আরেকটি শিরোপার দুয়ারে শেখ রাসেল

খেলায় হতাশ হয়ে কোচ মারুফ বলেন, ‘পরিণত দল খেলেছে অপরিণত দলের মতো। অপরিণত দল খেলেছে পরিণত দলের মতো।’ ব্রাদার্স কোচ মিরাজও সন্তুষ্ট তার দলের খেলায়, ‘পুরো টুর্নামেন্টে আমার ছেলেরা ভালো খেলছে। আমি সন্তুষ্ট। অনভিজ্ঞতা দুই দলের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।’  বাংলাদেশের ফুটবলে নিঃসন্দেহে এখন অন্যতম সেরা তারকা তিনি। জাতীয় দল বা ক্লাবকে প্রয়োজনের সময় গোল এনে দিতে তার জুড়ি নেই। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে বড় দুঃসময় কাটাচ্ছেন জাহিদ হাসান এমিলি। কাল যেন মাঠকেই দুঃখ ভুলে যাওয়ার জায়গা হিসেবে বেছে নিলেন। আর আবার জ্বলে ওঠা এমিলির জোড়া গোলে ঝলসে গেল ব্রাদার্স ইউনিয়নের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন। গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে চলতি সুপার কাপের প্রথম সেমিফাইনালে এমিলির করা দুই গোলেই ২-০ ব্যবধানে ব্রাদার্সকে হারিয়ে সুপার কাপ ফুটবলের ফাইনালে জয়গা করে নিল শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র; সেই সঙ্গে মৌসুমের চতুর্থ শিরোপার আরও কাছে পৌছে গেল রূপকথার মতো ছুটতে থাকা দলটি। এমিলির পা এবং মাথা থেকে এসেছে ম্যাচের গোল দুটি। যদি চ্যাম্পিয়ন হয়, তাহলে এদেশের ঘরোয়া ফুটবলে এক মৌসুমে চার ট্রফি জয়ের রেকর্ড হবে শেখ রাসেলের। রেকর্ড গড়ার উদ্দেশ্য নিয়েই গ্রামীণফোন সুপার কাপ ফুটবলের তৃতীয় আসরে শেখ রাসেলের অভিযান শুরু। সব বাঁধা অতিক্রম করে শেষ ধাপে এসে পৌঁছেছে শেখ রাসেল। ব্রাদার্সের কোচ মহিদুর রহমান মিরাজ চমক দেখাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে। সফল হয়েছে শেখ রাসেলের কোচ মারুফুল হকের পরিকল্পনা। ফাইনালে উঠবেন বলে জানিয়েছিলেন, উঠেছে তার দল। তবে নিজেকে এখনই সফল বলতে চান না তিনি। মারুফ বলছেন, ‘আগে ফাইনালটা জিতেনি তারপর নিজেকে সফল বলব। একটা দল তিনটা ট্রফি জিতলে চারটা কেন জিতবে না?’ শেখ রাসেলের তালিকায় অভিজ্ঞ ফুটবলারের সংখ্যাটাই বেশি। তাদের সামনে ব্রাদর্সের তরুণ মুখগুলো থুবড়ে পড়বে সেটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু মিরাজের দল ব্রাদার্সকে হারানোটা খুব সহজ হয়নি মারুফের দল শেখ রাসেলের। দুই গোল হজম করেও ব্রাদার্সের খেলায় ছিল লড়াকু ভাব। তরুণ কোচের তরুণ ফুটবলারদের খেলা দেখে বুঝা যায়নি তারা দুই গোলে পিছিয়ে। গোল দুটি হজম করতে হয়েছে স্রেফ অভিজ্ঞতার অভাবে। মাঠে নেমে কিছু বুঝে উঠার আগেই ম্যাচের পৌনে চার মিনিটে প্রথম গোল হজম করে ব্রাদার্স। ব্রাদার্স আক্রমণ করতে গিয়ে নিচে নামতে পারেনি। আক্রমণ করতে গিয়ে রক্ষণভাগ অরক্ষিত থাকে। সেই সুযোগে দুই বারই গোল করে শেখ রাসেল। ম্যাচের ৫ ও ২৯ মিনিটে শেখ রাসেল গোল দুটি করে। ম্যাচের চার মিনিটে শেখ রাসেলের নাহিদুলের ক্রস থেকে স্ট্রাইকার এমিলি ভলি করে বল জালে পাঠিয়ে দেন। ২৯ মিনিটে মিঠুনের ক্রস মাথা ছুঁয়ে জালে পাঠান ২-০। এবারও সেই একই ভুল ব্রাদার্সের। আক্রমণে গিয়ে নিচে ফিরতে পারেননি ব্রাদার্সের ডিফেন্ডাররা। বিপদ সামাল দিতে পারেননি গোলকিপার সুজন চৌধুরী। এই দুটি গোল হজম করা ব্রাদার্স অন্তত চারবার গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেননি দলের ফরোয়ার্ড লাইন। দল হারলেও শেখ রাসেলের গোলকিপার বিপ্লবকে আতংকিত করে রেখে ছিলেন ব্রাদার্সের দুই তরুণ ফরোয়ার্ড জুয়েল রানা আর জেজবা উদ্দিন আহমেদ। গোল শোধ করে ফেললেও অবাক হওয়ার কিছু থাকত না। ম্যাচটার ব্যবধান বড় হতে পারেনি জাহিদের কারণে। জাহিদ ব্রাদার্সের গোলকিপারকে একা পেয়ে ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি অপেক্ষায় ছিলেন তার ঘনিষ্ট বন্ধু এমিলিকে দিয়ে হ্যাটট্রিক করাবেন। কিন্তু এমিলি এগিয়ে না আসায় নিজেই শট করেন গোলকিপার সুজনের গায়ে। হ্যাটট্রিক করার আরেকটি সুযোগ আসে এমিলির সামনে। জাহিদের ক্রসের বল ব্রাদার্সের অধিনায়ক আশরাফুল করিমের হাতে লাগায় পেনাল্টি দেন রেফারি মিজানুর রহমান। জাহিদ নিজে শট না করে বন্ধু এমিলিকে দিয়েছিলেন হ্যাটট্রিক করার জন্য। এখানেও তিনি ব্যর্থ হয়েছেন। গোলকিপার সুজন ঝাঁপিয়ে পড়ে ঠেকিয়ে দেন এমিলির শট। খেলায় হতাশ হয়ে কোচ মারুফ বলেন, ‘পরিণত দল খেলেছে অপরিণত দলের মতো। অপরিণত দল খেলেছে পরিণত দলের মতো।’ ব্রাদার্স কোচ মিরাজও সন্তুষ্ট তার দলের খেলায়, ‘পুরো টুর্নামেন্টে আমার ছেলেরা ভালো খেলছে। আমি সন্তুষ্ট। অনভিজ্ঞতা দুই দলের মধ্যে ব্যবধান গড়ে দিয়েছে।’ ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার পাওয়া এমিলি বলেন, ‘পারিবারিক সমস্যার কারণে আমি ভালোভাবে অনুশীলন করতে পারিনি। তারপরও চেষ্টা করেছি।’ এই চেষ্টায় পাওয়া পুরস্কারে হয়তো নিজের কষ্টটা ভুলতে পারবেন না এমিলি। কিন্তু দলকে তো আনন্দের উপলক্ষ এনে দিলেন।