চার হাজার পৌর পুলিশ নিয়োগ হচ্ছে পৌরসভায়

দেশের ৩১৯ পৌরসভায় কমবেশি চার হাজার পৌরপুলিশ নিয়োগ করতে যাচ্ছে সরকার। প্রত্যেক পৌরসভায় একজন উপ-সহকারী পুলিশ পরিদর্শকের (এএসআই) নেতৃত্বে কাজ করবে এই পুলিশ দল । নিয়মিত পুলিশ বাহিনী থেকে একজন এএসআইকে পৌরপুলিশে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হবে এবং কনস্টেবল পদে পৌরসভাগুলো সরাসরি সরকারি নিয়োগবিধি অনুসরণ করে নিয়োগ দেবে। এরা পৌর মেয়রের কর্তৃত্বাধীন থাকবেন। জাতীয় বেতনক্রম অনুযায়ী পৌরপুলিশের বেতন-ভাতা নির্ধারিত হবে। তবে পৌরসভাগুলো তাদের নিজস্ব আয় থেকে এই বেতন-ভাতা পরিশোধ করবে। গতকাল রবিবার স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় পৌরপুলিশের দায়িত্ব-কর্তব্য নির্ধারণ এবং প্রশিক্ষণ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এক নীতিনির্ধারণী সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (নগর উন্নয়ন) অশোক মাধব রায় সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় জানানো হয়, স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইনের ১১৪ ধারা অনুযায়ী পৌরপুলিশ (নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা এবং চাকরির শর্তাবলী সংক্রান্ত) বিধিমালা গত বছর প্রণয়ন করা হয়েছে। পরে পৌরপুলিশ প্রশিক্ষণ কারিকুলাম ঠিক করা, প্রশিক্ষণ স্থান, প্রশিক্ষণার্থীর সংখ্যা নির্ধারণসহ পূর্ণাঙ্গ ব্যয়ভার নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে পুলিশ এবং আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরের প্রতিবেদন চাওয়া হয়। পুলিশ এ বিষয়ে তাদের মতামত প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করে। তবে আনসার-ভিডিপির পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সহায়তা করতে সম্মতি দেয়া হয়েছে। সভা সূত্রে জানা যায়, গতকালের সভায় অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে কমপক্ষে একজন করে পৌরপুলিশ নিয়োগের কাজ সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টি প্রত্যেক পৌরমেয়রকে জানিয়ে দেয়া হবে। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রশিক্ষিত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের অগ্রাধিকার দেয়ার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া আনসার-ভিডিপির প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সফিপুরে পৌরপুলিশদের এক মাস করে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রতিটি গ্রুপে ৪০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, স্থানীয়ভাবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব ছাড়াও অপরাধ ও অপরাধীর তথ্য আদান প্রদান, পৌরকর না দেয়ার প্রেক্ষিতে মালামাল ক্রোকের কাজে সহায়তা করবে এই পৌরপুলিশ। সরাসরি নিয়োগ, পদোন্নতি ও প্রেষণে বদলির মাধ্যমে পৌরপুলিশের পদ পূরণ করা যাবে। একটি বাছাই ও পদোন্নতি কমিটি কাজটি করবে। সংশ্লিষ্ট পৌরসভার মেয়র কমিটির আহ্বায়ক হবেন। ডিসি ও এসপির প্রতিনিধি ছাড়াও পৌরসভার একজন কাউন্সিলর এবং পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব কমিটিতে থাকবেন। সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীকে সংশ্লিষ্ট পৌর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। শারীরিক পরীক্ষায় উত্তীণর্ প্রার্থীকে ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীকে ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা দিতে হবে। নিয়োগ পেতে লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ এবং মৌখিক পরীক্ষায় কমপক্ষে ৫ নম্বর পেতে হবে। পোশাক : পৌরপুলিশের পোশাক হবে নীল রংয়ের ব্যারেট বা ফিল্ড ক্যাপ, ফুলহাতা সাদা শার্ট, হাফহাতা সাদা শার্ট, কালো প্যান্ট, সাদা স্যান্টো গেঞ্জি, উলেন অথবা নাইলন মোজা, ওয়েভ বেল্ট, কালো বুট, শীতকালের জন্য উলেন জার্সি, বর্ষার জন্য রেইনকোট। ব্যাজ: সাদা ধাতব নির্মিত একটি মনোগ্রাম যার মধ্যস্থলে ছোট বৃত্তের মধ্যে একটি খুঁটিসহ বাতির প্রতীক এবং চারদিকে অপর একটি বড় বৃত্তের উপরের অংশে পৌরপুলিশ ও নিচের অংশে পৌরসভার নাম লেখা থাকবে।