বন্ধ হচ্ছে না চ্যাম্পিয়নস ট্রফি!
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০১৩, ২১:৪৯
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের আগের ঘোষণা অনুযায়ী গতকালই শেষ হয়ে গেছে আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির শেষ আসর। আর কখনো মাঠে গড়ানোর কথা নয় এই টুর্নামেন্টটির। কিন্তু আইসিসি তাদের এই অবস্থান বদলাতে পারে বলেই এবার জানা যাচ্ছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত এই চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সাফল্য দেখে আইসিসি টুর্নামেন্টটা চালু রাখার চিন্তা-ভাবনাই করছে বলে সংবাদ মাধ্যম দাবি করছে।
এই চ্যাম্পিয়নস ট্রফি টুর্নামেন্টটা আইসিসি নিয়ে যতোবার মত বদলেছে, আর কোনো খেলার কোনো টুর্নামেন্ট নিয়ে তা হয়েছে বলে মনে হয় না। সর্বশেষ আইসিসির পরিকল্পনা ছিল, চ্যাম্পিয়নস ট্রফি বন্ধ করে দিয়ে ২০১৭ সাল থেকে তারা একটি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করবে। কিন্তু এবারের চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সাফল্য ও দর্শকদের উত্সাহ আইসিসিকে ভাবাচ্ছে। ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোকে আইসিসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেছেন, তারা এখন চ্যাম্পিয়নস ট্রফি টিকিয়ে রাখার ব্যাপারটা খুব গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছেন।
এই টুর্নামেন্টটি শুরুর সময়ে বলা হয়েছিল, ক্রিকেটের উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ক্রিকেটকে আরও জনপ্রিয় করার জন্য এই টুর্নামেন্ট ব্যবহার করা হবে। পরে সেটা আদৌ আর করা হয়নি। ১৯৯৮ সালে শুরু হওয়া চ্যাম্পিয়নস ট্রফি কয়েক দফা নাম ও ফরম্যাট পরিবর্তন করেছেন। ঢাকায় শুরু হয়েছিল নকআউট বিশ্বকাপ নামে; তখন সব টেস্ট খেলুড়ে দেশ খেলেছে এই টুর্নামেন্টে। ২০০২ সালে এই টুর্নামেন্টের নাম রাখা হয় চ্যাম্পিয়নস ট্রফি; সেবার ১২ দল খেলেছিল এই টুর্নামেন্টে। ২০০৬ সালে আট দলে নেমে আসে টুর্নামেন্ট; সেবার শেষ দুই দল ঠিক করে নেয়া হয় বাছাই টুর্নামেন্টের ভেতর দিয়ে। ২০০৯ সালে বলা হয়, আইসিসি ওয়ানডে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আট দল খেলবে এই টুর্নামেন্টে।
সর্বশেষ ২০১২ সালে আইসিসি টেস্ট ক্রিকেটকে বাঁচানোর জন্য সিদ্ধান্ত নেয়, দু’বছর বাদে বাদে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়নস ট্রফি বন্ধ করে দেয়া হবে। তারা সে সময় বলেছিল, একই ফরম্যাটে দুটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট রাখা হবে না। যেহেতু ওয়ানডে বিশ্বকাপ আছে, তাই চ্যাম্পিয়নস ট্রফির দরকার নেই। সে জায়গায় চলবে তিন সপ্তাহের এক টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ। কার্যত সে চ্যাম্পিয়নশিপে তিনটি দেশ অংশ নেবে। সর্বশেষ চার বছরের র্যাংকিংয়ের শীর্ষ তিন টেস্ট দল এক দেশে দুটি সেমিফাইনাল ও একটি ফাইনাল খেলবে।
কিন্তু আইসিসি এখন দেখছে, কল্পিত এই টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ চালু করে টিকিয়ে রাখা খুব কঠিন। প্রথমত টেস্ট ক্রিকেটে বৈশ্বিক এই আগ্রহ নেই। দ্বিতীয়ত এই চ্যাম্পিয়নশিপে মাত্র ৩টি দেশের দর্শকরাই আগ্রহ টের পাবে। বিপরীতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি এখনও বিশ্বের লাখো দর্শককে টানছে। ফলে এই টুর্নামেন্টটি আবার ফরম্যাট বদলে চালু রাখার চিন্তা চলছে এখন।
নতুন ফরম্যাটে এটি হয়তো দু’বছরের বদলে চার বছর বাদে বাদে অনুষ্ঠিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যাও হয়তো ১০-এ উন্নীত হতে পারে। একই সঙ্গে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশীপের জন্য অন্য কিছুও ভাবা হচ্ছে।
আপাতত আইসিসির বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে কাজ করছেন। তবে আইসিসির যে বার্ষিক সাধারণ সভা আজ শুরু হচ্ছে, সেখানেও এই বিষয়টি আলোচ্য হয়ে উঠতে পারে।