বরিশালে চিকিত্সক খুন

মামলা না করতে হুমকির অভিযোগ, লাশ পরিবারকে হস্তান্তর

গত শনিবার সাগরদীর শেফা ডায়াগনস্টিক ল্যাবের মালিক ও তার লোকজনের নির্যাতনে নিহত চিকিত্সক আরিফুর রহমানের লাশের ময়না তদন্ত গতকাল রবিবার সম্পন্ন হয়েছে। ডা. আরিফের ভাই প্রকৌশলী এনাম হাফিজসহ পরিবারের সদস্যরা এসে লাশ গ্রহণ করেছেন। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করতে রাজি হননি তারা। প্রকৌশলী এনাম হাফিজ সাংবাদিকদের জানান, অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় মুন্সীগঞ্জ থেকে এসে তাদের পক্ষে মামলা পরিচালনা করা সম্ভব হবে না। বরিশালে তাদের নিজেদের জীবনের নিরাপত্তা নেই বলে নিহত ডাক্তার আরিফের পরিবারের সদস্যরা জানান। গতকাল তারা বরিশাল আসার পর অভিযুক্ত শাহিন ও তার সহযোগীরা মামলা না করার জন্য নানাভাবে তাদের হুমকি দেয় বলে জানা গেছে। ঘটনার পর ক্লিনিকের দুই কর্মচারীকে পুলিশ আটক করলেও গভীর রাতে তাদের রহস্যজনক কারণে ছেড়ে দেয়। পুলিশ ডায়াগনস্টিক ল্যাবের মালিক শাহিনের পক্ষ নিয়েছে বলে শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিত্সকরা অভিযোগ করেন। ডা. আরিফের সহপাঠীরা শাহিনসহ অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। খুব শিগগিরই শাহিনের গ্রেফতারের দাবিতে তারা মানববন্ধন করবেন বলে উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান। এদিকে কোতয়ালী পুলিশ জানিয়েছে যাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। নিহত আরিফের পরিবার এখনো মামলা না করায় পুলিশ কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে কোতয়ালী থানার ওসি জানান। বিএমএ’র ক্ষোভ প্রকাশ শেফা ডায়াগনিস্টক সেন্টারের মালিকের নির্যাতনে ডাঃ আরিফুর রহমানের মৃত্যু ও অভিযুক্ত দু’জনকে আটকের পর পুলিশ ছেড়ে দেয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন (বিএমএ) বরিশাল শাখা। গতকাল বিএমএ’র সভাপতি ডাঃ মোঃ ইসতিয়াক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ মনিরুজ্জামান এক যুক্ত বিবৃতিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে ল্যাব মালিক শাহিনসহ অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন।