ওয়ান ইলেভেনের মতো এখনো রাজনীতিক নিপীড়ন হচ্ছে
প্রকাশ : ২৩ জুন ২০১৩, ২২:৫৭
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেছেন, রাজনীতিকদের উপর নিপীড়ন বাংলাদেশে নিয়মে পরিণত হয়েছে। ওয়ান-ইলাভেনের নায়কেরা রাজ-নীতিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনেছিল যাতে তাদের নির্বাচন এবং ক্ষমতার বাইরে রাখা যায়। এক এগারোর দস্যুরা যে উদ্দেশ্যে রাজনীতিকদের নিপীড়ন করেছিল সেই একই উদ্দেশ্যে এখনও তাদের ওপর নিপীড়ন হচ্ছে।
গতকাল রবিবার যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ পঞ্চম দিনে নিজের পক্ষে দেয়া সাফাই সাক্ষ্যে সালাহউদ্দিন কাদের এসব কথা বলেন। বিচারপতি এটিএম ফজলে কবিরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল এ সাক্ষ্য গ্রহণ করেন। সাক্ষ্যে সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, ওয়ান ইলাভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেশ ত্যাগের জন্য চাপ দেয়া হয়েছিল। শেখ হাসিনাকে চাপ দেয়া হয়েছিল তিনি যেন দেশে না ফেরেন। চাপ দেয়া হয়েছিল খালেদা জিয়াকে তার বাসা ত্যাগ করে জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে (তত্কালীন নাম) যেতে। পরে ওয়ান ইলাভেনের দস্যুদের এ দু’টি প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়েছিল। এ দুইজন জাতীয় আইকনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ১৯৭৯ সাল থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্রে আমি একজন সক্রিয় অংশগ্রহণকারী। এরপর সব নির্বাচনেই আমি অংশ নিয়েছি, যেসব নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও অংশ নিয়েছিল। আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রতিটি সংসদেই আমি প্রতিনিধিত্ব করেছিলাম। তিনি আরো বলেন, তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে ১৯৭৩ সালের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ইচ্ছায় সামরিক বাহিনী, আধা সামরিক বাহিনী এবং সহযোগী বাহিনীর সদস্যদের বিচারের জন্য এ আইন করা হয়। প্রথম যে বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়েছিল তাতে ‘ব্যক্তি’ কথাটি যুক্ত ছিল। কিন্তু পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় তা বিল থেকে বাদ দেয়া হয়। কিন্তু ২০০৯ সালে চলতি সংসদে আনা সংশোধিত আইনে ‘ব্যক্তি অথবা ব্যক্তিবর্গ’ শব্দগুলো যুক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে ১৬ কোটি মানুষকে এ আইনে বিচারের যোগ্য করা হয়েছে।
জবানবন্দির এক পর্যায়ে আপত্তি জানিয়ে প্রসিকিউটর তুরীন আফরোজ বলেন, এরই মধ্যে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ১০ সেশন জবানবন্দি দিয়েছেন। তিনি যেসব কথা বলছেন তা এ মামলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের আইনের মধ্যে এগুতে হবে। জবাবে সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, আপনারা ১০ সেশনের হিসাব করছেন। এটা আমার জীবনের প্রশ্ন। আমাকে আমার কথা বলতে দিতে হবে। ব্রিটিশ আমলে মোহাম্মদ আলী দুই মাস ২৪ দিন নিজের পক্ষে জবানবন্দি দিয়েছেন। আর স্বাধীন বাংলাদেশে আমাকে টাইম ম্যানেজমেন্ট শেখানো হচ্ছে। তিনি বলেন, শাহবাগ চত্বর ডাক দিলো আর আপনারা আইন সংশোধন করে ফেললেন? প্রসিকিউশন যেভাবে ভাবছে কাল সকালেই আমার ফাঁসি হয়ে যাবে। কিন্তু সব কিছু এত দ্রুত হবে না। তিনি ট্রাইব্যুনালকে উদ্দেশ করে বলেন, এত তাড়াহুড়ার কি আছে? গোলাম আযমের মামলায় শুনানি শেষের আড়াই মাস পরেও তো রায় হলো না।
পরে সালাহউদ্দিন কাদের বলেন, আমার পিতাকে সামপ্রদায়িক ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাকে বর্ণনা করা হয়েছে হিন্দুবিরোধী ব্যক্তি হিসেবে। কিন্তু তার অর্জনকে অস্বীকার করা হয়েছে। তিনি বলেন, কলকাতার জনপ্রিয় ছাত্র নেতা হিসেবে আমার পিতার রাজনৈতিক অনুসারীদের মধ্যে ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। নিজের আত্মজীবনীর বহু স্থানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সে কথা বলেছেন ।