মালিবাগ রেলগেটে শেয়ার ব্যবসায়ীর রহস্যজনক মৃত্যু

‘ট্রেনে কাটা পড়ার আগে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের সাথে কথা বলছিলেন’

রাজধানীর মালিবাগ রেলগেটে গত বুধবার বিকালে ট্রেনে কাটা পড়ে শেয়ার রিপ্লেসমেন্ট ব্যবসায়ী নবীউল্লাহ নবীর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় কমলাপুর রেলস্টেশন কর্তৃপক্ষ কমলাপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন। কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার শওকত হোসেন বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। জিআরপি কমলাপুর থানার ওসি আব্দুল মাজেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে নবীর মৃত্যুর বিষয়টি রহস্যজনক বলেই মনে হচ্ছে। এ ব্যাপারে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য নেয়া হয়েছে। তবে মামলার তদন্তের স্বার্থে তথ্যাদি গোপন রাখা হয়েছে। এদিকে মালিবাগ রেলগেটে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শাহাবুদ্দিন বলেন, কাটা পড়া ব্যক্তির সঙ্গে আরও ৬ থেকে ৭ জন লোক রেলগেটের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। দুর্ঘটনার ঠিক আগমুহূর্তে নবী রেললাইনে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলছিলেন। এরপর বিমানবন্দর রেলস্টেশনের দিক থেকে আসা অগ্নিবীনা এক্সপ্রেস ট্রেনে তিনি কাটা পড়েন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ মর্গে নবীর লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। মর্গে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে নবীর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মিনু বলেন, স্বামী ঋণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় ৯ দিন আগে মিনুকে র্যাব সদস্যরা ধরে নিয়ে যায়। তারা তাকে সময় বেঁধে দিয়ে পাওনাদারদের টাকা পরিশোধ করতে বলে। বুধবার সন্ধ্যায় র্যাব মিনুকে ছেড়ে দেয়। তখন তিনি স্বামীর মৃত্যুর খবর শুনে থানায় যান। মিনু আরও বলেন, এর আগে র্যাব-১ নবীকে ৩ বার আটক করেছিল। কিন্তু এতদিন ভয়ে তিনি কিছুই বলেননি। এ ব্যাপারে র্যাব-১ এর অধিনায়ক লে.কর্নেল হায়াত ইত্তেফাককে বলেন, নবীউল্লাহ নবীর জীবন হুমকির মুখে ছিল। শেয়ারবাজার ব্যবসায়ীরা পাওনা টাকার জন্য প্রায়ই তার বাড়িতে হামলা চালাতো। এছাড়া র্যাব জানতে পেরেছিল, নবীউল্লাহ নবী যে কোন সময় পাওনাদারদের আক্রোশের শিকার হতে পারেন। এজন্য র্যাব নবীকে কয়েকবার ডেকে পাওনাদারদের পাওনা পরিশোধ করতে বলে। ঘটনার দিনও নবীর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন মিনু র্যাব-১ এর কাছে এসেছিলেন। পাওনাদাররা তার রামপুরার বনশ্রীর বাড়িতে হামলা করেছিল। নিরাপত্তার জন্যই মিনু র্যাব-১ এর কাছে এসেছিলেন। এছাড়া র্যাবের কাছে নবীর বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। নিহত নবীর বড় ভাই জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বুধবার সকালে নবী বাসা থেকে বের হন। এরপর সন্ধ্যায় আবীর নামে তার এক বন্ধুর মাধ্যমে লাশের খবর পান তিনি। জাহাঙ্গীর বলেন, নবী গত আড়াই বছর ধরে শেয়ার ব্যবসা করে কয়েক কোটি টাকা দেনাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। নবীউল্লাহ নবী গ্রীন বাংলা কমিউনিকেশন (বিডি) লিমিটেড নামে একটি রিপ্লেসমেন্ট শেয়ার হাউসের কর্নধার। রামপুরার বনশ্রীর এফ ব্লকের একটি বাড়িতে তিনি মা, স্ত্রী ও ৫ বছরের কন্যা নীলাসহ বসবাস করতেন।