স্নোডেনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ

মার্কিন গোপন নজরদারি কর্মসূচির তথ্য ফাঁসকারী দেশটির কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার (সিআইএ) সাবেক কর্মী এডওয়ার্ড স্নোডেনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আনা হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে আটক করাতে হংকংকের প্রতি আহবান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা ওয়াশিংটন পোস্টকে নিশ্চিত করে বলেছেন, ভার্জিনিয়ার একটি ফেডারেল আদালতে তার বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। পরে আদালত তার বিরুদ্ধে সাময়িক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে। এনবিসি টেলিভিশনের খবরে বলা হয়, স্নোডেনের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তি ও সরকারি সম্পত্তি চুরি এবং রাষ্ট্রীয় গোপন তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে। উনত্রিশ বছর বয়সী স্নোডেন একসময় সিআইএ’র কারিগরি সহকারি ছিলেন। এছাড়া তিনি গত চার বছর ডেল ও বুজ অ্যালেন হ্যামিলটনসহ বিদেশী বিভিন্ন ঠিকাদারের নিয়োগকৃত একজন কর্মী হিসেবে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থায় (এনএসএ) কাজ করেছেন। মার্কিন সরকার বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মাধ্যমে কীভাবে টেলিফোনে সাধারণ জনগণের ব্যক্তিগত কথোপকথন রেকর্ড করছে এবং ইন্টারনেটে তাদের গতিবিধির ওপর নজর রাখছে তা গত মে মাসে যুক্তরাজ্যের গার্ডিয়ান পত্রিকার কাছে ফাঁস করে দেন স্নোডেন। স্নোডেন গার্ডিয়ানকে বলেন, মানুষের মৌলিক স্বাধীনতা রক্ষা করার জন্যই তিনি বিষয়টি ফাঁস করেছেন। মার্কিন গোপন তথ্য ফাঁসের পর স্নোডেন পাড়ি জমান হংকংয়ে। তবে স্নোডেনকে দেশে ফিরিয়ে নেয়ার আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অবাধ মত প্রকাশের সুযোগ থাকায় হংকংয়ে আশ্রয় নিয়েছেন স্নোডেন। হংকংয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বন্দী বিনিময় চুক্তি থাকায় স্নোডেনকে যুক্তরাস্ট্রে ফেরত পাঠানো হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে স্নোডেনকে আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেয়া হবে নাকি তাকে মুক্ত করে দেয়া হবে সে ব্যাপারে শনিবার পর্যন্ত হংকং কর্তৃপক্ষ মুখে খোলেনি। হংকংয়ের পুলিশ কমিশনার অ্যান্ডি টিসাং বলেন, এ ব্যাপারে বিস্তারিত বলার সময় এখনও আসেনি।