রোজার আগে বাজার গরম
প্রকাশ : ২১ জুন ২০১৩, ২৩:০৮
পবিত্র রমজান মাসে জিনিসপত্রের দাম না বাড়িয়ে রমজান শুরুর আগেই ‘কাজ শেষ করার’ সেই পুরনো কৌশল নিয়েছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। বাজার নিয়ন্ত্রণে গত সপ্তাহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে দ্রব্যমূল্য সংক্রান্ত আন্তঃমন্ত্রণালয় মনিটরিং কমিটির বৈঠক, সারাদেশে জেলা প্রশাসকদের চিঠি কোন কিছুই কাজে আসল না। সপ্তাহের ব্যবধানেই বাড়ল চাল, চিনি, পিঁয়াজ, আদা ও ডিমের দাম। শুধু পিঁয়াজের দামই প্রতিকেজিতে বেড়েছে ৪ থেকে ৫ টাকা। সরকারের বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)’র হিসেবেই এ পণ্যগুলোর দাম বাড়ার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। বাস্তবে দাম বেড়েছে আরো বেশি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবিএম আবুল কাশেম সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের এখন শেষ সময় হলেও বিগত বছরগুলোর মতো এবারো রমজানে বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কোনো সমস্যা সৃষ্টি হবে না। কেউ বাজার অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবে সরকার।
বাড়ছে চালের দাম:বোরো মৌসুম এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তার আগেই বাড়তে শুরু করেছে চালের দাম। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীতে মানভেদে বিভিন্ন প্রকার চালে কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, হঠাত্ করেই দেশের হাট-বাজারগুলোতে প্রতিমণ ধানে ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এক-দেড় মাস আগে যে ধান বিক্রি হয়েছে ৫৮০ থেকে ৬শ টাকা মণ। সেই ধান এখন বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা মণ দরে। এর প্রভাব পড়েছে চালের বাজারের ওপর। এ প্রসঙ্গে নিউমার্কেটের রহিম রাইচ শপের হুমায়ুন ফরিদ ইত্তেফাককে বলেন, এখন প্রান্তিক কৃষকের হাতে ধান নেই। সব ধান চলে গেছে মিলার, মজুদদারদের হাতে। তারা ইচ্ছেমতো ধান, চালের দাম বাড়াচ্ছে। গতকাল বাজারে মোটা চাল স্বর্ণা, ইরি ৩৩ থেকে ৩৪ টাকা, পাইজাম/লতা ৩৬ থেকে ৪০ টাকা, নাজিরশাইল/মিনিকেট মানভেদে ৩৭ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে তিনি জানান।
বাড়ছে পিঁয়াজের ঝাঁজ:রমজানে যে পণ্যগুলোর কদর বাড়ে, তার মধ্যে পিঁয়াজ অন্যতম। এবার রমজান শুরু না হতেই নিত্যপ্রয়োজনীয় এই পণ্যটির ঝাঁজে ক্রেতাদের নাকাল হওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজি পিঁয়াজে দাম বেড়েছে ৪ থেকে ৫ টাকা। অথচ গত বৃহস্পতিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি এবিএম আবুল কাশেম সাংবাদিকদের বলেন, এ মুহূর্তে পিঁয়াজের যথেষ্ট মজুদ আছে। সরবরাহও স্বাভাবিক। তাই রমজানে দাম বাড়বে না। কিন্তু রমজানের আগেই দাম বাড়ল পিঁয়াজের। সরকারের সংস্থা টিসিবির হিসাবে গতকাল বাজারে আমদানিকৃত পিঁয়াজ ২৮ থেকে ৩০ টাকা ও দেশি পিঁয়াজ ৩৫ থেকে ৩৮ টাকায় বিক্রি হয়। কিন্তু এক সপ্তাহ আগে আমদানিকৃত পিঁয়াজ ২৬ থেকে ২৮ টাকা ও দেশি পিঁয়াজ ৩২ থেকে ৩৪ এবং এক মাস আগে যথাক্রমে ২৬ থেকে ২৭ টাকা ও ৩০ থেকে ৩২ টাকায় বিক্রি হয়।
ডিম-আদা-চিনির দাম:দাম বেড়েছে ডিম, আদা, চিনির। প্রতি হালিতে ২ টাকা বেড়ে ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩২ টাকায়। এছাড়া মানভেদে প্রতিকেজি আদায় ৫ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৯০ টাকায়। গতকাল বাজারে প্রতিকেজি চিনি বিক্রি হয় ৪৮ থেকে ৫০ টাকা দরে। যা গত সপ্তাহে কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা কমে বিক্রি হয়।
ব্রয়লার মুরগীর দামও বেড়েছে। কেজিতে ৫ টাকা বেড়ে গতকাল বাজারে প্রতিকেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয় ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায়। এছাড়া অন্যান্য মাংসের মধ্যে গরু ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা, খাসির মাংস ৪৫০ থেকে ৪৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এছাড়া বিভিন্ন ধরনের মাছের মধ্যে ইলিশ ৬শ থেকে ১ হাজার টাকা, টেংরা ৪৫০ থেকে সাড়ে ৫শ টাকা, কই ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, শিং ৫শ থেকে ৬৫০ টাকা, রুই ও কাতলা আকারভেদে ১৮০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়।
সবজির বাজারেও আগুন:গতকাল বাজারে বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে আলু ১৫ থেকে ১৭ টাকা, পটল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা টাকা, শসা ৩০ থেকে ৩৫ টাকা ও টমেটো ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণে আগামীকাল রবিবার থেকে সারাদেশে নায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি শুরু করবে টিসিবি। পণ্যগুলোর মধ্যে রয়েছে ভোজ্যতেল, চিনি, মসুর ডাল ও ছোলা। দুই হাজার ৯৮৪ জন ডিলারের মাধমে ঢাকায় ২৫টি, চট্টগ্রামে ১০টি, অন্যান্য বিভাগীয় শহরে পাঁচটি করে এবং প্রতিটি জেলা সদরে দুটি করে ট্রাকে এসব পণ্য বিক্রি করা হবে।