রাজধানীতে পানি সঙ্কট ও জনঅসন্তোষ
প্রকাশ : ২১ জুন ২০১৩, ২১:৪৮
মিরপুরে পানির সমস্যা তীব্র আকার ধারণ করিয়াছে। মোহাম্মদপুর ও পুরানা ঢাকার অধিবাসীরাও পানির সঙ্কটে নাজেহাল। আবহাওয়াজনিত তাপদাহে চাহিদা বৃদ্ধি, পানির স্তর অতিরিক্ত মাত্রায় নামিয়া যাওয়া, ওয়াসার উত্তোলন ক্ষমতা হ্রাস, বিদ্যুত্ বিভ্রাটে উত্তোলন প্রক্রিয়ায় বাধা ইত্যাদি নানান কারণে সৃষ্ট এই সঙ্কটের কারণে অধিবাসীরা নাভিশ্বাস ছাড়িয়া কূল পাইতেছে না। অথচ এই গরমে পানি ছাড়া জীবন অচল। সিটি কর্পোরেশনের সেবাসমূহ কতটা দুর্বল তাহার উদাহরণ হইলো এই ঘটনা। চাহিদা বৃদ্ধিমাত্র সেবা নাজুক হইয়া পড়িয়াছে।
গ্রীষ্মের দুই মাস পর বর্ষাকালেও খরাভাব বিরাজ করিতেছে। ফলে নগরে পানির চাহিদা বাড়িয়া গিয়াছে। ক্রমাগত খরতাপে পানির স্তরও কিছুটা নামিয়া যাইবে, ইহাই স্বাভাবিক। চাহিদা বৃদ্ধি ও পানির স্তর নামিয়া যাওয়া প্রাকৃতিক ব্যাপার কিন্তু সঙ্কট মোকাবিলা করিবার বিকল্প ব্যবস্থাও থাকিতে হইবে। বিকল্প ব্যবস্থা একরকম রহিয়াছে কিন্তু তাহা তেমন কার্যকর নহে। ওয়াসা গাড়ির মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি সরবরাহের ব্যবস্থা রাখিয়াছে। কিন্তু পানির গাড়ির আবেদন করিলে কমপক্ষে দুই-তিনদিন সময় লাগিয়া যায় পানি পাইতে। এই সুযোগে দুর্নীতি আসন গাড়িয়া বসিয়াছে। দেড় হাজারের মতো টাকা দিলে গাড়ি দ্রুতই চলিয়া আসে, যদিও প্রতি গাড়ি পানির দাম ৫০০ টাকা। একদিকে লাইনে পানি নাই, উপরন্তু বেশি দামে পানি কিনিবার বাধ্যবাধকতা— সব মিলিয়া বিক্ষুব্ধ পরিস্থিতি। পানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হইলে জনঅসন্তোষ প্রতিবাদে রূপ লইতে পারে।
পানির স্তর নামিয়া যাওয়া ছাড়াও সমস্যা আরও রহিয়াছে। সরবরাহের পুরনো পাইপগুলির আকার সরু। আর উত্তোলনকার্যে ব্যবহূত নলকূপগুলির উত্তোলন ক্ষমতা দিন দিন হ্রাস পাইতেছে। গরমের কারণে বিদ্যুত্ বিভ্রাটের হার বাড়িয়াছে, ইহাতেও স্বাভাবিক উত্তোলন ব্যাহত হইতেছে। ওয়াসা জানাইতেছে, বৃহত্তর মিরপুরে ১০০টির মতো গভীর নলকূপ রহিয়াছে কিন্তু বেশিরভাগেরই উত্তোলন ক্ষমতা এখন এক-তৃতীয়াংশ। ফলে মিরপুর এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক পানি সরবরাহ হইতেছে। আরও অন্ততঃ ২০টি নলকূপ স্থাপন করিতে পারিলে এই সঙ্কট দূরীভূত হইবে।
কর্তৃপক্ষকে তাই সত্বর এই বিষয়ে পদক্ষেপ লইতে হইবে। নূতন নলকূপ স্থাপনে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে হইবে। ওয়াসার গাড়িকে ঘিরিয়া যে দুর্নীতির জন্ম লইয়াছে তাহাও নির্মূল করিতে হইবে। পাশাপাশি পানির স্তর নামিয়া যাইবার মতো প্রাকৃতিক বিপর্যয় কীভাবে রোধ করা যাইবে তাহা নিয়া বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে গুরুত্বসহকারে চিন্তা করিতে হইবে। গরমকালে পানির স্তর নামিয়া যাওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু ধারণ ক্ষমতার চাইতে কয়েকগুণ বেশি মানুষ এই শহরে বাস করে। ফলে প্রাকৃতিক সব সম্পদের উপরেই একটা বাড়তি চাপ পড়িতেছে। পানির স্তর স্বাভাবিকভাবেই নামিয়া যাইতেছে। প্রাকৃতিক সম্পদের এইরূপ ঘাটতি অদূর ভবিষ্যতে নানান সঙ্কট তৈরি করিবে। সেইগুলি নিয়াও ভাবিতে হইবে। কিন্তু আপাতত, আমরা মিরপুরসহ অন্যান্য অঞ্চলের অধিবাসীকে পানির সঙ্কট হইতে রক্ষা করিবার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা লইবার আহ্বান জানাই।