কুরিয়ার সার্ভিসে হেরোইন পাঠানো হচ্ছিল চীনে
প্রকাশ : ২১ জুন ২০১৩, ২১:৫৩
রাজধানীর উত্তরায় নাইজেরীয় এক নাগরিকসহ আন্তর্জাতিক মাদক চোরাচালান চক্রের চার জনকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। গতকাল শুক্রবার র্যাব-১ এর উত্তরার কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে গ্রেফতারকৃতদের সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত করা হয়।
র্যাব জানায়, গোপন সংবাদ পেয়ে গত ১৯ জুন রাজধানীর রামপুরা শাখার আন্তর্জাতিক কুরিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘ডিএইচএল’ এ অভিযান চালানো হয়। এ সময় এক হাজার তিনশ’ গ্রাম হেরোইনসহ একটি চালান জব্দ করে র্যাব। ৪৩টি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আন্ডারওয়্যারের প্যাকেটে বিশেষ কায়দায় মোড়ানো অবস্থায় এসব হেরোইন চীনে পাচারের চেষ্টা করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, হেরোইন উদ্ধারের পর পাচারকারীর ঠিকানা নিয়ে উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টরের ৪ নম্বর সড়কের ৭ নম্বর বাসা থেকে অনাইকা গডসন বামালো নামে এক নাইজেরীয় নাগরিককে গ্রেফতার করে র্যাব। পরে ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে অনাইকার গাড়িচালক আবুল কাশেম ও অপর দুই নারী সহযোগী পায়েল বেগম এবং নীলিমা লাবন্যকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় ঐ বাসা থেকে ৫৭টি আন্ডারওয়্যারের প্যাকেটে মোড়ানো হেরোইন, ১৪৪ ক্যান বিয়ার, দুই বোতল দেশি ভদকা, তিন হাজার একশ’ জাল ইউএস ডলার, চারটি ল্যাপটপ কম্পিউটার ও মাদক পাচারে ব্যবহূত একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। এছাড়া হেরোইন প্যাকেটজাতের জন্য ব্যবহূত শিল পাটা, ফেভিকল আঠা ও চীনে পাচারের উদ্দেশ্যে কুরিয়ারের মানি রিসিভ জব্দ করা হয়।
আটক নাইজেরীয় নাগরিক অনাইকা গডসন বলেন, গার্মেন্ট ব্যবসা করতে তিনি দু’বছর আগে বাংলাদেশে আসেন। তার বৈধ পাসপোর্ট রয়েছে। তবে হেরোইন পাচার বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। পায়েল বেগম বলেন, কয়েকবছর আগে প্রেম করে তিনি এক নাইজেরীয়কে বিয়ে করেন। তাদের তিনটি সন্তান রয়েছে। বর্তমানে তিনি ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। তার নাইজেরীয় স্বামী কিছুদিন আগে তাকে ছেড়ে বিদেশ চলে যায়। এদিকে আটক নীলিমা লাবন্য দাবি করেন, তিনি রাজধানীর হাবিবুল্ল¬াহ বাহার কলেজ থেকে ইংরেজিতে মাস্টার্স করে এখন গির্জায় কাজ করেন। কোনো চোরাচালানের সঙ্গে তিনি জড়িত নন। অনাইকা তাদের পূর্বপরিচিত। তবে এর বাইরে তার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই।
র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কিসমত্ হায়াত্ বলেন, আন্তর্জাতিক কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠান ডিএইচএল’র মাধ্যমে চোরাচালান চক্রটি বিভিন্ন দেশে মাদক পাচার করে আসছিলো। এ ঘটনার সঙ্গে ডিএইচএল কর্মকর্তারা জড়িত থাকতে পারে। প্রমাণ পেলে তাদেরও গ্রেফতার করা হবে। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে শুধু মাদক নয়, অস্ত্র চোরাচালানও হচ্ছে। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক চোরাচালান চক্রের সদস্যরা সক্রিয় রয়েছে। তাদের গডফাদারদের ইতিমধ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে। তারা গোয়েন্দা নজরদারিতে রয়েছেন। পর্যায়ক্রমে তাদের গ্রেফতার করা হবে।