বৃক্ষ মেলায় সবুজের সান্নিধ্যে
প্রকাশ : ২১ জুন ২০১৩, ২৩:০৪
‘গাছ লাগিয়ে ভরবো এ দেশ, তৈরি করবো সুখের পরিবেশ’ এমন শ্লোগান নিয়েই রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জমে উঠেছে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০১৩। তবে এ বছর মেলা জমজমাট শুরু না হলেও চোখের আড়ালে নেই দর্শনার্থীদের। মাসব্যাপী এ মেলা শুরু হয়েছে গত ৫ জুন, চলবে ৪ জুলাই পর্যন্ত। মেলার প্রথমদিকে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের ভিড় কম থাকলেও এখন বেড়ে যাচ্ছে দর্শনার্থী ও ক্রেতাদের সংখ্যা।
যান্ত্রিক এ নগরের সব কোলাহল ভুলে ভালো লাগার জন্য অনেকেই ছুটে আসছেন মেলা প্রাঙ্গণে সবুজ বৃক্ষের সন্ধানে। দম বন্ধকরা সারি সারি ইট পাথর আর কংক্রিটের সুউচ্চ অট্টালিকা থেকে কিছুটা সময় খুঁজে নিয়ে কাটাচ্ছেন প্রাকৃতিক এ পরিবেশের সাথে। অনেকেই আসছেন বন্ধু-বান্ধব নিয়ে অথবা সপরিবারে। ঘুরে বেড়াচ্ছেন এক গাছ থেকে অন্য গাছের কাছে। ছুটে যাচ্ছেন অচেনা-অজানা বৃক্ষের কাছে, পরিচিত করছেন নিজেকে।
গতকাল শুক্রবার ছুটির দিন থাকায় মেলা প্রাঙ্গণে লোকজন ছিল অনেক বেশি। প্রায় সব নার্সারি স্টলেই কম বেশি বিক্রি হয়েছে। এবারের মেলায় সরকারি, বেসরকারি ব্যক্তিমালিকানাধীন মোট ১১০টি স্টল রয়েছে। সরকারি নার্সারি ১৯টি, বেসরকারি নার্সারি ৩টি, ব্যক্তিমালিকানার নার্সারি ৭৬টি, অন্যান্য দ্রব্যাদির ১২টি। এসব নার্সারির মধ্যে রয়েছে বরিশাল নার্সারি, কাঁশবন নার্সারি, আনন্দ নার্সারি, পপী নার্সারি, কৃষিবিদ উপকরণ নার্সারি, বাংলাদেশ নার্সারি, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নার্সারি ইত্যাদি। গত বুধবার পর্যন্ত বিক্রিত চারার সংখ্যা ৩ লাখ ৪ হাজার ৮০৩টি, যার মূল্য ১ কোটি ৮৩ লাখ ৪৫ হাজার ৯৩২ টাকা।
ছোট ছোট গাছে বড় বড় ফল দেখলেই দর্শনার্থীরা ছুটে যাচ্ছেন ঐসকল গাছের কাছে। এসব গাছের দাম দর্শনার্থীদের হাতের নাগালে নেই। মেলায় রয়েছে নানাজাতের বিভিন্ন রঙের আম। এসব গাছের মধ্যে রয়েছে থাই জাম্বুরা আম যার দাম ৬০ হাজার টাকা। এই গাছের একটি আম দেড় কেজি পর্যন্ত হয়। এছাড়াও রয়েছে পালমার আম যার দাম ৪৫ হাজার টাকা। এছাড়াও বারমাসী আম যার দাম ৮শ থেকে ৭ হাজার টাকার মধ্যে। ৩১ হাজার টাকা দামের রয়েছে থাই মিষ্টি তেঁতুল। আছে ইরানী লেবুযার দাম ২০ হাজার টাকা। পপী নার্সারির ম্যানেজার মোঃ সুমন জানান, বেশি দামের গাছ খুব কম বিক্রি হয়। প্রদর্শনীর জন্য এসব গাছ মেলায় আনা হয়। ছোট পলিব্যাগ ও টব বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে গত বছরের চেয়ে বিক্রি অনেক কম।
ধানমন্ডি থেকে মেলায় আসেন তাফসিনা সনিকা রত্না। তিনি জানান, বেড়ানোর উদ্দেশ্যেই মেলায় আসা। এখানে এসে মনে হচ্ছে পুরো পরিবর্তন হয়ে গেছি, প্রকৃতির সাথে মিশে গেছি। মন খুলে দম নিচ্ছি। ঘুরে ঘুরে দেখছি আর গাছ এবং ফল ফুলের সাথে পরিচিত হচ্ছি। আমরা শহরে যারা থাকি অনেক ফল খাই কিন্তু গাছের সাথে পরিচিত নই। যত দেখছি ততই দেখার ইচ্ছে বাড়ছে। অনেকগুলো গাছ পছন্দ হয়েছে। ভাবছি, মেলার শেষের দিকে এসে কিনে নিয়ে যাবো।