপকূলের মত্স্যজীবীদের জীবন আশঙ্কারও কারণ। তাই জেলে পরিবারগুলোতে স্বজনের বিদায়ক্ষণে বিলাপ-আহাজারিও দেখা দিয়েছে। তারপরও বঙ্গোপসাগরের ইলিশ শিকার উপকূলের মত্স্যজীবীদের জন্য মৌসুমী মহাউত্সব। ইতিমধ্যে সুন্দরবন উপকূলভিত্তিক বঙ্গোপসাগরে ইলিশ আহরণের জন্য শত শত ট্রলার-নৌকায় হাজার হাজার জেলে অবস্থান নেয়া শুরু করেছে। কেউ কেউ পৌঁছে গেছে, কেউবা পথে, বাকিরা দুই- একদিনের মধ্যে পৌঁছবে। পিরোজপুরের পাড়েরহাট, বাদুরা, জিয়ানগর, ভান্ডারিয়ার চরখালী, হেতালিয়া, বোথলা, জুনিয়া, মঠবাড়িয়ার তুষখালী, ছোট মাছুয়া, সাপলেজা প্রভৃতি গ্রামের জেলেপাড়ার বাসিন্দারাসহ উপকূলে ছুটে যাচ্ছে সাগরপানে। সুন্দরবনের দুবলারচরের মেহেরআলীর খাল, অফিসকিল্লা, মাঝেরখাল, ভেদাখালী, আলোরকোল, ডিমেরচর, কচিখালী, পক্ষীদিয়ারচর, নারিকেলবাড়িয়া, শ্যালারচর প্রভৃতি বনভূমিতে আশ্রয় নিয়ে বঙ্গোপসাগরে ইলিশ আহরণ করবে আগামী তিন মাস।