গল্প নয় সত্যি

বেরসিক বাঘ!

বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য চমত্কার আর ব্যতিক্রমধর্মী কোনো স্থান বেছে নেওয়ার ইচ্ছা অনেকের মাঝেই থাকে। আর এমনই এক ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতেই নিজেদের বিবাহোত্তর সংবর্ধনার স্থান হিসেবে ইংল্যান্ডের ডেভনে অবস্থিত পেইনটন চিড়িয়াখানাকেই বেছে নিয়েছিলেন কারমা ও এন্ড্রি ম্যাডউইক জুটি। মূলত অনেকটা সাফারি পার্কের আদলে গড়ে তোলা এই চিড়িয়াখানাটিতে বণ্য প্রাণীরা মুক্তভাবে ঘুরে বেড়ালেও দর্শনার্থীদের বন্দী থাকতে হয় কাঁচের দেয়াল দিয়ে আলাদা করা কিছু স্থানের মাঝে। আর এমনই একটি স্থানে বিয়ের সকল আয়োজন শেষে যখন বিবাহিত জুটির ছবি তোলার পালা তখনই ঘটে যায় মজার এক ঘটনা। সে সময় বিয়ের পোশাক পড়া কারমা ও এন্ড্রি ম্যাডউইক একে অন্যের দিকে ভালোবাসার দৃষ্টিতে তাকিয়ে একের পর এক ছবির জন্য পোজ দিচ্ছিলেন। বিয়ের ছবি তোলার দায়িত্বে থাকা ভিকি বোল্টারেরও সকল আগ্রহ ছিল এই দম্পতিকে ঘিরেই। কিন্তু এরই মাঝে কখন যে তাদের ঠিক পেছনে নিরাপত্তা কাঁচের গা ঘেঁষে দুর্লভ প্রজাতির সুমাত্রান বাঘের একটি এসে দাঁড়িয়েছে সেটা কারোই চট করে চোখে পড়েনি। কিন্তু ছবি তোলা শেষে ছবিগুলো একবার দেখে নেওয়ার সময়ই সবার চোখে পড়ে বাঘটি। সাধারণত চিড়িয়াখানার এই প্রাণীরা কখনও কাঁচের এত কাছাকাছি না এলেও বান্ডা নামের এই বাঘটি কারমা ও এন্ড্রিউ’র ঠিক মাঝের একটি জায়গায় দাঁড়িয়েছিল বেশ খানিকটা সময়। ফলে কারমা ও এন্ড্রিউ’র বেশ কিছু ছবিতেই দেখা মেলে বেরসিক এই বাঘের। এ সম্পর্কে ফটোগ্রাফার ভিকি বোল্টার বলেন, ‘কারমা ও এন্ড্রিউ তখন কাঁচের নিরাপত্তা দেয়ালের দিকে পাশ ফিরেছিল বলে বাঘটি স্বভাবতই তাদের চোখে পড়েনি। তা ছাড়া মাত্র ২০ সেকেন্ডের মতো সময় যখন বাঘটি দাঁড়িয়েছিল তখন আমারও সমস্ত মনোযোগ ছিল বিবাহিত দম্পতির দিকেই। এ কারণে আমিও সেভাবে বাঘটি খেয়াল করিনি। কিন্তু পরে ছবিগুলোতে চোখ বুলিয়ে নেওয়ার সময়ই আমরা দু’জনের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা বেরসিক বাঘটিকে আবিষ্কার করি।’ এদিকে ঘটনাক্রমে এই বিষয়টি নিয়ে বরং বেশ খুশিই হয়েছেন পারফর্মিং আর্টসের শিক্ষিকা কারমা ও তার ভিডিওগ্রাফার বর এন্ড্রিউ। নিজেদের এই বিয়ের ছবিকে একদমই ব্যতিক্রমী এক বিয়ের ছবি দাবি করে কারমা তার প্রতিক্রিয়ায় এটাও যোগ করেছেন যে তিনি বিড়াল প্রচণ্ড ভালোবাসেন এবং তার মতো বিড়ালপ্রেমী এক মেয়ের বিয়ের ছবিতে বড় এই বিড়ালের (বাঘ) উপস্থিতিই বেশ মানানসই।