মহিমান্বিত ও বরকতময় শবে বরাত
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০১৩, ২২:২২
দিবস-রজনী-মাস-বত্সর সবই মহান আল্লাহর অপার সৃষ্টি। তাহার পরও কতিপয় দিন ও রাত্রি রহিয়াছে যাহা অশেষ মহিমান্বিত ও বরকতময়। ইহা আল্লাহ তায়ালার শান ও কুদরতেরই প্রমাণ। যে কয়টি রাত্রি মোবারক বলিয়া আখ্যায়িত তম্মধ্যে শবেবরাত বা লায়লাতুল বারায়াত অন্যতম। প্রকৃতপক্ষে ইহার অর্থ নাজাত, মুক্তি ও নিষ্কৃতির রাত্রি। তবে বাংলাদেশসহ উপমহাদেশে ইহা ভাগ্যরজনী বলিয়া অধিক পরিচিত। ফার্সী শব্দ ‘বরাত’-এর প্রভাবে এরূপ নামকরণ হইয়াছে। এ ব্যাপারে কুরআন কারীমে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ না থাকিলেও হাদীস শরীফে ইহাকে ‘লাইলাতুন নিসফি মিন শাবান’ বা মধ্য শাবানের রাত্রি নামে অভিহিত করা হইয়াছে। ফজিলত ও বাস্তবসম্মত কারণে লাইলাতুল বারায়াতের সিয়াম পালন ও ইবাদত-বন্দেগীর মাধ্যমে রাত্রি যাপনের গুরুত্ব অপরিসীম। কেননা আর পক্ষকাল পরেই আসিতেছে ত্যাগ-তিতিক্ষার অনুপম দৃষ্টান্ত মাহে রমজান। লাইলাতুল বারায়াত মাসব্যাপী সেই প্রশিক্ষণের পূর্ব প্রস্তুতিস্বরূপ। এজন্য ইহাকে বলা হয় রমজানের মুয়াজ্জিন বা পতাকাবাহী।
সেই পবিত্র রাত্রি আজ আমাদের দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত। অদ্য দিবাবসানেই সেই রাত্রির শুভাগমন ঘটিবে। এই বিশেষ রাত্রে অফুরান্ত সওয়াব হাসিল ও কল্যাণ কামনায় নফল নামাজসহ বাড়তি ইবাদত-বন্দেগী করিতে হয়। রাতভর কুরআন তেলাওয়াত, জিকির-আজকার, তাসবিহ-তাহলিল ইত্যাদি ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করিতে হয়। এই রাত্রি উপলক্ষে হালুয়া-রুটি, ফিন্নী-পায়েশ, খিচুড়ি, বিরিয়ানি প্রভৃতি বিতরণ বাধ্যতামূলক নয়। কেহ কেহ শবেবরাত উপলক্ষে আলোকসজ্জা ও পটকাবাজিসহ নানা অনৈতিক ও গর্হিত কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। কিন্তু ইহা অনভিপ্রেত ও ইসলামী আদর্শের সহিত সামঞ্জস্যপূর্ণ নহে।
শবেবরাতে মহানবী (স.) বিশেষভাবে মদীনা মনোয়ারার জান্নাতুল বাকিতে গিয়া কবর জিয়ারত করিতেন। কেননা এই রাত্রি মহান রাব্বুল আলামীনের দরবারে দোয়া কবুল হওয়ার ও নৈকট্য লাভের রাত্রিও বটে। অন্যদিকে ইমাম গাজ্জালীর মতে, শবেবরাত কিসমত ও তকদীরের রজনী। এই রাত্রে হায়াত-মওতের পাশাপাশি রিজিক, ধন-দৌলত লেখা হয় ও বান্দার আমল পেশ করা হয়। তবে এক রাত্রের ইবাদতের মাধ্যমে ভাগ্য পরিবর্তিত হইবে এমন বিশ্বাস ও ধারণা সঠিক নয়। কারণ আল্লা জাল্লা শানুহু বলেন, ‘যতক্ষণ না কোন জাতি তাহার ভাগ্যোন্নয়নে সচেষ্ট হয়, ততক্ষণ আমি তাহাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করি না’ (১৩:১১)। অর্থাত্ আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল বা ভরসা রাখিয়া কঠোর শ্রম সাধনাও আবশ্যক। মহান আল্লাহ উম্মতে মোহাম্মদীর (স.) ও সকল বনি আদমের ওপর অশেষ রহমত বর্ষণ করুন। আল্লাহুম্মামীন!