রেশমা এখন মুক্ত বিহঙ্গ
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) সংবাদদাতা
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০১৩, ২১:৪৮
মৃত্যুকূপ থেকে ফিরে আসা সেই রেশমা এখন তার গ্রামের বাড়িতে খোলা আকাশের নিচে মুক্ত বাতাসে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। মেতে উঠেছেন মা, খালা ও পরিবারের সদস্যদের সাথে নানা গল্প-গুজবে। একদিন জীবন-জীবিকার তাগিদে রেশমাকে যেতে হয়েছিল ঢাকার সাভারে রানা প্লাজায় পোশাক শ্রমিকের কাজে। রানা প্লাজা ভেঙ্গে পড়ার পর অসংখ্য পোশাক শ্রমিকের সাথে রেশমাকেও ধ্বংস স্তূপের মধ্যে মৃত্যুর প্রহর গুনতে হয়েছিল। অন্যদিকে রেশমার জন্য প্রতীক্ষার প্রহর গুনছিলেন তার স্বজনরা। ঘোড়াঘাটের কশিগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা রেশমার মা জোবেদা খাতুন ও ভাই-বোনরা এক পর্যায়ে রেশমার বেঁচে থাকার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলেন। কিন্তু চমত্কৃত করে ১৭ দিন পর জীবিত উদ্ধার হন রেশমা। বিস্ময়কর এ ঘটনাটি বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে। সুস্থ হওয়ার পর রেশমা চাকরি পান ওয়েস্টিন হোটেলে। রেশমার আবদারেই ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষ নিজ দায়িত্বে রেশমাকে তার বাড়ি ঘোড়াঘাটের কশিগাড়ী গ্রামে নিয়ে যান। ওয়েস্টিনে যোগদানের পরই রেশমা তার জন্মভূমি ঘোড়াঘাটে যাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠেছিলেন। ওয়েস্টিনে পাবলিক এরিয়া এম্বাসেডর হিসেবে হোটেলের কাজে তার প্রশিক্ষণ চলায় গ্রামের বাড়িতে যেতে কিছুটা বিলম্ব হয়। ওয়েস্টিন কর্তৃপক্ষ জানান, রেশমাকে এখনও পূর্ণাঙ্গ কাজের দায়িত্ব দেয়া হয়নি। রেশমা মাত্র ১৩ দিনেই অনেক ইংরেজি শিখেছেন। গত ২০ জুন গভীর রাতে রেশমা তার গ্রামের বাড়িতে হোটেল কর্তৃপক্ষের গাড়িতেই আসেন। পরদিন থেকে রেশমা বিভিন্ন মিডিয়া ও প্রশাসনের লোকজন এবং আত্মীয়-স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথাবার্তা বলছেন। তবে যত দিন যাচ্ছে লোকের ভিড় ততোই বাড়ছে।