দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়

শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা চলছেই

দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশনের সুপারিশ এখনও বাস্তবায়ন হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতায় এ সুপারিশ বাস্তবায়ন হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। বিচার বিভাগীয় কমিশন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সনদ বাতিলের সুপারিশ করেছিল। ২০১১ সালের ২৫ অক্টোবর এ কমিশন গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই কমিশন ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সুপারিশ জমা দেয় । মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দারুল ইহসান পরিস্থিতি নিয়ে সর্বশেষ সভায় আইন মন্ত্রণালয় মতামত দিয়েছে, আদালতের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সনদ বাতিল করা যাবে না। স্থগিতাদেশ বাতিল করতে চাইলে এটর্নি জেনারেলের মাধ্যমে উচ্চ আদালতে আপিল করতে হবে। কিন্তু আপিল করা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কোন উদ্যোগ নেই। ফলে এ সুপারিশ আদৌ বাস্তবায়ন হবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ পোষণ করছেন সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদালতের স্থিতাবস্থা ও মন্ত্রণালয়ের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় এখনও চারটি পৃথক ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। আর এ কারণে প্রতারিত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। এই চারটি গ্রুপের পৃথক পৃথক ক্যাম্পাসে পৃথক প্রশাসন ও উপাচার্য। আর দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়েল নামে সার্টিফিকেট দিচ্ছেন চার উপাচার্য। কোন বিশ্ববিদ্যালয়টি আসল আর কোনটি নকল তা জানতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। মন্ত্রণালয়ও এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের স্পষ্ট করে কিছু বলছে না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ওয়েবসাইটে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ঠিকানা দেয়া হয়েছে তাতে প্রধান ক্যাম্পাসের ঠিকানা দেয়া আছে বাড়ি-২১, সড়ক-৯/এ, ধানমন্ডি। সূত্র জানায়, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি গ্রুপের একটির নেপথ্যে কাজ করছে সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রীর ভাই। অন্যগুলোর নেপথ্যে রয়েছেন ছাত্রলীগের বর্তমান এবং সাবেক বেশ কয়েকজন নেতা। প্রতিটি গ্রুপই মন্ত্রণালয়ে গিয়ে তদ্বির করছে। এ কারণে এই বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধে মন্ত্রণালয় উদাসীন। শিক্ষার্থীরা বলছেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় ও জেলা শহরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা রয়েছে, যেগুলোর বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে প্রতারিত হচ্ছেন। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীা জানিয়েছেন, তারা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) একাধিকবার অভিযোগ দিলেও কোন সুফল পাননি। কোন ক্যাম্পাসটি বৈধ শিক্ষার্থীরা এ তথ্য না জেনে বিভিন্ন শাখায় ভর্তি হয়ে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। তথ্য অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সুপারিশ করে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটি অর্থের বিনিময়ে সনদ বিক্রি করছে এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইনের বিভিন্ন ধারা লংঘন করেছে । মন্ত্রণালয়ের সূত্রমতে, ধানমন্ডিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি সরকারের সাময়িক অনুমোদন পায় ১৯৯৩ সালে। তখন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দারুল ইহসান ট্রাস্ট’ নামের একটি ট্রাস্টি বোর্ড ছিল। ট্রাস্টের সেক্রেটারি ছিলেন সৈয়দ আলী নকী ও ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ছিলেন ছয়জন। পরে ব্যক্তিগত স্বার্থে এগুলো বিভক্ত হয় চারটি গ্রুপে। ইউজিসির বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার পরিচালক শামসুল আলম বলেন, আমরা প্রয়োজনীয় কাজ শেষে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছি। এখন যা করার মন্ত্রণালয়ই করবে। এদিকে, ইবাইস ইউনিভার্সিটি নিয়ে মালিকানা দ্বন্দ্ব চলছে দীর্ঘদিন ধরে। ফলে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়েছে। ভর্তি হওয়া একাধিক শিক্ষার্থী জানান, কে প্রকৃত মালিক আমরা তা বুঝতে পারছি না। সমপ্রতি ইবাইস ইউনিভার্সিটি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশংকা আরো বাড়তে থাকে। শিক্ষার্থীরা বলছেন, আমরা আশা করছি মন্ত্রণালয় অচিরেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।