উখিয়ার শরণার্থী শিবিরে উত্তেজনা প্রশাসন ও রোহিঙ্গারা মুখোমুখি
উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২১ জুন ২০১৩, ২১:০৯
উখিয়ার কুতুপালং শরণার্থী শিবিরের রেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গারা তাদের দাবি-দাওয়ার ঘটনা নিয়ে পূর্ব নির্ধারিত বিশ্ব শরণার্থী দিবসের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেনি। উপরন্তু রোহিঙ্গাদের মারমুখী আচরণের ফলে ক্যাম্পে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে ক্যাম্প কার্যালয়ে প্রশাসন ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত ঘন্টাব্যাপী আলোচনায় রোহিঙ্গাদের দাবি-দাওয়া প্রশাসন মেনে নেয়ার আশ্বাস দিলে কিছু রোহিঙ্গা ওই কর্মসূচিতে অংশ নিলেও বেশিরভাগ কর্মসূচি পালন থেকে বিরত থাকে। ফলে বিগত বছরগুলোর ন্যায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন ভেস্তে গেছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিশ্ব শরণার্থী দিবস জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালনের লক্ষ্যে ক্যাম্পে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ইউএনএইচসিআর ও ক্যাম্প প্রশাসন বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নেয়। সকাল ১০টায় রোহিঙ্গারা অনুষ্ঠান বর্জন করে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া সম্বলিত পোষ্টার ও ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদ করে মারমুখী অবস্থান নেয়। ওই ক্যাম্পের রেজিস্ট্রার্ড রোহিঙ্গা সামশু মাঝি জানান, আসন্ন বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গাদের শেড মেরামত, দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান, ক্যাম্প ম্যানেজম্যান্ট কমিটি গঠনে তাদের সম্পৃক্ত করা, রোহিঙ্গাদের উন্নত চিকিত্সা সেবা নিশ্চিতকরণ, ক্যাম্পের অভ্যন্তরে যে কোন বিষয়ে শরণার্থীদের মতামত, ডাটাভুক্ত রোহিঙ্গা পরিবারকে রেশন বিতরণ, রোহিঙ্গাদের ভবিষ্যত্ নিয়ে জাতিসংঘ কি করছে তা রোহিঙ্গাদের জানানোসহ প্রভৃতি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা বিশ্ব শরণার্থী দিবসসহ প্রশাসনের কোন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবে না। এ ঘটনায় কক্সবাজারের শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার ফিরোজ সালাহ উদ্দিন, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কার্যালয়ে কর্মরত উপ-সচিব মোঃ সালাহ উদ্দিন চৌধুরী ও ইউএনএইচসিআরের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ গোলাম আব্বাস, কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ জালাল উদ্দীন রোহিঙ্গা নেতৃবৃন্দদের নিয়ে ঘন্টাব্যাপি বৈঠকে করেন। ক্যাম্প ইনচার্জ জালাল উদ্দিন জানান, রোহিঙ্গাদের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বিষয় নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদানের পর শরণার্থী দিবস পালিত হয়। এদিকে টেকনাফ নয়াপাড়া শরণার্থী শিবিরে জাঁকজমকপূর্ণ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালিত হয় বলে জানিয়েছেন ক্যাম্প ইনচার্জ ড. মোঃ কামরুজ্জামান।