ফিলিস্তিনের বিভক্তির ছয় বছর

ফিলিস্তিনের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল ফাতাহ এবং হামাসের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে ছয় বছর আগে। ২০০৬ সালে নির্বাচনে হামাসের বিজয়ের পর উত্তেজনা আরো বেড়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র, ইসরা্্ইল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা ও জাপানে হামাস সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত। ফলে দেশগুলো নির্বাচনের পর ফিলিস্তিনের ওপর নানা রকম নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে এবং সাহায্য বন্ধ করে দেয়। ২০০৭ সালের ১৪ জুন ফাতাহ ও হামাসের সংঘর্ষে কয়েক ডজন মানুষ মারা যায়। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সরকার ভেঙ্গে দেন। তার দল ফাতাহ পশ্চিম তীরের নিয়ন্ত্রণ নেয় অন্যদিকে গাজার কর্তৃত্ব চলে যায় হামাসের হাতে। রাজনৈতিক বিভেদ ফিলিস্তিনকে খন্ডিত করছে এতে তারা ক্ষুব্ধ এবং হতাশ। প্যালেস্টিনিয়ান ল্যাজিসলেটিভ কাউন্সিলের (পিএলসি) সদস্য এবং ফাতাহ নেতা ফয়সাল আবু শাহলা বলেন, ২০০৭ সালে যা ঘটেছিল তা ফিলিস্তিন জাতির জন্য দ্বিতীয় বিপর্যয়। প্রথম বিপর্যয় ঘটেছিল ১৯৪৮ সালে যখন হাজার হাজার ফিলিস্তিনি তাদের ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছিল। হামাস এবং ফাতাহ ফিলিস্তিন সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করেছে। এমনিতে ফিলিস্তিনিরা একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি। ধর্মীয় আচার আচরণে পার্থক্য তাদের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করতে পারেনি। কিন্তু রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব এখন ফিলিস্তিন ইস্যুকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এতে লাভবান হচ্ছে ইসরাইল। ফয়সাল আবু শাহলা বলেন, আমি গাজা থেকে নির্বাচিত হয়েছিলাম। ফাতাহ ও হামাসের দ্বন্দ্ব চলছিল। হামাসের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছিল না। প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের জন্য তারা সন্ত্রাস ও বল প্রয়োগের আশ্রয় নেয়। গাজা আমার জন্মস্থান, আমার আত্মীয় পরিজন এখানে বাস করে। পশ্চিম তীরে যাওয়ার অনেক প্রস্তাব আমি প্রত্যাখ্যান করেছি। ২০০৭ সালের ঘটনার পর গাজায় বসবাস করা আমার জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল। ফাতাহকে এখানে একটি নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে দেখা হত। অনেক ফাতাহ নেতাকে জেলে পাঠানো হয়েছিল। অনেকে সহিংসতার শিকার হয়েছিল। অনেকের বাড়ি, গাড়ি এমনকি আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। পিএলসির নির্বাচিত সদস্য হওয়ার কারণে আমি কিছুটা ভাল অবস্থায় ছিলাম। এখন পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে তবে এখনও আমাদের অফিস খোলার অনুমতি দেয়া হয়নি। আমরা সে সময়ের কথা মনে রাখতে চাই না। অতীতের আলোচনায় যেতে চাই না। আমরা পুনঃএকত্রিকরণ চাই। ২০১২ সালে ফাতাহ ও হামাস দোহায় সমঝোতায় স্বাক্ষর করে কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তা কার্যকর হয়নি। গত ১৪ মে মিসরে এক বৈঠকে তিন মাসের মধ্যে পুনঃএকত্রিকরণের ব্যাপারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলা হয়েছে। আমি এবার আশাবাদী। পিএলসির নির্বাচিত সদস্য এবং হামাস নেতা আনোয়ার জাবাওনের বাড়ি পশ্চিম তীরে। জাবাওন বলেন, ভাগাভাগির সময় আমি জেলে ছিলাম। ২০০৬ সালের নির্বাচনের পর পশ্চিম তীরে পিএলসির অনেক সদস্য এবং মন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হয়। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কাছে মোহাম্মদ দাহলানের ব্যাপারে অভিযোগ জানানো হয়েছিল কিন্তু তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। মোহাম্মদ দাহলান হামাসের মূল উত্পাটন করতে চেয়েছিলেন। তার পরিকল্পনা গাজায় বাস্তবায়ন না হলেও পশ্চিম তীরে বাস্তবায়ন হয়েছিল। আমি একজন পিএলসির সদস্য কিন্তু আমি গাজায় আমার অফিস খুলতে পারছি না। আমি এখনই নির্বাচন চাই। সেই নির্বাচন অবাধ ও নিরপেক্ষ হতে হবে। পুনঃএকত্রিকরণ চায় না যুক্তরাষ্ট্র ও উইরোপীয় ইউনিয়ন। আমাদের বিদেশীদের বিশ্বাস করলে চলবে না।