শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর অর্থনৈতিক উন্নয়নের পূর্ব শর্ত
প্রকাশ : ২১ জুন ২০১৩, ২১:২৬
রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান অন্তরায়
এটা সত্যিই অস্বীকার করার উপাই নেই যে, রাজনৈতিক অস্থিরতা একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন থেকে শুরু করে শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রের যাবতীয় উন্নয়নের পথে বাধাস্বরূপ। আর জাতীয় জীবনে এই রুদ্ধতা এনে দেয় ঘোর অমানিশা। ঠিক এমনি এক অবস্থায় আছে আমাদের স্বাধীন রাষ্ট্র, বাংলাদেশ। প্রতিনিয়ত হরতাল, স্থানে স্থানে রাহাজানিসহ নানাবিধ উন্নয়ন-বিরোধী কার্যকলাপ আমাদের জাতীয় জীবনে সত্যিই অভিশাপ। আমি বলব না যে, বর্তমান সরকার দুর্বল কিংবা বিরোধীদল সবল। আমি শুধু এটুকুই বলব যে, দক্ষ প্রশাসনই পারে জাতির অমানিশা দূর করতে। উভয় দলের স্থির মতবিনিময়ের মাধ্যমে এই অস্থিরতা দূর করে বর্তমানের মহাকালকে প্রশান্তিতে রেখে এদেশের মেহনতি মানুষকে মরিচের অন্তর্দশায় না নিয়ে প্রশাসন ব্যবস্থার এই ক্রান্তি সময়কে সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে পরবর্তী নির্বাচনকে উভয় পক্ষের প্রাণের চেষ্টায় সম্পাদন করে নির্বাচিত দলের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরই বর্তমানের মুখ্য প্রয়াস হওয়া উচিত বলে আমার বিবেক সাক্ষ্য দেয়। কেননা, কালের কাটান্তে বর্তমান বিশ্ব যেখানে আধুনিক হচ্ছে, সেখানে দীর্ঘদিন পরাধীনতার ফলে পিছিয়ে থাকা এই স্বাধীন রাষ্ট্রকে সামনের দিকে গতিশীল করার প্রচেষ্টা উভয়েরই করা উচিত নয় কী?
মো. আজিজুল হাকিম (আরজু)
অনুষদ :ভেটেরিনারি সায়েন্স (DVM)
লেভেল : ০১ , সেমিস্টার : ০১
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়
দেশের উন্নয়নের স্বার্থে প্রকৃত দেশপ্রেমিক হওয়া আবশ্যক
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপটে দেশের জাতীয় নির্বাচন অনেকটাই অনিশ্চিত। তা কখন হবে, কিভাবে হবে এই বিষয়ে কেউ কোন কথা নিশ্চিত করে বলতে পারছে না। বিধায় দেশের চলমান সংকট বেড়েই চলেছে। আর এ সংকটকে পুঁজি করে কিছু কুচক্রী মহল ফায়দা হাসিলেন জন্য উত্তপ্ত আগুনের ভিতর পেট্রোল ঢেলে দিয়ে পরিবেশকে আরো বিদঘুটে করে তুলেছে। ফলশ্রুতিতে দেশের অর্থনীতি আজ চরম নেপথ্যে এগিয়ে চলছে। আর এ অবস্থাতেও রাজনীতিবিদরা তাদের কঠোর অবস্থান থেকে ঘুরে না দাঁড়িয়ে ক্ষমতার জোর অটুট রাখার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। বিনিময়ে সংঘাত বেড়ে যাবার সাথে সাথে অর্থনৈতিক অবস্থার বারোটা বেজে যাচ্ছে। ফলে সাধারণ জনগণ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। অথচ একজন টোকাইও দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের অংশীদার। সুতরাং আসুন আমরা যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছি তারা সকলে “might is right” প্রবাদ বাক্যটির চরিত্র ভুলে গিয়ে দেশের স্বার্থে, শ্রমিকের স্বার্থে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে নিজেকে ত্যাগী মনোভাব তৈরি করে অপার সম্ভাবনাময়ী বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে নিজেদের প্রকৃত রাজনীতিবিদ এবং দেশপ্রেমিক হিসাবে গড়ে তুলি। তবেই আমরা বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশের সাথে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারব।
মো. রুকুনুজ্জামান তাহমিদ
ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ (২য় বর্ষ),
