সেই মোহামেডানই ফাইনালে

বিদেশি খেলোয়াড় না থাকায় প্রথমে খেলতেই চায়নি। শেষ পর্যন্ত অনেকটা চেষ্টার পর মাঠের লড়াইয়ে তাদের পাওয়া গেল। আর সেই মোহামেডানই উঠে গেল সুপার কাপের ফাইনালে। গতকাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ২-০ গোলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়াচক্রকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে গেল। গোল দুটি করেন ওয়াহেদ ও মোবারক। আগে দলটিকে সেমিফাইনালে পৌঁছানোতেও অবদান ছিল এই দুজনেরই। এই নিয়ে টানা তিনবার সুপার কাপের ফাইনালে উঠলো ঐতিহ্যবাহী দলটি। গতকাল সুপার কাপ ফুটবলের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়াইটা শুধু দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যেই ছিল না। দুই দলের কোচ মোহামেডানের সাইফুল বারী টিটু এবং মুক্তিযোদ্ধার শফিকুল ইসলাম মানিকের মধ্যেও লড়াই হয়েছে। কারণ তারা মাঠের বাইরে ঘনিষ্ঠজনও বটে। একটা ভালো লড়াই হবে সে আশায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আসা হাজার পাঁচেক ফুটবল অনুরাগীদের উপস্থিতি ছিল। আক্রমণ আর পাল্টা আক্রমণে সেমিফাইনালে উত্তেজনার রশদও পাওয়া গেল। প্রথমার্ধের ৪৪ মিনিট পর্যন্ত কোন গোল হয়নি। মুক্তিযোদ্ধা যথেষ্ট সুযোগও পেয়েছিল। স্ট্রাইকিং পজিশনে থাকা রনি এবং বিপ্লব মোহামেডানের গোলকিপার মামুন খানকে বিপদে ফেলতে পারছিলেন না। মোহামেডানও পেয়েছিল গোলের সুযোগ। মারুফ, মানিক, মোবারক, সোহেল রানা, ওয়াহেদ বল জালে পাঠাতে পারছিলেন না। বার বার বল তুলে দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধার গোলকিপার জিয়ার হাতে। গোল পেতে যে ভাগ্যের স্পর্শ লাগে। ভাগ্যের সেই হাতটার প্রথম স্পর্শ পেয়েছে মোহামেডান প্রথমার্ধের বাঁশি বাজার ঠিক আগে। মুক্তিযোদ্ধার ডিফেন্ডার প্রদীপ বড়ুয়া মোহামেডানের উইংগার মোবারককে প্রথমেই বাধা দিয়ে ফেলে দিতে পারতেন। কিন্তু তা না করে মোবারকের পেছনে পেছনে ছোটেন সিনিয়র ফুটবলার প্রদীপ। চতুর মোবারক প্রদীপকে দুই বার ডজ দিয়ে বক্সের কাছ থেকে ক্রস করে স্ট্রাইকার ওয়াহেদের মাথায় বল ফেলেন। ওয়াহেদ নিখুঁত এক হেডে বল জালে পাঠিয়ে দেন ১-০। পরের গোলটা নিজেই গোল করলেন মোবারক। ৬১ মিনিটে বল নিয়ে সাইড লাইন ধরে ঢুকে বক্সের বাইরে থেকে মাপা এক লব ফেলেন। বল মুক্তিযোদ্ধার গোলকিপারের মাথার ওপর দিয়ে সরাসরি জালে ঢুকে যায় ২-০। কিছুই করার ছিল না গোলকিপারের। মুক্তিযোদ্ধার বুকে পেরেক গেঁথে দিয়ে ম্যাচসেরা পুরস্কার তুলে নিয়েছেন মোবারক। ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়নি মানিকের দল মুক্তিযোদ্ধা। বিপ্লব আর রনিকে তুলে নিয়ে শেষবারের মতো ভাগ্য যাচাই করতে চেয়েছিলেন মানিক। বদলি স্ট্রাইকার সিহাব দুর্দান্ত এক ফ্রিকিক করেছিলেন। কিন্তু মোহামেডানের গোলকিপার মামুন খান বাধা হয়ে দাঁড়ানোয় মুক্তিযোদ্ধার চেষ্টা বিফলে যায়। বিদায় নিতে হয় ফেডারেশন কাপ এবং স্বাধীনতা কাপের সেমিফাইনালে খেলা মুক্তিযোদ্ধাকে। ম্যাচের পর কোচ মানিক দোষ দিয়েছেন তার স্ট্রাইকারদের। তিনি বলেন ‘স্ট্রাইকাররা দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারপরও আমাদের খেলায় আমরা সন্তুষ্ট। ফাইনালে উঠলে এটা হতো আমাদের জন্য চমক।’ মোহামেডানের কোচ টিটু বলেছেন, প্রথম গোলটাই আমাদের জন্য ম্যাচ জয়ের টার্নিং পয়েন্ট। আর দ্বিতীয় গোলটা আমাদের নিরাপদ স্থানে এনে দিয়েছে।’