হাজীগঞ্জে কোটি টাকা নিয়ে সমবায় সমিতি উধাও

উপজেলার বসুন্ধরা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি কয়েকশ’ গ্রাহকের প্রায় ৩ কোটি টাকা নিয়ে আত্মগোপন করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ১২ জুন থেকে সমিতির মূল কার্যালয়টি তালাবদ্ধ রয়েছে। হাজীগঞ্জ বাজারের দীপা ম্যানশনের ৩য়তলার একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে ২০০৮ সাল থেকে বসুন্ধরা সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উপজেলার মোহাম্মদপুর গ্রামের আব্দুল খালেক ফরাজীর ছেলে মো. মনির হোসেন ফরাজী সংস্থাটির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। বাকিলা ইউনিয়নের স্বর্ণা গ্রামের মো. সাদ্দাম হোসেন জানান, মাসে আড়াই হাজার টাকা মুনাফায় তিনি ওই সমিতিতে আড়াই লাখ টাকা রাখেন। মে মাস পর্যন্ত তিনি লাভের টাকা পেয়েছেন। কিন্তু এ মাসে টাকা তুলতে এসে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ পান। একই ইউনিয়নের বাখরপাড়া গ্রামের এক নারী জানান, ৩ বছর মেয়াদে তিনি ৪ লাখ টাকা রেখেছেন। প্রতি মাসে তিনি ১১ হাজার টাকা লভ্যাংশ তোলেন। তিনি আরো জানান, তার আত্মীয়-স্বজন ও স্বামীর এলাকার অনেকে এখানে টাকা রেখেছেন। একই অভিযোগ করে বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের দোয়াগণ্ডা গ্রামের মো. শুভ পাটওয়ারী বলেন, তিনি আমানত হিসেবে ৫ লাখ টাকা জমা রেখেছেন। কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা (চাঁদপুরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) মো. ছাদেক আক্কাছ জানান, মাসিক ৬ হাজার টাকা লাভে ২ বছর আগে তিনি ২ লাখ টাকা জমা রাখেন। কিন্তু ১ মাস লভ্যাংশ দেয়ার পর তাকে আর কোন টাকা দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে কথা বলতে সমিতির চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন ফরাজীর এই ০১৭৩৮৭২৯১৯৭ মোবাইল নম্বরে একাধিকবার ফোন করলেও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে অসমর্থিত সূত্রের খবরে জানা গেছে, ব্যবসা-বাণিজ্য গুটিয়ে তিনি ওমান চলে গেছেন।