বিনিয়োগ কমেছে, কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে না

দীর্ঘদিন ধরে দেশের জিডিপিতে (মোট দেশজ উত্পাদন) বেসরকারি বিনিয়োগের অবদান কম হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হচ্ছে না বলে মত প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। গতকাল রবিবার মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (এমসিসিআই) আয়োজিত বাজেট বিষয়ক মতবিনিময় সভায় তারা বলেন, নব্বইয়ের দশক থেকেই জিডিপিতে বিনিয়োগের অবদান ২৫ থেকে ২৬ শতাংশের মধ্যে আটকে আছে। ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না। কর্মসংস্থানের সুযোগও খুব বেশি বাড়ছে না। গ্যাস, বিদ্যুত্ ও অবকাঠামোগত দুর্বলতার পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাবে বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত হারে না বাড়ায় ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছার লক্ষ্য দূরবর্তী হয়ে যাচ্ছে। মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন শিল্পমন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়া, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. ওসমান ফারুক, পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউটের (পিআরআই) চেয়ারম্যান ড. জায়েদী সাত্তার, বিনিয়োগ বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. এসএ সামাদ, সাবেক অর্থ সচিব সিদ্দিকুর রহমান এবং এমসিসিআইয়ের প্রেসিডেন্ট রোকেয়া এ রহমানসহ অনেকে। নিবন্ধ উপস্থাপন করেন পিআরআইয়ের নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর এবং এমসিসিআইয়ের কার্যকরী কমিটির সদস্য আদিব এইচ খান। নিবন্ধে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, চলতি অর্থ বছরের (মার্চভিত্তিক হিসাবে) জিডিপি প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ। তবে মার্চের পর রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব, বিনিয়োগ মন্দা ও চাহিদাগত চাপ কমে যাওয়ার প্রভাব বিবেচনায় বছর শেষে প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশেরও নিচে নেমে যেতে পারে। তিনি বলেন, সরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়লেও দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ কাঙ্ক্ষিত হারে বাড়ছে না। যা অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ইতিবাচক নয়। ড. আহসান এইচ মনসুর আরো বলেন, বিশ্বের অনেক দেশ বৈদেশিক মন্দার কারণে প্রভাবিত হলেও বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় বড় অবদান রাখছে বৈদেশিক খাত। রেমিট্যান্স ও রফতানির উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধির কারণে দেশের লেনদেনের ভারসাম্যে যথেষ্ট উদ্বৃত্ত রয়েছে। তবে শ্রমিক রফতানির পরিমাণ তুলনামূলক কমে যাওয়ায় আগামীতে রেমিট্যান্স আয়ের প্রবাহ নিয়ে কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেট সম্পর্কে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, এ বাজেট বিশাল বাজেট বা নির্বাচনী বাজেট বলা যাবে না। তবে বাজেটের লক্ষ্য অনুযায়ী জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন ও রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য পূরণে বড় সংশয় রয়েছে। প্রধান অতিথি দিলীপ বড়ুয়া বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট ভারসাম্যপূর্ণ। রাজনৈতিক অস্থিরতা বন্ধ করতে পারলে এ বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন হবে না। তবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য বিনিয়োগ আরো বাড়াতে সরকারের সহায়তা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় জাতীয় ঐকমত্য জরুরি। ড. ওসমান ফারুক বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শতকরা ৮ থেকে ১০ ভাগ অর্জন করতে হবে। এর পাশাপাশি প্রবৃদ্ধির টেকসই ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। অথচ আমাদের প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের কাছাকাছি স্থবির হয়ে গেছে। এ ধরনের পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। তিনি আরো বলেন, বিনিয়োগ বাড়াতে অবকাঠামোগত সুবিধা বাড়াতে হবে এবং গ্যাস-বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ দিতে হবে। গত কয়েক বছর ধরে বিদ্যুত্ খাতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিলেও তার সুফল পাওয়া যাচ্ছে না উল্লেখ করে ওসমান ফারুক বলেন, প্রাথমিকভাবে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল প্রয়োজন ছিল। তবে সবসময় এর উপর নির্ভর করে থাকা সঠিক সিদ্ধান্ত নয়। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় জাতীয় ঐকমত্য অর্জনে সরকারের প্রচেষ্টা চালানোর দাবি জানান ড. ওসমান ফারুক