নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি
যেভাবে পার হয় সময়
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০১৩, ১৯:১৮
ওরা ১২ জন। এক সঙ্গে আড্ডা দেয়। ঘুরে বেড়ায়। চায়ের কাপে ঝড় তোলে। শত কথার ফানুস উড়ায়। একের আনন্দে হাসে। আবার অন্যের শোকে শোকাহত হয়। হাসি-তামাসা মাখানো একটা দল। ভালো লাগার একটা দল। মন্দ লাগার একটা দল। এরা সবাই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। এক আকাশ স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয় নিয়ে ওরা এসছে। কথা হলো ব্যতিক্রমী এই দলটার সঙ্গে। জানা গেলো মজার কিছু তথ্য।
ইমরান নাসির। পড়ছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে। তার মতে, আড্ডা শুধু আড্ডাই নয়। একে ভালোভাবেই কাজে লাগানো যায়। আড্ডা যদি হয় কাজের তাহলে এখান থেকেও অনেক ইতিবাচক ফলাফল অর্জন করা সম্ভব।
কারমিন সুলতানা নামের এক ছাত্রী বলেন, এক সাথে অনেকে বসে গল্পের মাধ্যমে নানা অজানা তথ্যকে একে অপরের মাঝে শেয়ার করতে পারি। বিশ্ববিদ্যালয় তো শুধু পাঠ্যপুস্তকের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়। আর এখানে বই পড়েই সবকিছু জানা সম্ভব নয়। সবাই তো সবকিছু সমানভাবে জানবে তা নয়। একজনের জানাটা অন্যের মাঝে শেয়ার করার মাধ্যমে অনেক কিছু জানা যায়।
ইফফাত তপু নামের এক ছাত্র জানান, আসলে সবার সাথে আড্ডায় বসা যায় না। যাদের সাথে মনমানসিকতার মিল আছে তাদের সাথে আড্ডা দিতে ক্লান্তি লাগে না। মন খুলে নিজের মনের কথা শেয়ার করা যায়। একেবারে আপন মনে হয়। মনে হয় একটি পরিবারের সাথে আছি।
তবে আড্ডা নিয়ে মুরাদ শানু নামের এক ছাত্র বলেন, আমি আড্ডাকে বিভিন্নভাবে কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। আড্ডা দিতে অবশ্যই ভালো লাগে। তবে সেটা যদি কাজের হয় তাহলে আরও ভালো হয়। আমি চাই আড্ডা দেয়ার সময়টাও যেন নষ্ট হয়ে না যায়। তাই আড্ডাকেও কাজ হিসেবে দেখার চেষ্টা করি।
আরেক ছাত্র তমাল হাসান জানান, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মতো তো আমাদের হলের সুব্যবস্থা নাই। তাই আমরা যতক্ষণ সময় পাই আড্ডা দিয়েই কাটিয়ে দেই। বিশ্ববিদ্যালয় আসব আর আড্ডায় বসব না তাতো মেনে নেয়া যায় না।
তমালের সাথে সুর মিলিয়ে আর এক ছাত্র মামুন তাহের বলেন, ক্যাম্পাসে আসলেই আমার মন ভালো হয়। অন্যরকম টান অনুভব করি ক্যাম্পাসের প্রতি। আমরা ক্লাসকেও উপভোগ করি। মনে হয় পুরো ক্যাম্পাসে আপনজন মিশে আছে।
জাহিদ সাজিদ নামের এক ছাত্র বলেন, আড্ডা ছাড়া ক্যাম্পাস জীবন অচল। আড্ডার মাধ্যমে জানাশুনার পরিধি বাড়ে। আড্ডা মানে দুঃখ-কষ্ট ভাগাভাগি করে নেয়া। ক্যাম্পাসে আড্ডা মানে প্রাণ খুলে কথা বলা। আড্ডা মানে হাসিমুখ। আড্ডা মানে বন্ধুদের সাথে মিষ্টি মিষ্টি ঝগড়া। পরক্ষণেই আবার একে অপরের সাথে মিশে যাওয়া।
রিক্তা নামের এক ছাত্রী বলেন, ক্যাম্পাসে শুধু কাছের বন্ধুরা মিলেই আড্ডা দেই না। কখনো কখনো বড়ভাই, বড়বোন, ছোট ভাই, ছোট বোনদের নিয়ে আড্ডা দেই। এছাড়া মাঝেসাজে শিক্ষকরা এসে যোগ দেন আমাদের আড্ডায়। তখন আড্ডা যেন হয়ে যায় ক্লাসরুমের পাঠ।
কথা হলো এখানকার ছাত্র মনির হাসানের সঙ্গে। তিনি বলেন, আড্ডার মাধ্যমেই নতুন অনেক কিছু জানতে পারি। আড্ডা আমার কাছে নতুন নতুন আইডিয়ার মাধ্যম। আড্ডা ছাড়া আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের একটি দিনও কল্পনা করতে পারি না।
নিয়মিত ক্লাস, ক্লাস টেস্ট, অ্যাসাইনমেন্ট মাঝেও অবিরাম আড্ডা আর হাজারো শিক্ষার্থীর পদচারণায় মুখরিত থাকে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি। তবে অনেক শিক্ষার্থীই ক্যাম্পাসকে পরিবারের মতো আপন করে নিয়েছে।