বিএনপি একাট্টা, কোন্দল আওয়ামী লীগে

সিটি নির্বাচনের পর পাল্টে গেছে বরিশালের রাজনৈতিক দৃশ্যপট। বহু ভাগে বিভক্ত কোন্দলে জর্জরিত বিএনপি এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এখন একাট্টা হয়ে শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তুলেছে। ঠিক তার উল্টো পথে হাঁটতে শুরু করেছে শাসক দল আওয়ামী লীগ। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ঐক্য যখন দলের কর্মী-সমর্থকদের চাঙ্গা করেছে ঠিক তখনই হতাশায় ভুগছেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় কর্মী-সমর্থকরা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিএনপির কোন্দল সেই সাবেক প্রেসিডেন্ট আব্দুর রহমান বিশ্বাসের আমল থেকে। তারই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ‘টম এন্ড জেরি’র ভূমিকায় নেমেছিলেন নবনির্বাচিত মেয়র জেলা বিএনপির সভাপতি আহসান হাবিব কামাল ও সাবেক মেয়র মহানগর বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান সরোয়ার এমপি। এই দুই নেতার কোন্দলে এখানকার বিএনপি বহু ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে ঢাকার পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুর পর্যন্ত হয়েছে। সহিংসতায় রক্ত ঝরেছে অসংখ্য নেতাকর্মীর। দুই নেতার মুখ দেখাদেখিও ছিল বন্ধ। কিন্তু সিটি নির্বাচনের পূর্বে অনেকটা নমনীয় হয়েই সকল বিভেদ দূর করতে আহসান হাবিব কামাল ছুটে যান এক যুগের প্রতিদ্বন্দ্বী এমপি মজিবর রহমান সরোয়ারের বাসায়। শুরুতে সরোয়ার ও তার নেতাকর্মীরা বিষয়টি সহজভাবে মেনে নিতে পারেনি। দুই নেতার বিরোধের মাঝে আবার তৃতীয়পক্ষ হিসেবে নির্বাচনের মাঠে বিএনপির বাধা হয়ে দাঁড়ান এবায়দুল হক চান ও কামরুল আহসান শাহিন। চরম অরাজকতার মাঝেই বিবদমান সকল নেতাকে নিয়ে ঢাকায় বৈঠক করে মাত্র এক সপ্তাহে সকলপক্ষকে ঐক্যবদ্ধ করে এক যুগের বিরোধ মিটিয়ে সিটি নির্বাচনে নামাতে সক্ষম হয় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি। ইস্পাত কঠিন ঐক্য নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শওকত হোসেন হিরনের বিরুদ্ধে সহজ জয় পেয়ে যান বিএনপি প্রার্থী। সেই ঐক্য নির্বাচনের পর যেন আরো মজবুত হয়ে কর্মী-সমর্থকদের আরো চাঙ্গা করে তুলেছে। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সাবেক চীফ হুইপ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ এবং সিটি মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি শওকত হোসেন হিরনের স্নায়ু যুদ্ধ চললেও তা বিএনপির মত কখনো খুব বেশি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠেনি। কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে সকলের কাছে দুই নেতা বিরোধের কথা অস্বীকার করতেন। শওকত হোসেন হিরন প্রকাশ্যে সভা-সমাবেশে হাসানাত আব্দুল্লাহকে ‘রাজনৈতিক অভিভাবক’ সম্বোধন করে সম্মান দেখাতেন। কিন্তু নির্বাচনের তিন দিন পর হিরন কর্মীসভা ডেকে তার পরাজয়ের জন্য সরাসরি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহকেই দায়ী করেন। এ নিয়ে শুরু হয় দলের মধ্যে কোন্দল। হাসানাতের সমর্থকরাও একাধিক সংবাদ সম্মেলনে শওকত হোসেন হিরনের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য তুলে ধরেন। এ নিয়ে উভয়পক্ষে সংঘাতের ঘটনাও ঘটে। সংঘর্ষ, মামলাসহ নানা বিরোধে যেন বিএনপির সেই সাবেক দিনের পথেই হাঁটতে শুরু করেছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ। দলীয় নেতাদের এই ভূমিকা দেখে আসন্ন সংসদ নির্বাচন নিয়েও তাই হতাশ হয়ে পড়েছেন কর্মী-সমর্থকরা।