সৌদিতে গ্রেফতার আতংকে বাংলাদেশি শ্রমিকরা

সৌদি আরবে অবৈধ শ্রমিকদের বৈধকরণ প্রক্রিয়ার নির্ধারিত সময়সীমা আরো তিন মাস বৃদ্ধির আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশসহ অন্যান্য শ্রমিক প্রেরণকারী দেশসমূহ। সৌদি বাদশাহর বিশেষ ক্ষমায় অবৈধ শ্রমিকদের বৈধতা প্রদানের জন্য গত ১০ মে থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত তারিখ নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বিপুল সংখ্যক শ্রমিকের কাগজপত্র ঠিক করতে এ সময়সীমা যথেষ্ট নয় বলে জানিয়েছে শ্রমিক প্রেরণকারী দেশসমূহ। এদিকে, জেদ্দাস্থ সৌদি দূতাবাসের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা। তারা বলছেন, যাবতীয় বৈধ কাগজপত্রাদি দূতাবাসে জমা দেয়ার পরেও পুলিশ ভেরিফিকেশনের অজুহাত দেখিয়ে দূতাবাসের কর্মকর্তারা পাসপোর্ট প্রদানে সময়ক্ষেপণ করছে। এরফলে অবৈধ শ্রমিকরা গ্রেফতার আতংকে দিন কাটাচ্ছেন। ফলে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে এই সময়সীমা বৃদ্ধির আবেদনকে সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রবাসী শ্রমিকরা। তবে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শ্রমিকদের বৈধতা প্রদানের কাজটি দ্রুততম সময়ে শেষ করার জন্য ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ থেকে জেদ্দা ও রিয়াদে তিন শতাধিক কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে। ফিঙ্গার প্রিন্ট অ্যাকটিভ না হওয়ার আগেই বিমানের টিকিট নিয়ে কিছু শ্রমিক দেশে ফিরতে চাইলে তাদের বিমানবন্দর থেকে ফেরত পাঠানো হয়। এর ফলে শ্রমিকদের মাঝে আতংক ছড়ায়। তবে এট সাময়িক। বাংলাদেশ সরকার দ্রুততম সময়ে শ্রমিকদের বৈধ করার বিষয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডা. দীপু মনি গত ১৯ জুন সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছে সাধারণ ক্ষমার সময়সীমা আরো তিন মাস বৃদ্ধির আবেদন জানান। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রাণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. নাজিরবিন ওবায়েদ মাদানির সঙ্গে দেখা করে তিনি সময়সীমা বৃদ্ধির এ আবেদনের কথা জানান। বাংলাদেশের সর্ববৃহত্ শ্রমিক প্রেরণকারী দেশ সৌদি আরবে প্রায় ২০ লাখ বাংলাদেশি শ্রমিক বাস করেন। যার মধ্যে প্রায় ৪ লাখ শ্রমিক অবৈধভাবে দেশটিতে বাস করছেন। সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার পরে এ পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশি বৈধতা পেয়েছেন। এদিকে, আমাদের উখিয়া প্রতিনিধি জানান, সৌদি আরবে বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত উখিয়া-টেকনাফের প্রায় অর্ধলক্ষাধিক প্রবাসী গ্রেফতার আতংকে মানবেতর দিন যাপন করছেন। সৌদি সরকার ঘোষিত ৩ জুলাই সেখানে অবৈধভাবে অবস্থানরত প্রবাসীদের বৈধতা সুযোগ গ্রহণের মেয়াদকাল যতই এগিয়ে আসছে ততই শ্রমিকদের মাঝে বিরাজ করছে উদ্বেগ, উত্কণ্ঠা ও হতাশা। কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলা রাজাপালং ইউনিয়নের পূর্বদরগাহ্ বিল গ্রামের ফকির আহমদের ছেলে ছৈয়দ নূর জানান, তিনি ২৩ বছর ধরে সৌদি আরবের মক্কা শহরের মিজফলাহ এলাকায় সপরিবারে বসবাস করছেন। বৈধ শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার লক্ষ্যে সৌদি সরকারের ঘোষণামতে বাংলাদেশি নাগরিকত্ব সনদ, জন্মসনদ, পিতা-মাতার জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি ও জমিজমার খতিয়ানসহ যাবতীয় বৈধতা জেদ্দাস্থ দূতাবাসের ৬ নম্বর কক্ষে জমা দেয়ার পরও তাকে পাসপোর্ট দেয়া হয়নি। তিনি জানান, দূতাবাসের কর্মকর্তা বাংলাদেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মো. হাবিবুর রহমান তার কাছ থেকে আবার পুলিশ ভেরিফিকেশনের রিপোর্ট চাওয়ার প্রেক্ষিতে পাসপোর্ট পাওয়ার বিষয়টি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। একই সমস্যার কথা বলছেন অনেকেই।