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী
দেশের অর্থনৈতিক চাকাকে সচল রাখার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অত্যাবশ্যক
বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। যে প্রত্যাশা নিয়ে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধারা এ দেশকে স্বাধীন করেছিলেন সে প্রত্যাশা আজও অপূরণীয়। স্বাধীনতার পর থেকে দেশ চলছে অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যদিয়ে যার পশ্চাতে রয়েছে ক্ষমতার লোভ। যে কারণে অর্থনৈতিক চাকাটি অচল অর্থাত্ বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েছে। এ সবকিছুর মূলে রয়েছে প্রতিহিংসাপরায়ণ রাজনীতি এবং এই হিংসাত্মক মনোভাব বাংলাদেশকে এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি, বারাক ওবামা ব্যয় সংকোচনের একটি বিলে স্বাক্ষর করার আগে বিরোধী দলগুলোর সাথে সংলাপে বসেন এবং শেষ পর্যন্ত অনিচ্ছাসত্ত্বেও বিরোধী দলের সাথে সমঝোতায় বিলে স্বাক্ষর করেন। আবার বিরোধী দল এমন অযৌক্তিক দাবি করেনি যা দেশের জন্য, জনগণের জন্য অমঙ্গলজনক। কিন্তু বাংলাদেশে যে দলই ক্ষমতায় আসুক না কেন এরকম সংলাপে বসার ইতিহাস নজিরবিহীন। বিরোধী দল সবসময় দলের স্বার্থে হরতাল ও নানা ধ্বংসাত্মক কর্মসূচির মাধ্যমে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করে থাকে এবং ক্ষমতাসীন দল সবসময় বিরোধীদলকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখায়। তাই সকল রাজনৈতিক দলের কাছে আমাদের একটাই প্রত্যাশা, প্রতিহিংসার মনোভাব পোষণ না করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে, জনগণের সুষম অধিকার নিশ্চিত করে কষ্টার্জিত স্বাধীন বাংলাদেশকে সোনার বাংলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
মো. সাফায়েত হোসেন
এমবিএ
ট্যুরিজম এন্ড হসিপটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
রাজনৈতিক অস্থিরতা বনাম অর্থনৈতিক উন্নয়ন
রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হলেও ভবিষ্যতে তা কতটা সমানুপাতিকহারে বাড়বে তা প্রশ্নবিদ্ধ, কারণ সামনের দিনগুলোতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম সঙ্কটময় পরিণতির দিকে ধাবিত হচ্ছে। এক এগারোর পুনরাবৃত্তি সুশীল সমাজের কাম্য নয়। কিন্তু সামপ্রতিক সময়ের রাজনৈতিক বিতর্ক যেন সবকিছুর ঊর্ধ্বে। প্রধান দুই রাজনৈতিক দল দেশের সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে ক্ষমতা হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে বদ্ধপরিকর। তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু নিয়ে সরকারের কঠোর মনোভাব সরকারবিরোধী আন্দোলনকে আরও বেগবান করছে। তাই সরকারের উচিত বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে তৃতীয় কোন একটি নির্বাচন পদ্ধতি বেছে নেয়া যাতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়। রাজনৈতিক সহিংসতা, অবরোধ, হরতাল দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির উপর ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে। এতে দেশের অভ্যন্তরে যেমন দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অচল, শিল্প-কারখানার উত্পাদন বন্ধ, ঠিক তেমনি বহির্বিশ্বের কাছে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়, এতে তারা আমাদের দেশে বিনিয়োগ, আর্থিক সহযোগিতা, ঋণদানে অনাগ্রহী হয়।
এস.এম. রাশেদুল হক (শিবলী)
অনুষদ : কৃষি, লেভেল : ০১, সেমিস্টার : ০১
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।