উদ্যোক্তা সৃষ্টি করিবার বিষয় নহে
প্রকাশ : ২২ জুন ২০১৩, ২১:৩৪
কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য নূতন নূতন উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা রহিয়াছে। ব্যাপক হারে কাজের সুযোগ সৃষ্টি করিতে পারিলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হইয়া থাকে। এইজন্য দরকার উদ্যোক্তা শ্রেণীর বিকাশ সাধন করা। ইহা করিতে হইলে উদ্যোক্তাদের নানান ভাবে সাহায্য-সহযোগিতা লাগে। যাহা সরকার কিংবা নীতিনির্ধারকদের দায়িত্ব; কিন্তু আমাদের দেশে উদ্যোক্তাদের জন্য সেই রকম কোন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। বিশ্বব্যাপী এই বিষয়ে নানান ধরনের কোর্স বা ওয়ার্কশপ হইয়া থাকে। সর্বশেষ তথ্য এমনকি নূতন নূতন সুযোগগুলি লইয়া ওইসব কোর্সে আলোচনা হইয়া থাকে। তবে আমাদের এখানে সমপ্রতি উদ্যোক্তা সৃষ্টির এক কর্মশালা ঢাকা চেম্বারের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হইয়াছে। এই কর্মশালায় বলা হয়, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রিজ দুই হাজার নূতন উদ্যোক্তা সৃষ্টির উদ্যোগ লইয়াছে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিতকরণ ও বিপুল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্যই ঢাকা চেম্বার এই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করিয়াছে। উদ্দেশ্য খুবই ভাল। উদ্যোগও ভাল; কিন্তু প্রশিক্ষণ দিয়া কি উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা যায়? আসলে উদ্যোক্তা সৃষ্টি করিবার বিষয় নহে। ইহা একজন মানুষের ভিতরকার শক্তি। যাহা আপনাআপনিতেই একজনকে উদ্যোক্তার রূপ দিয়া থাকে। উদ্যোক্তা যদি সৃষ্টি করা যাইতো, তাহা হইলে বাংলাদেশই শুধু নহে, পৃথিবীতে গরীব দেশগুলো এতটা গরীব থাকিতো না।
স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনৈতিক বিকাশ সাধনের জন্য শিল্পকারখানা গড়িয়া তোলার বিকল্প নাই। ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমেও দেশ আগাইয়া যাইতে পারে। বোধ করি সেই অবস্থান হইতে ঢাকা চেম্বার এমন উদ্যোগ গ্রহণ করিয়াছে; কিন্তু ইহার ফল কি হইবে তাহা নিয়া যথেষ্ট সংশয় রহিয়াছে। বড়জোর কয়েকটি প্রশিক্ষণ কোর্স দিয়াই ঢাকা চেম্বার ক্ষান্ত হইয়া যাইবে। তাহার পর কেহ যদি উদ্যোক্তা হইতে পারে, মন্দ হইবে না। ধরিয়া নেওয়া যায় যে, প্রশিক্ষণ শেষে কয়েকজন নূতন উদ্যোক্তা কোন পদক্ষেপ লইবে; কিন্তু ইহা কি এতই সহজ? বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতিও বিবেচনার দাবি রাখে।
একজন উদ্যোক্তার অর্থায়ন সুবিধার দরকার হয়। নিজের ইক্যুইটি দিয়াও তাহাকে ব্যাংকের দ্বারস্থ হইতে হয়। না হইলে পুঁজির সংস্থান হইবে কিভাবে? ক্ষুদ্র কিংবা বড় উদ্যোক্তা যেই হউক না কেন, তাহাকে ব্যাংকের ঋণ নিতে হয়। এই ঋণ নিতে হয় চড়া সুদে। বিশ্বের কোথাও এত চড়া সুদে ব্যাংক ঋণ নাই। বাংলাদেশে জ্বালানি সংকটও প্রবল। এইখানে সরকারী দফতরগুলি হইতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড় করিবার জটিলতার কথাও সবারই জানা রহিয়াছে। সেই কারণেই বলা যাইতে পারে যে, ঢাকা চেম্বারের উদ্যোগটি ভাল হইলেও আসলে ইহা কার্যকর করা সহজ নহে। আর যে কেহই যখন তখন উদ্যোক্তা বনিয়া যাইতে পারেন না। তাই উদ্যোক্তা সৃষ্টির ভ্রান্ত প্রয়াস না লইয়া বরং উদ্যোক্তাদের জন্য বিনিয়োগের অন্যান্য শর্তগুলি পূরণ করিয়া বিভিন্ন কোর্স গ্রহণ করিলে ভাল হইবে। খাতভিত্তিক ব্যবসা-বাণিজ্যের তথ্যাদি এবং বিনিয়োগ সুবিধার বিষয়গুলি বিদ্যমান উদ্যোক্তাদের সহিত শেয়ার করিতে পারিলে দেশের মঙ্গল হইবে।